ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী শহীদুল্লাহ হলে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম ‘জনগণকে মালিক মনে করে সরকার কাজ করছে’ ‘নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না’ মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতের পরামর্শে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে এনসিপি : রাশেদ খান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাবা-দাদার বয়সী নেতাদের প্রতারণা বুঝতে পারিনি: আসিফ মাহমুদ

এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনে ১০৯ জন অসুস্থ, হাসপাতালে ১০

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এমপিওভুক্তির দাবিতে বেসরকারি শিক্ষকদের রাজধানীতে আমরণ অনশন অব্যাহত রয়েছে। ষষ্ঠ দিনের মতো শনিবার পর্যন্ত ১০৯ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত অর্ধশত শিক্ষককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।

তবে শনিবার বিকালে পর্যন্ত হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া ৯০ জনকে অনশনস্থলে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।

ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে এ আন্দোলন চলছে। গত ১০ জুন থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি পালন শেষে ২৫ জুন সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীত দিকে সড়কের পাশে আমরণ অনশন শুরু করেন।

অনশনে দিন দিন অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায়সহ ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

তাদের মধ্যে আছেন আজিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, আকরাম হোসেন, আছিয়া খাতুস, বিলকিস পারর্ভীন, মাহবুবুর রহমান, গাজী আবদুল লতিফ প্রমুখ। অসুস্থ শিক্ষকরা হাসপাতালের ৬০২, ৭০২ ও ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার দৈনিক আকাশকে বলেন, এই সরকার সর্বশেষ ২০১০ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে।

এর আগে ২০০৬ সালে সর্বশেষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কাজ হয়। তখন এমপিও বন্ধ করে দেয়ায় বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীই নানা সমালোচনা করতেন। অথচ তার আমলে ৮ বছর ধরে এমপিওভুক্তির কাজ বন্ধ আছে।

তিনি বলেন, গত ৮ বছরে এমপিওভুক্তির ব্যাপারে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা অন্তত ২৬ বার কথা দিয়েছেন।

সর্বশেষ একই দাবিতে আন্দোলনের মুখে গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা আশ্বাস দেন। কিন্তু ৭ জুন সংসদে উত্থাপিত বাজেটে এই খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ না দেখে তারা হতাশ। এ জন্যই গত ১০ জুন ফের আন্দোলনে নামেন।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, এমপিওভুক্তির ব্যাপারে তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আমরণ অনশনে যাওয়ার আগে তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ সংসদ সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আশা করছেন, তাদের দাবি আদায় হবে। এ সময় ছয় দিন ধরে অনশন চললেও শিক্ষকরা সরকারের কোনো পর্যায় থেকে কোনো আশ্বাস বা সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৪২টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সরকারি স্বীকৃতি আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী

এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনে ১০৯ জন অসুস্থ, হাসপাতালে ১০

আপডেট সময় ০৫:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এমপিওভুক্তির দাবিতে বেসরকারি শিক্ষকদের রাজধানীতে আমরণ অনশন অব্যাহত রয়েছে। ষষ্ঠ দিনের মতো শনিবার পর্যন্ত ১০৯ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত অর্ধশত শিক্ষককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।

তবে শনিবার বিকালে পর্যন্ত হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া ৯০ জনকে অনশনস্থলে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।

ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে এ আন্দোলন চলছে। গত ১০ জুন থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি পালন শেষে ২৫ জুন সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীত দিকে সড়কের পাশে আমরণ অনশন শুরু করেন।

অনশনে দিন দিন অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায়সহ ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

তাদের মধ্যে আছেন আজিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, আকরাম হোসেন, আছিয়া খাতুস, বিলকিস পারর্ভীন, মাহবুবুর রহমান, গাজী আবদুল লতিফ প্রমুখ। অসুস্থ শিক্ষকরা হাসপাতালের ৬০২, ৭০২ ও ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার দৈনিক আকাশকে বলেন, এই সরকার সর্বশেষ ২০১০ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে।

এর আগে ২০০৬ সালে সর্বশেষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কাজ হয়। তখন এমপিও বন্ধ করে দেয়ায় বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীই নানা সমালোচনা করতেন। অথচ তার আমলে ৮ বছর ধরে এমপিওভুক্তির কাজ বন্ধ আছে।

তিনি বলেন, গত ৮ বছরে এমপিওভুক্তির ব্যাপারে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা অন্তত ২৬ বার কথা দিয়েছেন।

সর্বশেষ একই দাবিতে আন্দোলনের মুখে গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা আশ্বাস দেন। কিন্তু ৭ জুন সংসদে উত্থাপিত বাজেটে এই খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ না দেখে তারা হতাশ। এ জন্যই গত ১০ জুন ফের আন্দোলনে নামেন।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, এমপিওভুক্তির ব্যাপারে তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আমরণ অনশনে যাওয়ার আগে তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ সংসদ সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আশা করছেন, তাদের দাবি আদায় হবে। এ সময় ছয় দিন ধরে অনশন চললেও শিক্ষকরা সরকারের কোনো পর্যায় থেকে কোনো আশ্বাস বা সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৪২টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সরকারি স্বীকৃতি আছে।