ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

উন্নয়নের নামে মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে: সুলতানা কামাল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুন্দরবনের পাশে ও পশুর নদের তীরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। শিল্প প্রকল্পের মালিকেরা পশুর নদের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো ভরাট করে ফেলছেন। এতে জোয়ারের পানি বাধা পাচ্ছে। এতে পশুর নদের দুই পাশে অস্বাভাবিক ভাঙন দেখা দিচ্ছে। নদের দুই পাশে ২০ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। বেশ কয়েকটি বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আজ শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও পশুর রিভার ওয়াটার কিপার নামে এক সংগঠনের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, ‘সুন্দরবনের পাশে উন্নয়নের নামে মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে। এই নিঃস্ব মানুষেরাই শহরে আসছে। বস্তিতে উঠছে। আবার বস্তি থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া দেশে এত বিপন্নতা আমরা চাইনি।’

জাতীয় কমিটির গবেষক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সরকারদলীয় গুটিকয়েক ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর স্বার্থে সুন্দরবনের পাশে এত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কারখানা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে জাতীয় সম্পদকে এর মাধ্যমে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হলো।

জাতীয় কমিটির আরেক সদস্য শরীফ জামিল বলেন, পরিবেশবিষয়ক জাতীয় কমিটি দেশের পরিবেশ রক্ষার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। অথচ তারাই সুন্দরবনের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টিকারী ৩২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পশুর নদের তীরে কারখানা করার অনুমোদন দিয়েছে। এটা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। কারণ, সরকার ইউনেসকোর কাছে অঙ্গীকার করেছে, তারা ২০১৮ সালের মধ্যে সুন্দরবন ও তার আশপাশের এলাকার ওপর কৌশলগত পরিবেশ নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দেবে। তার আগে সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা করবে না এবং পশুর নদ খননের আগে পরিবেশগত প্রাক-সমীক্ষা করবে। এগুলো ছাড়াই তারা এখানে শিল্প-কারখানা করার অনুমোদন দিচ্ছে। এটা সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

উন্নয়নের নামে মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে: সুলতানা কামাল

আপডেট সময় ০১:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুন্দরবনের পাশে ও পশুর নদের তীরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। শিল্প প্রকল্পের মালিকেরা পশুর নদের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো ভরাট করে ফেলছেন। এতে জোয়ারের পানি বাধা পাচ্ছে। এতে পশুর নদের দুই পাশে অস্বাভাবিক ভাঙন দেখা দিচ্ছে। নদের দুই পাশে ২০ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। বেশ কয়েকটি বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আজ শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও পশুর রিভার ওয়াটার কিপার নামে এক সংগঠনের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, ‘সুন্দরবনের পাশে উন্নয়নের নামে মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে। এই নিঃস্ব মানুষেরাই শহরে আসছে। বস্তিতে উঠছে। আবার বস্তি থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া দেশে এত বিপন্নতা আমরা চাইনি।’

জাতীয় কমিটির গবেষক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সরকারদলীয় গুটিকয়েক ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর স্বার্থে সুন্দরবনের পাশে এত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কারখানা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে জাতীয় সম্পদকে এর মাধ্যমে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হলো।

জাতীয় কমিটির আরেক সদস্য শরীফ জামিল বলেন, পরিবেশবিষয়ক জাতীয় কমিটি দেশের পরিবেশ রক্ষার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। অথচ তারাই সুন্দরবনের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টিকারী ৩২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পশুর নদের তীরে কারখানা করার অনুমোদন দিয়েছে। এটা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। কারণ, সরকার ইউনেসকোর কাছে অঙ্গীকার করেছে, তারা ২০১৮ সালের মধ্যে সুন্দরবন ও তার আশপাশের এলাকার ওপর কৌশলগত পরিবেশ নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দেবে। তার আগে সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা করবে না এবং পশুর নদ খননের আগে পরিবেশগত প্রাক-সমীক্ষা করবে। এগুলো ছাড়াই তারা এখানে শিল্প-কারখানা করার অনুমোদন দিচ্ছে। এটা সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।