ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শিকার কংগ্রেস সদস্য ইলহান শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড নওগাঁয় বিএনপির প্রচারণা চালিয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী নিহত বাকহীন বাকশক্তি পেয়ে জুলাই যোদ্ধাদের ভুলে গেছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম

নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক: দলীয় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দশম সংসদ নির্বাচন ‘একতরফা’ হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে জানিয়ে দলীয় সংসদ সদস্যদেরকে ভোটের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা এই নির্দেশ দেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামুলক হবে। এতে সকল রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে সেইভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আর তাদের সহিংস আন্দোলনের মধ্যেও নির্বাচন করে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির যে দাবি পাঁচ বছর আগে মেনে নেয়া হয়নি, সেই দাবি এবারও মানা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছে সরকার। আর বিএনপিও এখনও ভোটে আসার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

সংসদ সদস্যদের সবাই মনোনয়ন পাবেন না, এটা আবারও জানিয়ে দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘অনেকে বাদ পড়বেন। নতুন অনেকে মনোনয়ন পাবেন। আমরা জনপ্রিয়তা দেখে নমিনেশন দেব। তবে যাকে নমিনেশন দেবো তারজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সবার আছে জানিয়ে এ বিষয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতাকে শেখ হাসিনা স্বাগত জানান। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের নেতবাচক কর্মকাণ্ড চাননি তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক এলাকায় সংসদ সদস্য ও যারা নতুন করে মনোনয়ন চাচ্ছেন তারাও একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এই ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার শুনতে চাই না।’

‘যিনি এমপি তারও এলাকায় গিয়ে কথা বলার অধিকার রয়েছে। যিনি মনোনয়ন চান তারও সেই অধিকার আছে। পরস্পরের মধ্যে দোষারোপ না করে সবাইকে জনগণের দুয়ারে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ভোট চাইতে হবে। তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

বৈঠকে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদেরকে এলাকায় গিয়ে বেশি তৎপরতা না করারও নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

‘অনেক নারী সংসদ সদস্য তার নিজের এলাকা বা তার জন্য নির্ধরিত নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে খবরদারি করেন। এ তথ্য আমার কাছে এসেছে। এ ধরনের খবর আমি আর শুনতে চাই না। কেউ এলাকায় গিয়ে খবরদারি করবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৮ জুলাই সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল পাস হবে। এই বিলে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়ানো হবে। আর সংবিধান সংশোধনীর ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন সংসদ নেত্রী।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বিধি আরো ২৫ বছর বাড়িয়ে গত ৮ এপ্রিল সংসদে ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে গত ৬ জুন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পাসের সুপারিশ করে প্রতিবেদন উত্থাপন করে।

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যমান নারী আসনের মেয়াদ শেষ হবে। ফলে সপ্তদশ সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হলে পরবর্তী সংসদ থেকে তার মেয়াদ ২৫ বছর হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক: দলীয় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:২১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দশম সংসদ নির্বাচন ‘একতরফা’ হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে জানিয়ে দলীয় সংসদ সদস্যদেরকে ভোটের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা এই নির্দেশ দেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামুলক হবে। এতে সকল রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে সেইভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আর তাদের সহিংস আন্দোলনের মধ্যেও নির্বাচন করে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির যে দাবি পাঁচ বছর আগে মেনে নেয়া হয়নি, সেই দাবি এবারও মানা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছে সরকার। আর বিএনপিও এখনও ভোটে আসার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

সংসদ সদস্যদের সবাই মনোনয়ন পাবেন না, এটা আবারও জানিয়ে দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘অনেকে বাদ পড়বেন। নতুন অনেকে মনোনয়ন পাবেন। আমরা জনপ্রিয়তা দেখে নমিনেশন দেব। তবে যাকে নমিনেশন দেবো তারজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সবার আছে জানিয়ে এ বিষয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতাকে শেখ হাসিনা স্বাগত জানান। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের নেতবাচক কর্মকাণ্ড চাননি তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক এলাকায় সংসদ সদস্য ও যারা নতুন করে মনোনয়ন চাচ্ছেন তারাও একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এই ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার শুনতে চাই না।’

‘যিনি এমপি তারও এলাকায় গিয়ে কথা বলার অধিকার রয়েছে। যিনি মনোনয়ন চান তারও সেই অধিকার আছে। পরস্পরের মধ্যে দোষারোপ না করে সবাইকে জনগণের দুয়ারে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ভোট চাইতে হবে। তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

বৈঠকে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদেরকে এলাকায় গিয়ে বেশি তৎপরতা না করারও নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

‘অনেক নারী সংসদ সদস্য তার নিজের এলাকা বা তার জন্য নির্ধরিত নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে খবরদারি করেন। এ তথ্য আমার কাছে এসেছে। এ ধরনের খবর আমি আর শুনতে চাই না। কেউ এলাকায় গিয়ে খবরদারি করবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৮ জুলাই সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল পাস হবে। এই বিলে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়ানো হবে। আর সংবিধান সংশোধনীর ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন সংসদ নেত্রী।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বিধি আরো ২৫ বছর বাড়িয়ে গত ৮ এপ্রিল সংসদে ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে গত ৬ জুন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পাসের সুপারিশ করে প্রতিবেদন উত্থাপন করে।

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যমান নারী আসনের মেয়াদ শেষ হবে। ফলে সপ্তদশ সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হলে পরবর্তী সংসদ থেকে তার মেয়াদ ২৫ বছর হবে।