ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী শহীদুল্লাহ হলে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম ‘জনগণকে মালিক মনে করে সরকার কাজ করছে’ ‘নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না’ মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতের পরামর্শে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে এনসিপি : রাশেদ খান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাবা-দাদার বয়সী নেতাদের প্রতারণা বুঝতে পারিনি: আসিফ মাহমুদ

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ ও ভারতীয় নৌবাহিনী যৌথ টহল শুরু বৃহস্পতিবার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বঙ্গোপসাগরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারতের নৌবাহিনী দুই দেশের সমুদ্রসীমার নির্ধারিত এলাকায় যৌথ টহল শুরু করতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের নৌসীমা থেকে এ টহল শুরু হয়ে ৩ জুলাই ভারতের বিশাখাপত্তমে পৌঁছে তা শেষ হবে। টহলে বাংলাদেশ ও ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ও টহল বিমানের (মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট) অংশগ্রহণ করবে।

এর মধ্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও এমপিএ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও এমপিএ যৌথ টহলে অংশ নেবে। সমুদ্র এলাকায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ, চোরাচালান ও মানবপাচার, জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিরসনের লক্ষ্যে এ যৌথ টহল পরিচালিত হবে।

এ উপলক্ষে বুধবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ (বানৌজা) ঈসাখানের এসএমডব্লিউটি মিলনায়তনে যৌথ টহলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ ও ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবা।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। খবর বাসসের।

বাংলাদেশ ও ভারতীয় সমুদ্রসীমার নির্ধারিত এলাকায় নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে উল্লেখ করে আইএসপিআর জানায়, প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা আবু বকর’ ও ‘বানৌজা ধলেশ্বরী’ এবং এমপিএ (মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট) এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস সাতপুরা’ ও ‘আইএনএস খেদমত’ এবং এমপিএ অংশগ্রহণ করবে।

দুই দেশের এই যৌথ টহল বঙ্গোপসাগরে নিজ নিজ জলসীমায় সমুদ্রবিষয়ক অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, তথ্যাদির সঠিক ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রপথে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাহাজগুলো চিহ্নিতকরণ ও বিভিন্ন অপরাধ নিরসনকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা রক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবেলা ও সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।

এছাড়া পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর দুজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজযোগে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুজন কর্মকর্তা ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজযোগে বিশাখাপত্তমে যাবেন। এই যৌথ টহল দুই দেশের জলসীমায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে নৌবাহিনী প্রধান উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিশাল সমুদ্র এলাকায় এককভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। এক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, এ সংক্রান্ত তথ্যাদির আদান-প্রদান এবং সমন্বিত নজরদারি সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যা এ অঞ্চলের সমুদ্রবিষয়ক সচেতনতাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

বঙ্গোপসাগরে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের যৌথ টহল আয়োজনের জন্য তিনি বাংলাদেশ ও ভারতীয় সরকারকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে যৌথ এ টহলকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন।

যৌথ টহলের সাফল্য কামনা করে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি যুগান্তকারী সময় পার করছে। বিশাল সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঐতিহাসিক এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।

তিনি বলেন, ভারত সব সময়ই বাংলাদেশের সঙ্গে সহাবস্থানে থেকে বিশাল সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত,সন্ত্রাসবাদ দমন, যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলা, সমুদ্রসম্পদ রক্ষাসহ ‘ব্লু-ইকোনমির’ উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করে যেতে আগ্রহী।

দুই দেশের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান বলেন, বর্তমান নৌপ্রধানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন এগিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত ‘আইএমএমএসএআরইএক্স’র মতো আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া সফলভাবে শেষ করায় তিনি বাংলাদেশের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।

দু’দেশের নৌবাহিনীর মধ্যকার চলমান এ ধরনের টহল, সমুদ্র মহড়া, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও ভারতীয় নৌপ্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ ও ভারতীয় নৌবাহিনী যৌথ টহল শুরু বৃহস্পতিবার

আপডেট সময় ০৭:১৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বঙ্গোপসাগরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারতের নৌবাহিনী দুই দেশের সমুদ্রসীমার নির্ধারিত এলাকায় যৌথ টহল শুরু করতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের নৌসীমা থেকে এ টহল শুরু হয়ে ৩ জুলাই ভারতের বিশাখাপত্তমে পৌঁছে তা শেষ হবে। টহলে বাংলাদেশ ও ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ও টহল বিমানের (মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট) অংশগ্রহণ করবে।

এর মধ্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও এমপিএ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও এমপিএ যৌথ টহলে অংশ নেবে। সমুদ্র এলাকায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ, চোরাচালান ও মানবপাচার, জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিরসনের লক্ষ্যে এ যৌথ টহল পরিচালিত হবে।

এ উপলক্ষে বুধবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ (বানৌজা) ঈসাখানের এসএমডব্লিউটি মিলনায়তনে যৌথ টহলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ ও ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবা।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। খবর বাসসের।

বাংলাদেশ ও ভারতীয় সমুদ্রসীমার নির্ধারিত এলাকায় নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে উল্লেখ করে আইএসপিআর জানায়, প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা আবু বকর’ ও ‘বানৌজা ধলেশ্বরী’ এবং এমপিএ (মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট) এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস সাতপুরা’ ও ‘আইএনএস খেদমত’ এবং এমপিএ অংশগ্রহণ করবে।

দুই দেশের এই যৌথ টহল বঙ্গোপসাগরে নিজ নিজ জলসীমায় সমুদ্রবিষয়ক অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, তথ্যাদির সঠিক ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রপথে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাহাজগুলো চিহ্নিতকরণ ও বিভিন্ন অপরাধ নিরসনকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা রক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবেলা ও সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।

এছাড়া পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর দুজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজযোগে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুজন কর্মকর্তা ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজযোগে বিশাখাপত্তমে যাবেন। এই যৌথ টহল দুই দেশের জলসীমায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে নৌবাহিনী প্রধান উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিশাল সমুদ্র এলাকায় এককভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। এক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, এ সংক্রান্ত তথ্যাদির আদান-প্রদান এবং সমন্বিত নজরদারি সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যা এ অঞ্চলের সমুদ্রবিষয়ক সচেতনতাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

বঙ্গোপসাগরে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের যৌথ টহল আয়োজনের জন্য তিনি বাংলাদেশ ও ভারতীয় সরকারকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে যৌথ এ টহলকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন।

যৌথ টহলের সাফল্য কামনা করে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি যুগান্তকারী সময় পার করছে। বিশাল সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঐতিহাসিক এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।

তিনি বলেন, ভারত সব সময়ই বাংলাদেশের সঙ্গে সহাবস্থানে থেকে বিশাল সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত,সন্ত্রাসবাদ দমন, যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলা, সমুদ্রসম্পদ রক্ষাসহ ‘ব্লু-ইকোনমির’ উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করে যেতে আগ্রহী।

দুই দেশের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান বলেন, বর্তমান নৌপ্রধানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন এগিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত ‘আইএমএমএসএআরইএক্স’র মতো আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া সফলভাবে শেষ করায় তিনি বাংলাদেশের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।

দু’দেশের নৌবাহিনীর মধ্যকার চলমান এ ধরনের টহল, সমুদ্র মহড়া, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও ভারতীয় নৌপ্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করেন।