ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুবেলকে বিদায়ি সম্মাননা দেবে বিসিবি বাংলাদেশে নীতির অনিশ্চয়তা আমাদের ভয়ের কারণ: ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত চবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পাকিস্তানে প্রতিনিধি দল পাঠাবে না ইরান যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলায় আট শিশু নিহত এপ্রিলের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার বিগত সরকারের দুর্নীতির কারণে হাতুড়ির টোকায় বর্তমান স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠন কঠিন স্কুলপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে পাকিস্তানে যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০

পশ্চিমবঙ্গের রাস্তায় পড়ে আছে কোটি কোটি টাকা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পশ্চিমবঙ্গের রাস্তায় পড়ে আছে কোটি কোটি টাকা। সেই টাকা কুড়াতে গিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে বেধেছে মহাযুদ্ধ। এটি কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়। বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ২ ব্লকের কাশিপুর থানার অন্তর্গত কৃষ্ণমাটি ব্রিজে। তবে সেই টাকাগুলো আসল নয়, সবই নকল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছিল। আর সেই বৃষ্টির মধ্যেই একটি প্রাইভেটকার এসে দাঁড়ায় ভাঙড়ের বাগজোলা খালের উপর কৃষ্ণমাটি ব্রিজে।

এরপর সেখান থেকে দুজন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে গাড়ি থেকে প্রচুর কাগজের প্যাকেট বের করেন। এরপর সেগুলো ব্রিজের নিচে খালে ফেলতে থাকেন।

দৃশ্যটি দূর থেকে দেখতে পান গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। তারা চিৎকার শুরু করলে ওই সব প্যাকেট ব্রিজের ওপর ফেলে রেখেই ওই দুই ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা এসে দেখেন ব্রিজের ওপর দুই হাজার টাকার নোটের বান্ডিল পড়ে রয়েছে। মুহূর্তে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। আশপাশের সাতুলিয়া, জিরানগাছা, কৃষ্ণমাটি, গুছুরিয়া গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ওই টাকা কুড়াতে ছুটে আসেন।

দু’হাজার টাকার নোট কুড়াতে কৃষ্ণমাটি ব্রিজ তখন একটি ছোট খাট যুদ্ধ ক্ষেত্রের চেহারা নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় কাশীপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সদস্যরা সেখানে এসে মাইকিং করতে শুরু করেন, “এগুলো সবই সরকারি সম্পত্তি। এই টাকা কেউ লুট করবেন না।”

অবশ্য সেই গোছা গোছা টাকার বান্ডিল হাতে নিয়েই ভুল ভাঙে পুলিশের। পুলিশ সদস্যরা বুঝতে পারেন টাকাগুলো সবই নকল। পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে দেখেন সেখানে প্রায় ২০ কোটি টাকা রয়েছে।

এছাড়াও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই আরও অনেক টাকা নিয়ে বহু গ্রামবাসীরা পালিয়েছে। কিন্তু এত বিশাল অঙ্কের জাল নোট এখানে কারা ফেলে গেল সে বিষয়ে এখনও কিছুই জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বারুইপুর পুলিশ জেলা সুপার অরিজিৎ সিংহ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।”

তবে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন ভাঙড় ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ওহিদুল ইসলাম জানান ওই জাল নোট কোথা থেকে এল বা সেগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রুবেলকে বিদায়ি সম্মাননা দেবে বিসিবি

পশ্চিমবঙ্গের রাস্তায় পড়ে আছে কোটি কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৭:১৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পশ্চিমবঙ্গের রাস্তায় পড়ে আছে কোটি কোটি টাকা। সেই টাকা কুড়াতে গিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে বেধেছে মহাযুদ্ধ। এটি কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়। বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ২ ব্লকের কাশিপুর থানার অন্তর্গত কৃষ্ণমাটি ব্রিজে। তবে সেই টাকাগুলো আসল নয়, সবই নকল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছিল। আর সেই বৃষ্টির মধ্যেই একটি প্রাইভেটকার এসে দাঁড়ায় ভাঙড়ের বাগজোলা খালের উপর কৃষ্ণমাটি ব্রিজে।

এরপর সেখান থেকে দুজন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে গাড়ি থেকে প্রচুর কাগজের প্যাকেট বের করেন। এরপর সেগুলো ব্রিজের নিচে খালে ফেলতে থাকেন।

দৃশ্যটি দূর থেকে দেখতে পান গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। তারা চিৎকার শুরু করলে ওই সব প্যাকেট ব্রিজের ওপর ফেলে রেখেই ওই দুই ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা এসে দেখেন ব্রিজের ওপর দুই হাজার টাকার নোটের বান্ডিল পড়ে রয়েছে। মুহূর্তে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। আশপাশের সাতুলিয়া, জিরানগাছা, কৃষ্ণমাটি, গুছুরিয়া গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ওই টাকা কুড়াতে ছুটে আসেন।

দু’হাজার টাকার নোট কুড়াতে কৃষ্ণমাটি ব্রিজ তখন একটি ছোট খাট যুদ্ধ ক্ষেত্রের চেহারা নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় কাশীপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সদস্যরা সেখানে এসে মাইকিং করতে শুরু করেন, “এগুলো সবই সরকারি সম্পত্তি। এই টাকা কেউ লুট করবেন না।”

অবশ্য সেই গোছা গোছা টাকার বান্ডিল হাতে নিয়েই ভুল ভাঙে পুলিশের। পুলিশ সদস্যরা বুঝতে পারেন টাকাগুলো সবই নকল। পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে দেখেন সেখানে প্রায় ২০ কোটি টাকা রয়েছে।

এছাড়াও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই আরও অনেক টাকা নিয়ে বহু গ্রামবাসীরা পালিয়েছে। কিন্তু এত বিশাল অঙ্কের জাল নোট এখানে কারা ফেলে গেল সে বিষয়ে এখনও কিছুই জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বারুইপুর পুলিশ জেলা সুপার অরিজিৎ সিংহ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।”

তবে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন ভাঙড় ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ওহিদুল ইসলাম জানান ওই জাল নোট কোথা থেকে এল বা সেগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।