ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

মা-মেয়েকে হত্যা করে গুমের এক বছর পর জীবিত উদ্ধার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ও ৬ বছরের মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার এক বছরের মাথায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজারের টিএসপি গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর মা ও মেয়েকে শনিবার সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে পিবিআই।

চকরিয়ার বড়ইতলী ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়া গ্রামের নবী হোসেনের মেয়ে সেতারা বেগমকে ২০১১ সালের ২২ জুলাই বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম। বিয়ের পর থেকে সেতারা বেগমের ওপর স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন নানাভাবে নির্র্যাতন করে আসছিল। এ অভিযোগ এনে গত ১ এপ্রিল নবী হোসেন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কক্সবাজারে একটি মামলা করেন।

এতে বলা হয়, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে নানাভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৫ মে ব্যবসার জন্য তার কাছ থেকে (নবী হোসেন) ১ লাখ টাকা এনে দিতে মেয়ে সেতারা বেগমকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এতে সেতারা বেগম অস্বীকৃতি জানালে স্বামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে হত্যা করে লাশ গুম করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার জেলাকে দায়িত্ব দেন।

পিবিআই কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দায়িত্ব প্রদানের পর পিবিআই মামলার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে বিবাদীদের মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার জন্য এ মামলা করেছে মর্মে পিবিআইয়ের কাছে প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিবিআই সেতারা বেগম ও তার মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে উদ্ধারে অভিযানে নামে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় কক্সবাজারের পিবিআই সদস্যরা তিন দিন ধরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালান। অবশেষে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে আত্মগোপনে থাকা পতেঙ্গা থানাধীন স্টিল মিল বাজারের কাছে টিএসপি গেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়েকে।

সেতারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, স্বামী তাকে নির্যাতনের কারণে তিনি শিশু মেয়েকে নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মা-মেয়েকে হত্যা করে গুমের এক বছর পর জীবিত উদ্ধার

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ও ৬ বছরের মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার এক বছরের মাথায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজারের টিএসপি গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর মা ও মেয়েকে শনিবার সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে পিবিআই।

চকরিয়ার বড়ইতলী ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়া গ্রামের নবী হোসেনের মেয়ে সেতারা বেগমকে ২০১১ সালের ২২ জুলাই বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম। বিয়ের পর থেকে সেতারা বেগমের ওপর স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন নানাভাবে নির্র্যাতন করে আসছিল। এ অভিযোগ এনে গত ১ এপ্রিল নবী হোসেন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কক্সবাজারে একটি মামলা করেন।

এতে বলা হয়, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে নানাভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৫ মে ব্যবসার জন্য তার কাছ থেকে (নবী হোসেন) ১ লাখ টাকা এনে দিতে মেয়ে সেতারা বেগমকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এতে সেতারা বেগম অস্বীকৃতি জানালে স্বামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে হত্যা করে লাশ গুম করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার জেলাকে দায়িত্ব দেন।

পিবিআই কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দায়িত্ব প্রদানের পর পিবিআই মামলার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে বিবাদীদের মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার জন্য এ মামলা করেছে মর্মে পিবিআইয়ের কাছে প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিবিআই সেতারা বেগম ও তার মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে উদ্ধারে অভিযানে নামে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় কক্সবাজারের পিবিআই সদস্যরা তিন দিন ধরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালান। অবশেষে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে আত্মগোপনে থাকা পতেঙ্গা থানাধীন স্টিল মিল বাজারের কাছে টিএসপি গেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়েকে।

সেতারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, স্বামী তাকে নির্যাতনের কারণে তিনি শিশু মেয়েকে নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যান।