ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দিনমজুর পিতা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যশোরের মণিরামপুরে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দিনমজুর পিতা রহমান দফাদার৷ স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় তার মেয়ে শিল্পী খাতুনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ৷ স্বামী গোলাম রসুল শিল্পী খাতুনকে মারধরে করে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিহত শিল্পীর বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে গোলাম রসুল এলাকায় একে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পেয়ে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ নিয়ে জামাতা গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেনি৷ ফলে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে শিল্পীর পিতা প্রশাসনসহ এলাকার প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

জানাযায়, উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের পাড়দীয়া গ্রামের দিনমজুর মিজানুর রহমান দফাদারের মেয়ে শিল্পী খাতুনের ২০০৯ সালে চালুয়াহাটি ইউনিয়নের গোপিকান্তপুর গ্রামের মোজাম আলী গাজীর ছেলে গোলাম রসুলের বিয়ে হয়। তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। পরে গোলাম রসুল পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন৷

শিল্পীর পিতা মিজানুর রহমান জানান, পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানির পর বাঁধা হয়ে দাড়ায় শিল্পী৷ এজন্য গোলাম রসুল প্রায়ই শিল্পীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইউনুচ আলী জানান, এ ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে বেশ কয়েকবার শালিস করা হয়৷ গোলাম রসুল প্রতিবারই শালিসসভায় অঙ্গীকার করে স্ত্রীকে আর নির্যাতন না করার জন্য৷ কিন্তু সেই অঙ্গীকার গোলাম রসুল রাখেনি৷ এরই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুর বেলা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাধে। এসময় গোলাম রসুল শিল্পীকে মারধর করে৷ এতে অচেতন হয়ে পড়েন শিল্পী৷ এক পর্যায়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর শিল্পীর লাশ ঘরে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে। একে এলাকায় আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।

এ ঘটনায় নিহত শিল্পীর পিতা বাদী হয়ে গোলাম রসুল ও তার পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলার জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করেন৷ কিন্তু পুলিশ মামলা রেকর্ড না করে অপমৃত্যু মামলা উল্লেখ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল জলিল জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দিনমজুর পিতা

আপডেট সময় ০১:৫৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যশোরের মণিরামপুরে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দিনমজুর পিতা রহমান দফাদার৷ স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় তার মেয়ে শিল্পী খাতুনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ৷ স্বামী গোলাম রসুল শিল্পী খাতুনকে মারধরে করে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিহত শিল্পীর বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে গোলাম রসুল এলাকায় একে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পেয়ে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ নিয়ে জামাতা গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেনি৷ ফলে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে শিল্পীর পিতা প্রশাসনসহ এলাকার প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

জানাযায়, উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের পাড়দীয়া গ্রামের দিনমজুর মিজানুর রহমান দফাদারের মেয়ে শিল্পী খাতুনের ২০০৯ সালে চালুয়াহাটি ইউনিয়নের গোপিকান্তপুর গ্রামের মোজাম আলী গাজীর ছেলে গোলাম রসুলের বিয়ে হয়। তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। পরে গোলাম রসুল পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন৷

শিল্পীর পিতা মিজানুর রহমান জানান, পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানির পর বাঁধা হয়ে দাড়ায় শিল্পী৷ এজন্য গোলাম রসুল প্রায়ই শিল্পীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইউনুচ আলী জানান, এ ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে বেশ কয়েকবার শালিস করা হয়৷ গোলাম রসুল প্রতিবারই শালিসসভায় অঙ্গীকার করে স্ত্রীকে আর নির্যাতন না করার জন্য৷ কিন্তু সেই অঙ্গীকার গোলাম রসুল রাখেনি৷ এরই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুর বেলা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাধে। এসময় গোলাম রসুল শিল্পীকে মারধর করে৷ এতে অচেতন হয়ে পড়েন শিল্পী৷ এক পর্যায়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর শিল্পীর লাশ ঘরে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে। একে এলাকায় আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।

এ ঘটনায় নিহত শিল্পীর পিতা বাদী হয়ে গোলাম রসুল ও তার পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলার জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করেন৷ কিন্তু পুলিশ মামলা রেকর্ড না করে অপমৃত্যু মামলা উল্লেখ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল জলিল জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে৷