ঢাকা ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা জোট নয়, এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে ইসলামী আন্দোলন ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ

বাংলাদেশকে কী দিয়ে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু?

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

ব্যান্ড সঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

তার স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানমণ্ডির বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আইয়ুব বাচ্চু নিজেকে পরিচয় দিতে ভালোবাসতেন প্রথমত একজন গিটারিস্ট হিসেবে। তারপর গায়ক। তিনি নিজেই গান লিখতেন, সুর করতেন।

বাংলাদেশের সঙ্গীতের জগতে তিনি কতটা প্রভাব রাখতে পেরেছেন তার কাজের মাধ্যমে?

এ বিষয়ে শিল্পী এবং সঙ্গীত পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, আইয়ুব বাচ্চু তার নিজের স্থান থেকে বাংলাদেশের সঙ্গীত জগৎকে শতভাগ দিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, প্রথমত তিনি একজন গিটারিস্ট, টিউনার এবং সিঙ্গার। এসব বিষয়গুলো যদি ধরি তাহলে ১০০% তিনি দিয়ে গেছেন। বেঁচে থাকলে ওভার ১০০% হতো।

ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, তরুণরা যে তাকে ফলো করে, সেই ফলো করার জিনিস তিনি তরুণদেরকে দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক লীনা তাপসী বলেন, আইয়ুব বাচ্চু তার প্রচেষ্টা দিয়ে বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিক জগতের পথিকৃৎ হয়ে থাকবেন।

তিনি বলেন, তার ধ্যানজ্ঞান, চিন্তা এবং কঠোর সাধনা তাকে এই জায়গায় উন্নীত করেছে। এটা একদিনের বিষয়টা না। একটা কথায় বলতে চাই, তিনি যে ধারাটা তৈরি করে গেছেন সেটা অপূরণীয় থেকে যাবে।

ধ্যাপক লীনা তাপসী বলেন, মানুষ তার মতো করে গান গাইবে, তার মতো করে গিটার বাজাবে এখন।

মিউজিক কোম্পানি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক এস. কে. শাহেদ আলী বলেন, তার বেশির ভাগ অ্যালবাম ব্যবসার দিক থেকে সফল অ্যালবাম। ফলে আইয়ুব বাচ্চু নিজে এবং ইন্ডাস্ট্রি উভয়েই সুবিধাভোগী হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের সময় বা কোনো অনুষ্ঠানে কাস্টমার অপেক্ষা করে থাকত- কখন বাচ্চুর অ্যালবাম রিলিজ হবে। প্রচুর ফোন আসত শ্রোতাদের কাছ থেকে। কোনো এলাকায় অ্যালবাম দিতে দেরি হলে তারা অনেক রাগ, অভিমান করত।

শাহেদ আলী বলেন, যখন উনার অ্যালবাম রিলিজ হতো, তখন একটা আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি হতো।

ব্যান্ডের গান ছাড়াও তিনি লোকসঙ্গীত, আধুনিক গান এবং বাংলা সিনেমার গান গেয়েছেন।

সঙ্গীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী বলছিলেন যে, আইয়ুব বাচ্চু শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, বরং নানা ধরনের গান গাওয়ার কারণে সব শ্রেণির শ্রোতাদের মন জয় করতে পেরেছিলেন।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গানের জগতে আসেন ব্যান্ড ফিলিংসের মাধ্যমে। এর আগে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো অনুষ্ঠান করতেন। কিন্তু ১৯৭৮ সাল থেকে ফিলিংসের সঙ্গে তিন বছর তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেলে ইংরেজি গান করেছেন।

সত্তরের দশক থেকে বাংলাদেশে শ্রোতাদের কাছে ইংরেজি গান, হার্ড-রক, ব্লুজ, অল্টারনেটিভ রক, ব্যান্ড মিউজিক- এসব জগতের পরিচয় হতে থাকে তার গানের মধ্য দিয়ে।

১৯৮০ সালের দিকে তিনি সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে গান করতেন। এই দলের সঙ্গে তিনি ১০ বছর যুক্ত ছিলেন।

তারপর ১৯৯১ সালে তিনি গঠন করেন এলআরবি। তিনি একক অ্যালবাম করেছেন ১৬টি। আর ব্যান্ড অ্যালবাম করছেন ১২টি। এর মধ্যে ‘কষ্ট’ এবং ‘ফেরারি মন’ – এই দুটি অ্যালবামের গান বাংলাদেশের বড় শহর ছাড়িয়ে ছোট ছোট শহরেও আইয়ুব বাচ্চুর নামকে পরিচিত করে তোলে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

বাংলাদেশকে কী দিয়ে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু?

