ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক মব নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে: সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তারেক রহমান: দুলু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’

নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা না করার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নির্বাচনকালে ‘ছোট মন্ত্রিসভা’ গঠন হবে এমনটা এতদিন শোনা গেলেও তা থেকে সরে এসেছে সরকার। নির্বাচনকালেও বর্তমান মন্ত্রিসভা চলমান থাকবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিরোধী দলের চাহিদা থাকলে এ ব্যাপারে ভাববেন বলেও জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

সোমবার বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। সৌদি আরব সফর সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট করব, সে সুযোগ খুঁজে পাচ্ছি না। বড় থাকলে অসুবিধা আছে?’

এ সময় নাইমুল ইসলাম খান বলেন, আইনে তো নাই। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনেও নাই, কোথাও নাই। আমি বলেছিলাম ২০১৪ সালের ইলেকশনের আগে আমি যেহেতু বলেছিলাম, সব দল এক হয়ে। তখন খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন, তাকেও আমি আহ্বান করেছিলাম। তারা নির্বাচনে আসতে চাচ্ছিল না, তাদেরকে নির্বাচনে আনার জন্য বলেছিলাম, আসুন সকলে মিলে সরকার গঠন করি, তাহলে কারও কোনো চিন্তার কিছু নাই। যেকোনো মিনিস্ট্রি চাইলে আমি দিতে রাজি ছিলাম। তাদেরকে নিয়ে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা এলো না। পরে অন্য বিরোধী দলে যারা তাদেরকে নিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন সেই মন্ত্রিসভাটা ছোট আকারে করেছি এবং ইলেকশনটা আমরা করি।’

‘এবারের বিষয়টা হচ্ছে, আমরা মেজরিটি পাওয়া সত্ত্বেও আমি আমাদের যারা প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পার্লামেন্টে আছে, সব দল থেকে নিয়েই একটা মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। সেই মন্ত্রিসভা নিয়েই কিন্তু চলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতার সাথেও কথা বলেছি এ ব্যাপারে। তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তাকে বলেছি, আপনারা যেভাবে চান, আমরা করতে পারব।

যেহেতু সব দলের প্রতিনিধি আছে, এখন জানি না এটার খুব প্রয়োজন আছে কি না।’

‘আর কাটছাট করলে আমাদের তো অনেকগুলো প্রজেক্ট আছে, সত্যি কথা বলতে কী এতগুলো প্রজেক্ট ইতিমধ্যে আমরা পাস করেছি, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যদি এখন কয়েকটা মন্ত্রণালয় একজনের হাতে দিই তাহলে সেই কাজগুলো করতে পারবে না।’

‘কিন্তু এই দুই তিন মাসের মধ্যে অনেকগুলো কাজ আমাদেরকে করতে হবে। এই কাজগুলো করতে গেলে পরে, জানি না কাউকে সরালে কাজগুলো ব্যাহত হবে কি না, এই সমস্যাটা রয়ে গেছে। কারণ আমি কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে চাই। সবাই যার যার মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো করছে। আপনারা দেখছেন কীভাবে পরিশ্রম করছে।

আমরা একদিনে ১৭, ১৮, ১৯টা প্রজেক্ট পাস করে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যতটুকু সময় পাচ্ছি, দেশের ডেভেলপমেন্ট করে যাচ্ছি। এখন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো রকম বাধা হবে কি না, সেইটা হচ্ছে প্রশ্ন। সেই চিন্তাটাও রয়ে গেছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনাও করেছি। আর অন্যান্য দেশে যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, সেখানেও আমি আলাপ করে দেখেছি, যেমন অস্ট্রেলিয়াতে আছে, নিউজিল্যান্ডে আছে, ব্রিটেনে আছে বা ভারতে আছে, কেউ কিন্তু কোনো পরিবর্তন করে না। আমি জিজ্ঞেস করেছি। বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখন গিয়েছি সবার কাছ থেকে তথ্য নেয়ার চেষ্টা করি। সবাই বলেছে, এ রকম কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমরা যেভাবে থাকি, ইলেকশন করি সেভাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। যদি ডিমান্ড করে অপজিশন তাহলে করব, আর না করলে কিছু করার নাই।’

নির্বাচনকালীন সরকারে সুশীল সমাজের কেউ অন্তর্ভুক্ত হবে কি না এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুশীলরা সুশীলই থাক। আমার মন্ত্রী হলে তো শেষে সুশীল থাকবে না। তখন সুশীল নামটা চলে যাবে। তখন তো তাদের ক্ষতি হয়ে যাবে, ক্ষতি হয়ে যাবে না?’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক

নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা না করার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৫:১৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নির্বাচনকালে ‘ছোট মন্ত্রিসভা’ গঠন হবে এমনটা এতদিন শোনা গেলেও তা থেকে সরে এসেছে সরকার। নির্বাচনকালেও বর্তমান মন্ত্রিসভা চলমান থাকবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিরোধী দলের চাহিদা থাকলে এ ব্যাপারে ভাববেন বলেও জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

সোমবার বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। সৌদি আরব সফর সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট করব, সে সুযোগ খুঁজে পাচ্ছি না। বড় থাকলে অসুবিধা আছে?’

