ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

খালেদার জন্মদিনে এবার কর্মসূচি নেই বিএনপির

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকায় এবার খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপনের কোনো কর্মসূচি রাখেনি বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসন ১৫ অগাস্ট তার জন্মদিন পালন করেন। তার আরও জন্ম তারিখের হদিস মেলায় বঙ্গবন্ধু হত্যার দিনে তার জন্মদিন উদযাপনের সমালোচনা রয়েছে।

প্রায় প্রতি বছর জন্মদিনে বিএনপি কার্যালয়ে কেক কাটা হলেও সোমবার সেই রকম কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি। জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “ম্যাডাম চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। এজন্য ম্যাডামের জন্মদিনে বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই।”

বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার দোয়া মাহফিল করতে পারে বলে জানান তিনি।লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতে আছেন খালেদা। গত ৮ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের মুরফিন্ড চক্ষু হাসপাতালে তার ডান চোখের অস্ত্রোপচার হয়।

রিজভী বলেন, “ম্যাডামের চোখের ব্যান্ডেজ এখনও খোলা হয়নি। ২/৩ দিনের মধ্যে ব্যান্ডেজ খোলা হবে। তিনি চিকিৎসকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুস্থ আছেন।” ২০১৫ সালে জন্মদিন উদযাপন করলেও গত বছর বন্যা, গুলশান হামলা, গুম-খুনকে কারণ দেখিয়ে কেক কাটার কর্মসূচি বাতিল করেছিলেন খালেদা। বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ৭৩ বছরে পা রাখছেন।

গত দুই যুগ ধরে ১৫ অগাস্ট তিনি জন্মদিন উদযাপন করছেন। তার আরও কয়েকটি জন্মদিনের হদিসের পাশাপাশি জন্মসাল নিয়েও দুই রকম তথ্য পাওয়া যায়। খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালে বলে তার নতুন করা পাসপোর্টে লেখা রয়েছে। বাংলাপিডিয়াসহ খালেদা জিয়ার জীবনীর উপর রচিত কয়েকটি গ্রন্থে তার জন্ম বছর ১৯৪৫ সাল দেখানো হয়েছে।

খালেদার বাবা এস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনী হলেও তিনি দিনাজপুরে ঠিকানা নিয়েছিলেন। খালেদার জন্মও সেখানে। তার মায়ের নাম তৈয়বা মজুমদার। সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ১৯৬০ সালে খালেদার বিয়ে হয়। পঁচাত্তরে পটপরিবর্তনের পর প্রথমে সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরে রাষ্ট্রপতি হন জিয়া।

১৯৮১ সালে ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় জিয়া নিহত হলে রাজনীতিতে পা রাখেন খালেদা। প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং তিন বছর পর চেয়ারপারসন হন তিনি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেওয়া দল’ বিএনপির জনভিত্তি তৈরি করে দেন খালেদাই।

১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর কয়েক দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট জয়ী হলে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হারের পর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর এখন সংসদের বাইরে থাকলেও রাজনীতিতে তার গুরুত্ব কমতে দেখা যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

খালেদার জন্মদিনে এবার কর্মসূচি নেই বিএনপির

আপডেট সময় ১১:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকায় এবার খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপনের কোনো কর্মসূচি রাখেনি বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসন ১৫ অগাস্ট তার জন্মদিন পালন করেন। তার আরও জন্ম তারিখের হদিস মেলায় বঙ্গবন্ধু হত্যার দিনে তার জন্মদিন উদযাপনের সমালোচনা রয়েছে।

প্রায় প্রতি বছর জন্মদিনে বিএনপি কার্যালয়ে কেক কাটা হলেও সোমবার সেই রকম কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি। জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “ম্যাডাম চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। এজন্য ম্যাডামের জন্মদিনে বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই।”

বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার দোয়া মাহফিল করতে পারে বলে জানান তিনি।লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতে আছেন খালেদা। গত ৮ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের মুরফিন্ড চক্ষু হাসপাতালে তার ডান চোখের অস্ত্রোপচার হয়।

রিজভী বলেন, “ম্যাডামের চোখের ব্যান্ডেজ এখনও খোলা হয়নি। ২/৩ দিনের মধ্যে ব্যান্ডেজ খোলা হবে। তিনি চিকিৎসকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুস্থ আছেন।” ২০১৫ সালে জন্মদিন উদযাপন করলেও গত বছর বন্যা, গুলশান হামলা, গুম-খুনকে কারণ দেখিয়ে কেক কাটার কর্মসূচি বাতিল করেছিলেন খালেদা। বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ৭৩ বছরে পা রাখছেন।

গত দুই যুগ ধরে ১৫ অগাস্ট তিনি জন্মদিন উদযাপন করছেন। তার আরও কয়েকটি জন্মদিনের হদিসের পাশাপাশি জন্মসাল নিয়েও দুই রকম তথ্য পাওয়া যায়। খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালে বলে তার নতুন করা পাসপোর্টে লেখা রয়েছে। বাংলাপিডিয়াসহ খালেদা জিয়ার জীবনীর উপর রচিত কয়েকটি গ্রন্থে তার জন্ম বছর ১৯৪৫ সাল দেখানো হয়েছে।

খালেদার বাবা এস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনী হলেও তিনি দিনাজপুরে ঠিকানা নিয়েছিলেন। খালেদার জন্মও সেখানে। তার মায়ের নাম তৈয়বা মজুমদার। সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ১৯৬০ সালে খালেদার বিয়ে হয়। পঁচাত্তরে পটপরিবর্তনের পর প্রথমে সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরে রাষ্ট্রপতি হন জিয়া।

১৯৮১ সালে ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় জিয়া নিহত হলে রাজনীতিতে পা রাখেন খালেদা। প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং তিন বছর পর চেয়ারপারসন হন তিনি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেওয়া দল’ বিএনপির জনভিত্তি তৈরি করে দেন খালেদাই।

১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর কয়েক দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট জয়ী হলে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হারের পর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর এখন সংসদের বাইরে থাকলেও রাজনীতিতে তার গুরুত্ব কমতে দেখা যায়নি।