ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থগিত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর আহ্বান মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি: বিরোধীদলীয় নেতা স্কুলছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আটক প্রান্তিক মানুষের নাগালে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: মির্জা ফখরুল চীনে ভারি বৃষ্টিতে ভূমিধসে নিহত বেড়ে ২৫, বেইজিংসহ একাধিক অঞ্চলে সতর্কতা হামাসের দুই কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের হাসিনাকে গুম-খুন নিয়ে প্রশ্ন না করে অনেক সাংবাদিক তৈলমর্দনে ব্যস্ত ছিলেন: কাদের গনি ঢাকায় ফের ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ, যুক্ত হতে পারে বেসরকারি খাত জনগণ আপনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, কীভাবে আসবেন আসেন: শেখ হাসিনাকে পরওয়ার নতুন আইন কর্মকর্তাদের সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের

নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক: দলীয় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দশম সংসদ নির্বাচন ‘একতরফা’ হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে জানিয়ে দলীয় সংসদ সদস্যদেরকে ভোটের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা এই নির্দেশ দেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামুলক হবে। এতে সকল রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে সেইভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আর তাদের সহিংস আন্দোলনের মধ্যেও নির্বাচন করে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির যে দাবি পাঁচ বছর আগে মেনে নেয়া হয়নি, সেই দাবি এবারও মানা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছে সরকার। আর বিএনপিও এখনও ভোটে আসার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

সংসদ সদস্যদের সবাই মনোনয়ন পাবেন না, এটা আবারও জানিয়ে দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘অনেকে বাদ পড়বেন। নতুন অনেকে মনোনয়ন পাবেন। আমরা জনপ্রিয়তা দেখে নমিনেশন দেব। তবে যাকে নমিনেশন দেবো তারজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সবার আছে জানিয়ে এ বিষয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতাকে শেখ হাসিনা স্বাগত জানান। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের নেতবাচক কর্মকাণ্ড চাননি তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক এলাকায় সংসদ সদস্য ও যারা নতুন করে মনোনয়ন চাচ্ছেন তারাও একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এই ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার শুনতে চাই না।’

‘যিনি এমপি তারও এলাকায় গিয়ে কথা বলার অধিকার রয়েছে। যিনি মনোনয়ন চান তারও সেই অধিকার আছে। পরস্পরের মধ্যে দোষারোপ না করে সবাইকে জনগণের দুয়ারে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ভোট চাইতে হবে। তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

বৈঠকে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদেরকে এলাকায় গিয়ে বেশি তৎপরতা না করারও নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

‘অনেক নারী সংসদ সদস্য তার নিজের এলাকা বা তার জন্য নির্ধরিত নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে খবরদারি করেন। এ তথ্য আমার কাছে এসেছে। এ ধরনের খবর আমি আর শুনতে চাই না। কেউ এলাকায় গিয়ে খবরদারি করবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৮ জুলাই সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল পাস হবে। এই বিলে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়ানো হবে। আর সংবিধান সংশোধনীর ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন সংসদ নেত্রী।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বিধি আরো ২৫ বছর বাড়িয়ে গত ৮ এপ্রিল সংসদে ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে গত ৬ জুন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পাসের সুপারিশ করে প্রতিবেদন উত্থাপন করে।

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যমান নারী আসনের মেয়াদ শেষ হবে। ফলে সপ্তদশ সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হলে পরবর্তী সংসদ থেকে তার মেয়াদ ২৫ বছর হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থগিত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর আহ্বান মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের

নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক: দলীয় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:২১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দশম সংসদ নির্বাচন ‘একতরফা’ হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে জানিয়ে দলীয় সংসদ সদস্যদেরকে ভোটের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা এই নির্দেশ দেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামুলক হবে। এতে সকল রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে সেইভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আর তাদের সহিংস আন্দোলনের মধ্যেও নির্বাচন করে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির যে দাবি পাঁচ বছর আগে মেনে নেয়া হয়নি, সেই দাবি এবারও মানা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছে সরকার। আর বিএনপিও এখনও ভোটে আসার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

সংসদ সদস্যদের সবাই মনোনয়ন পাবেন না, এটা আবারও জানিয়ে দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘অনেকে বাদ পড়বেন। নতুন অনেকে মনোনয়ন পাবেন। আমরা জনপ্রিয়তা দেখে নমিনেশন দেব। তবে যাকে নমিনেশন দেবো তারজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সবার আছে জানিয়ে এ বিষয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতাকে শেখ হাসিনা স্বাগত জানান। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের নেতবাচক কর্মকাণ্ড চাননি তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক এলাকায় সংসদ সদস্য ও যারা নতুন করে মনোনয়ন চাচ্ছেন তারাও একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এই ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার শুনতে চাই না।’

‘যিনি এমপি তারও এলাকায় গিয়ে কথা বলার অধিকার রয়েছে। যিনি মনোনয়ন চান তারও সেই অধিকার আছে। পরস্পরের মধ্যে দোষারোপ না করে সবাইকে জনগণের দুয়ারে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ভোট চাইতে হবে। তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

বৈঠকে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদেরকে এলাকায় গিয়ে বেশি তৎপরতা না করারও নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

‘অনেক নারী সংসদ সদস্য তার নিজের এলাকা বা তার জন্য নির্ধরিত নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে খবরদারি করেন। এ তথ্য আমার কাছে এসেছে। এ ধরনের খবর আমি আর শুনতে চাই না। কেউ এলাকায় গিয়ে খবরদারি করবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৮ জুলাই সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল পাস হবে। এই বিলে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়ানো হবে। আর সংবিধান সংশোধনীর ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন সংসদ নেত্রী।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বিধি আরো ২৫ বছর বাড়িয়ে গত ৮ এপ্রিল সংসদে ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে গত ৬ জুন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পাসের সুপারিশ করে প্রতিবেদন উত্থাপন করে।

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যমান নারী আসনের মেয়াদ শেষ হবে। ফলে সপ্তদশ সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হলে পরবর্তী সংসদ থেকে তার মেয়াদ ২৫ বছর হবে।