আপডেট সময় ০৫:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

ব্যান্ড সঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

তার স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানমণ্ডির বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আইয়ুব বাচ্চু নিজেকে পরিচয় দিতে ভালোবাসতেন প্রথমত একজন গিটারিস্ট হিসেবে। তারপর গায়ক। তিনি নিজেই গান লিখতেন, সুর করতেন।

বাংলাদেশের সঙ্গীতের জগতে তিনি কতটা প্রভাব রাখতে পেরেছেন তার কাজের মাধ্যমে?

এ বিষয়ে শিল্পী এবং সঙ্গীত পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, আইয়ুব বাচ্চু তার নিজের স্থান থেকে বাংলাদেশের সঙ্গীত জগৎকে শতভাগ দিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, প্রথমত তিনি একজন গিটারিস্ট, টিউনার এবং সিঙ্গার। এসব বিষয়গুলো যদি ধরি তাহলে ১০০% তিনি দিয়ে গেছেন। বেঁচে থাকলে ওভার ১০০% হতো।

ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, তরুণরা যে তাকে ফলো করে, সেই ফলো করার জিনিস তিনি তরুণদেরকে দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক লীনা তাপসী বলেন, আইয়ুব বাচ্চু তার প্রচেষ্টা দিয়ে বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিক জগতের পথিকৃৎ হয়ে থাকবেন।

তিনি বলেন, তার ধ্যানজ্ঞান, চিন্তা এবং কঠোর সাধনা তাকে এই জায়গায় উন্নীত করেছে। এটা একদিনের বিষয়টা না। একটা কথায় বলতে চাই, তিনি যে ধারাটা তৈরি করে গেছেন সেটা অপূরণীয় থেকে যাবে।

ধ্যাপক লীনা তাপসী বলেন, মানুষ তার মতো করে গান গাইবে, তার মতো করে গিটার বাজাবে এখন।

মিউজিক কোম্পানি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক এস. কে. শাহেদ আলী বলেন, তার বেশির ভাগ অ্যালবাম ব্যবসার দিক থেকে সফল অ্যালবাম। ফলে আইয়ুব বাচ্চু নিজে এবং ইন্ডাস্ট্রি উভয়েই সুবিধাভোগী হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের সময় বা কোনো অনুষ্ঠানে কাস্টমার অপেক্ষা করে থাকত- কখন বাচ্চুর অ্যালবাম রিলিজ হবে। প্রচুর ফোন আসত শ্রোতাদের কাছ থেকে। কোনো এলাকায় অ্যালবাম দিতে দেরি হলে তারা অনেক রাগ, অভিমান করত।

শাহেদ আলী বলেন, যখন উনার অ্যালবাম রিলিজ হতো, তখন একটা আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি হতো।

ব্যান্ডের গান ছাড়াও তিনি লোকসঙ্গীত, আধুনিক গান এবং বাংলা সিনেমার গান গেয়েছেন।

সঙ্গীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী বলছিলেন যে, আইয়ুব বাচ্চু শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, বরং নানা ধরনের গান গাওয়ার কারণে সব শ্রেণির শ্রোতাদের মন জয় করতে পেরেছিলেন।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গানের জগতে আসেন ব্যান্ড ফিলিংসের মাধ্যমে। এর আগে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো অনুষ্ঠান করতেন। কিন্তু ১৯৭৮ সাল থেকে ফিলিংসের সঙ্গে তিন বছর তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেলে ইংরেজি গান করেছেন।

সত্তরের দশক থেকে বাংলাদেশে শ্রোতাদের কাছে ইংরেজি গান, হার্ড-রক, ব্লুজ, অল্টারনেটিভ রক, ব্যান্ড মিউজিক- এসব জগতের পরিচয় হতে থাকে তার গানের মধ্য দিয়ে।

১৯৮০ সালের দিকে তিনি সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে গান করতেন। এই দলের সঙ্গে তিনি ১০ বছর যুক্ত ছিলেন।

তারপর ১৯৯১ সালে তিনি গঠন করেন এলআরবি। তিনি একক অ্যালবাম করেছেন ১৬টি। আর ব্যান্ড অ্যালবাম করছেন ১২টি। এর মধ্যে ‘কষ্ট’ এবং ‘ফেরারি মন’ – এই দুটি অ্যালবামের গান বাংলাদেশের বড় শহর ছাড়িয়ে ছোট ছোট শহরেও আইয়ুব বাচ্চুর নামকে পরিচিত করে তোলে।