ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ‘ওবামা আমলের চেয়ে অনেক ভালো হবে’: ট্রাম্প মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হেফাজত আমিরের দোয়া নিলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অচিরেই সুখবর আসবে: প্রধানমন্ত্রী ‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ

পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে রিয়াদ নতুন করে ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় যোগ দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা হবে, যা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট মেটাতে সাহায্য করবে।

এর আগে সৌদি আরব ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কাছে রাখা তাদের ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি আমানত ফিরিয়ে না নিয়ে সেটির মেয়াদ বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, এই নতুন সহায়তা মিলিয়ে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে সৌদি আরবের মোট জমার পরিমাণ দাঁড়ালো ৮ বিলিয়ন ডলারে।

বর্তমানে পাকিস্তান বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে দেশটির সামনে। এই কঠিন সময়ে সৌদি আরবের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য একটি ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকার পরিকল্পিতভাবে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশটি সফলভাবে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড পরিশোধ করেছে। এছাড়া আইএমএফ-এর ঋণ কর্মসূচির আওতায় পরবর্তী কিস্তির ১.২ বিলিয়ন ডলার দ্রুতই পাওয়ার আশা করছে পাকিস্তান।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের মধ্যেও পাকিস্তানের করাচি বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যকার এই গভীর সম্পর্ক কেবল অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কৌশলগত এবং সামরিক দিক থেকেও অত্যন্ত শক্তিশালী। সম্প্রতি ইরানের হামলার পর সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় পাকিস্তান যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সহায়তা করেছিল।

এই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবেই সৌদি আরব আবারও সংকটকালে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সহায়তার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

আপডেট সময় ০৫:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে রিয়াদ নতুন করে ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় যোগ দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা হবে, যা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট মেটাতে সাহায্য করবে।

এর আগে সৌদি আরব ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কাছে রাখা তাদের ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি আমানত ফিরিয়ে না নিয়ে সেটির মেয়াদ বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, এই নতুন সহায়তা মিলিয়ে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে সৌদি আরবের মোট জমার পরিমাণ দাঁড়ালো ৮ বিলিয়ন ডলারে।

বর্তমানে পাকিস্তান বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে দেশটির সামনে। এই কঠিন সময়ে সৌদি আরবের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য একটি ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকার পরিকল্পিতভাবে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশটি সফলভাবে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড পরিশোধ করেছে। এছাড়া আইএমএফ-এর ঋণ কর্মসূচির আওতায় পরবর্তী কিস্তির ১.২ বিলিয়ন ডলার দ্রুতই পাওয়ার আশা করছে পাকিস্তান।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের মধ্যেও পাকিস্তানের করাচি বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যকার এই গভীর সম্পর্ক কেবল অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কৌশলগত এবং সামরিক দিক থেকেও অত্যন্ত শক্তিশালী। সম্প্রতি ইরানের হামলার পর সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় পাকিস্তান যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সহায়তা করেছিল।

এই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবেই সৌদি আরব আবারও সংকটকালে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সহায়তার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।