এ সময় নাইমুল ইসলাম খান বলেন, আইনে তো নাই। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনেও নাই, কোথাও নাই। আমি বলেছিলাম ২০১৪ সালের ইলেকশনের আগে আমি যেহেতু বলেছিলাম, সব দল এক হয়ে। তখন খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন, তাকেও আমি আহ্বান করেছিলাম। তারা নির্বাচনে আসতে চাচ্ছিল না, তাদেরকে নির্বাচনে আনার জন্য বলেছিলাম, আসুন সকলে মিলে সরকার গঠন করি, তাহলে কারও কোনো চিন্তার কিছু নাই। যেকোনো মিনিস্ট্রি চাইলে আমি দিতে রাজি ছিলাম। তাদেরকে নিয়ে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা এলো না। পরে অন্য বিরোধী দলে যারা তাদেরকে নিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন সেই মন্ত্রিসভাটা ছোট আকারে করেছি এবং ইলেকশনটা আমরা করি।’

‘এবারের বিষয়টা হচ্ছে, আমরা মেজরিটি পাওয়া সত্ত্বেও আমি আমাদের যারা প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পার্লামেন্টে আছে, সব দল থেকে নিয়েই একটা মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। সেই মন্ত্রিসভা নিয়েই কিন্তু চলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতার সাথেও কথা বলেছি এ ব্যাপারে। তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তাকে বলেছি, আপনারা যেভাবে চান, আমরা করতে পারব।

যেহেতু সব দলের প্রতিনিধি আছে, এখন জানি না এটার খুব প্রয়োজন আছে কি না।’

‘আর কাটছাট করলে আমাদের তো অনেকগুলো প্রজেক্ট আছে, সত্যি কথা বলতে কী এতগুলো প্রজেক্ট ইতিমধ্যে আমরা পাস করেছি, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যদি এখন কয়েকটা মন্ত্রণালয় একজনের হাতে দিই তাহলে সেই কাজগুলো করতে পারবে না।’

‘কিন্তু এই দুই তিন মাসের মধ্যে অনেকগুলো কাজ আমাদেরকে করতে হবে। এই কাজগুলো করতে গেলে পরে, জানি না কাউকে সরালে কাজগুলো ব্যাহত হবে কি না, এই সমস্যাটা রয়ে গেছে। কারণ আমি কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে চাই। সবাই যার যার মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো করছে। আপনারা দেখছেন কীভাবে পরিশ্রম করছে।

আমরা একদিনে ১৭, ১৮, ১৯টা প্রজেক্ট পাস করে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যতটুকু সময় পাচ্ছি, দেশের ডেভেলপমেন্ট করে যাচ্ছি। এখন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো রকম বাধা হবে কি না, সেইটা হচ্ছে প্রশ্ন। সেই চিন্তাটাও রয়ে গেছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনাও করেছি। আর অন্যান্য দেশে যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, সেখানেও আমি আলাপ করে দেখেছি, যেমন অস্ট্রেলিয়াতে আছে, নিউজিল্যান্ডে আছে, ব্রিটেনে আছে বা ভারতে আছে, কেউ কিন্তু কোনো পরিবর্তন করে না। আমি জিজ্ঞেস করেছি। বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখন গিয়েছি সবার কাছ থেকে তথ্য নেয়ার চেষ্টা করি। সবাই বলেছে, এ রকম কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমরা যেভাবে থাকি, ইলেকশন করি সেভাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। যদি ডিমান্ড করে অপজিশন তাহলে করব, আর না করলে কিছু করার নাই।’

নির্বাচনকালীন সরকারে সুশীল সমাজের কেউ অন্তর্ভুক্ত হবে কি না এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুশীলরা সুশীলই থাক। আমার মন্ত্রী হলে তো শেষে সুশীল থাকবে না। তখন সুশীল নামটা চলে যাবে। তখন তো তাদের ক্ষতি হয়ে যাবে, ক্ষতি হয়ে যাবে না?’