অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি উপলক্ষে এক ডজন ইস্যু সামনে এনেছে আওয়ামী লীগ। অক্টোবরের মধ্যে ইস্যুভিত্তিক কাজগুলো শেষ করবে ক্ষমতাসীন দলটি। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে দলীয় হাইকামান্ডের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্তের কথাই জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, জোট-মহাজোট গঠন, বিভিন্ন সংস্থার প্রার্থী জরিপ পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি, সরকারের উন্নয়ন অর্জন প্রচার, জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন, প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামত, পোলিং এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন ও প্রশিক্ষণ, সামাজিক যোগাযোগ ক্ষেত্রে তৎপরতা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা, সাবেক আমলাদের নিয়ে নির্বাচনী টিম এবং প্রার্থী যেই হোক নৌকার ভোট নিশ্চিত করা- এমন ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, বেশকিছু বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। বিভাগওয়ারি দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজ করছেন। ইশতেহারের কাজ প্রায় শেষের দিকে। পোলিং এজেন্ট, ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ চলছে। প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও অনেকটাই এগিয়ে গেছে। যারা প্রার্থী হচ্ছেন, তারাই নিজ নিজ এলাকায় পোলিং এজেন্ট, ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটির কাজ গুছিয়ে রাখছেন। এছাড়া আরও কিছু ইস্যুভিত্তিক কাজ আছে, যা ক্রমান্বয়ে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্ত চলতে থাকে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শনিবারের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি বিষয়ে বেশ কয়েকটি ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা টিমকে নির্দেশ দিয়েছেন দলের হাইকমান্ড। এর মধ্যে জেলাভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা টিমের দিকে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন কমিটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অক্টোবরের মধ্যে এসব ইস্যুভিত্তিক কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনী এসব ইস্যু বাস্তবায়ন ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে এরই মধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে নির্দেশা পাঠানো হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত চিঠি পেয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
কেন্দ্রের নির্দেশে কমপক্ষে এক ডজন ইস্যু নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদেক কোরাইশী যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে পোলিং এজেন্ট ও ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। নির্বাচন প্রস্তুতিতে তৃণমূল আওয়ামী লীগ এখন চাঙ্গা। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্ট তালিকা করতে বলা হয়েছে। তারা এসে ট্রেনিং দেবে। আমরা প্রস্তুত। এলাকায় অনেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী। আমিও মনোনয়ন চাই। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।
জানা যায়, জোট-মহাজোট গঠনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট দলগুলোকে সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। এ নিয়ে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। আর জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোটের বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এরই মধ্যে সংসদে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। তবে এসবের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটবে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার আগে ও বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসার ওপর ভিত্তি করে।
প্রার্থী বাছাইয়ে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন জরিপ সংস্থা কাজ করছে। এসব জরিপের অনেক প্রতিবেদন এখন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। তৃণমূলের মতামত, জেলা জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সুপারিশ ও দলীয় প্রধানের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে দলীয় ও জোটের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে দলটি।
এছাড়া সরকারে উন্নয়ন অর্জন ও আগামীর সম্ভাবনা প্রচারে দলটির প্রচার টিমকে কাজে লাগাতে বলেছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে এ সেলটি বিভিন্ন উন্নয়ন সেমিনার, উন্নয়ন সহায়ক পুস্তিকা প্রস্তুত করে প্রচার কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে গণমাধ্যমে প্রচার, ফেসুবকসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোর জন্য কর্মঠ ও চৌকস অ্যাকটিভিটিস তৈরির কাজও করছে। এর সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে কাজে লাগানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের ইশতেহার তৈরির দায়িত্বে আছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইশতেহার তৈরির কাজ গুছিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে এটি ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। পোলিং এজেন্ট ও ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটিগুলোয় এটি পুস্তিকা আকারে বিতরণ করা হবে। ইশতেহারে আগামীর উন্নয়ন ও সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
পোলিং এজেন্ট ও ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের বিষয়টি আপাতত প্রকাশ্যে আনছে না আওয়ামী লীগ। এটি নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে চূড়ান্ত করার নির্দেশনা যাচ্ছে তৃণমূলে। তবে এখন থেকেই নিজ নিজ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকা প্রস্তুত করে রাখাতে নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
জানা যায়, শনিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন কমিটির চোরম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, এ লক্ষ্যে একটি খসড়া কমিটির তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিটিগুলোয় সাবেক আমলাদের রাখা হয়েছে। নিজ নিজ জেলা কমিটিতে এসব কর্মকর্তাকে স্থান দেয়া হয়েছে।
নির্বাচনী জটিলতার বড় ইস্যু প্রার্থী নির্ধারণের বিষয়ে সাবধানে পা ফেলছে আওামী লীগ। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের বাড়াবাড়ি না করতে নির্দেশনা আছে। আবার বর্তমান এমপিদের সঙ্গে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বাজে কথা বলা নিয়ে সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, যারা মনোনয়নের আশায় বর্তমান এমপিদের সমালোচনা করতে গিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করছেন, তাদের কাউকেই মনোনয়ন দেয়া হবে না।
বিষয়টির সহজ সমাধানে তৃণমূল সফর করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরই মধ্যে তিনি সিলেট ও উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলা সফর করেছেন। ২২ সেপ্টেম্বর তৃণমূল নেতাদের মধ্যে বিরোধ ও মনোনয়ন বিষয়ে কেন্দ্রের বার্তা নিয়ে কক্সবাজার সফরে যাওয়ার কথা আছে তার। এরপর বরিশাল, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা সফরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলে এবারের নির্বাচন নিয়ে জটিল হয়ে ওঠা ১২টি নির্বাচনী ইস্যু বাস্তবায়নে কাজ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















