ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর আরও ‘নিখুঁত’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী করতে নতুন শিক্ষাকাঠামোর উদ্যোগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণে নতুন উদ্যোগ, ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে মধ্যবিত্তদের পরমাণু অস্ত্র কখনোই ছাড়বে না উত্তর কোরিয়া, কিমের বোনের ঘোষণা গ্রামে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ চালু ইউনিয়ন লেভেলে এখন সাংবাদিক কার্ড পাওয়া যায়: জয়নুল আবেদীন ফারুক পুনর্বিন্যাসের জন্য ২ হাজার ৪০০ প্রকল্প পর্যালোচনা করছে সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

উন্নয়নের নামে মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে: সুলতানা কামাল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুন্দরবনের পাশে ও পশুর নদের তীরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। শিল্প প্রকল্পের মালিকেরা পশুর নদের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো ভরাট করে ফেলছেন। এতে জোয়ারের পানি বাধা পাচ্ছে। এতে পশুর নদের দুই পাশে অস্বাভাবিক ভাঙন দেখা দিচ্ছে। নদের দুই পাশে ২০ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। বেশ কয়েকটি বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আজ শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও পশুর রিভার ওয়াটার কিপার নামে এক সংগঠনের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, ‘সুন্দরবনের পাশে উন্নয়নের নামে মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে। এই নিঃস্ব মানুষেরাই শহরে আসছে। বস্তিতে উঠছে। আবার বস্তি থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া দেশে এত বিপন্নতা আমরা চাইনি।’

জাতীয় কমিটির গবেষক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সরকারদলীয় গুটিকয়েক ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর স্বার্থে সুন্দরবনের পাশে এত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কারখানা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে জাতীয় সম্পদকে এর মাধ্যমে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হলো।

জাতীয় কমিটির আরেক সদস্য শরীফ জামিল বলেন, পরিবেশবিষয়ক জাতীয় কমিটি দেশের পরিবেশ রক্ষার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। অথচ তারাই সুন্দরবনের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টিকারী ৩২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পশুর নদের তীরে কারখানা করার অনুমোদন দিয়েছে। এটা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। কারণ, সরকার ইউনেসকোর কাছে অঙ্গীকার করেছে, তারা ২০১৮ সালের মধ্যে সুন্দরবন ও তার আশপাশের এলাকার ওপর কৌশলগত পরিবেশ নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দেবে। তার আগে সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা করবে না এবং পশুর নদ খননের আগে পরিবেশগত প্রাক-সমীক্ষা করবে। এগুলো ছাড়াই তারা এখানে শিল্প-কারখানা করার অনুমোদন দিচ্ছে। এটা সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে অস্বাভাবিক ধুলার মেঘ

উন্নয়নের নামে মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে: সুলতানা কামাল

আপডেট সময় ০১:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুন্দরবনের পাশে ও পশুর নদের তীরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। শিল্প প্রকল্পের মালিকেরা পশুর নদের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো ভরাট করে ফেলছেন। এতে জোয়ারের পানি বাধা পাচ্ছে। এতে পশুর নদের দুই পাশে অস্বাভাবিক ভাঙন দেখা দিচ্ছে। নদের দুই পাশে ২০ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। বেশ কয়েকটি বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আজ শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও পশুর রিভার ওয়াটার কিপার নামে এক সংগঠনের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, ‘সুন্দরবনের পাশে উন্নয়নের নামে মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে। এই নিঃস্ব মানুষেরাই শহরে আসছে। বস্তিতে উঠছে। আবার বস্তি থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া দেশে এত বিপন্নতা আমরা চাইনি।’

জাতীয় কমিটির গবেষক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সরকারদলীয় গুটিকয়েক ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর স্বার্থে সুন্দরবনের পাশে এত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কারখানা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে জাতীয় সম্পদকে এর মাধ্যমে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হলো।

জাতীয় কমিটির আরেক সদস্য শরীফ জামিল বলেন, পরিবেশবিষয়ক জাতীয় কমিটি দেশের পরিবেশ রক্ষার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। অথচ তারাই সুন্দরবনের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টিকারী ৩২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পশুর নদের তীরে কারখানা করার অনুমোদন দিয়েছে। এটা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। কারণ, সরকার ইউনেসকোর কাছে অঙ্গীকার করেছে, তারা ২০১৮ সালের মধ্যে সুন্দরবন ও তার আশপাশের এলাকার ওপর কৌশলগত পরিবেশ নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দেবে। তার আগে সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা করবে না এবং পশুর নদ খননের আগে পরিবেশগত প্রাক-সমীক্ষা করবে। এগুলো ছাড়াই তারা এখানে শিল্প-কারখানা করার অনুমোদন দিচ্ছে। এটা সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।