ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে ‘বড় হামলা’ এখনো শুরুই হয়নি: ট্রাম্প হামলা ও সংঘাতের ঘটনা বিশ্ব সভ্যতার জন্য ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল জুলাই সনদের বিরুদ্ধে রায় এলে সংসদ বাতিল হয়ে যাবে: আসিফ সরকারকে বলব, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন: নাহিদ ইসলাম শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীর গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রবাসীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ছয় মাসে কী করবো জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এবার বাহরাইনে বাংলাদেশি নিহত সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরু‌রি বিজ্ঞ‌প্তি দূতাবাসের মোহাম্মদপুরে সার্ভিসিং সেন্টারে প্রাইভেটকারে আগুন, দগ্ধ ৮

মা-মেয়েকে হত্যা করে গুমের এক বছর পর জীবিত উদ্ধার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ও ৬ বছরের মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার এক বছরের মাথায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজারের টিএসপি গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর মা ও মেয়েকে শনিবার সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে পিবিআই।

চকরিয়ার বড়ইতলী ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়া গ্রামের নবী হোসেনের মেয়ে সেতারা বেগমকে ২০১১ সালের ২২ জুলাই বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম। বিয়ের পর থেকে সেতারা বেগমের ওপর স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন নানাভাবে নির্র্যাতন করে আসছিল। এ অভিযোগ এনে গত ১ এপ্রিল নবী হোসেন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কক্সবাজারে একটি মামলা করেন।

এতে বলা হয়, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে নানাভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৫ মে ব্যবসার জন্য তার কাছ থেকে (নবী হোসেন) ১ লাখ টাকা এনে দিতে মেয়ে সেতারা বেগমকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এতে সেতারা বেগম অস্বীকৃতি জানালে স্বামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে হত্যা করে লাশ গুম করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার জেলাকে দায়িত্ব দেন।

পিবিআই কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দায়িত্ব প্রদানের পর পিবিআই মামলার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে বিবাদীদের মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার জন্য এ মামলা করেছে মর্মে পিবিআইয়ের কাছে প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিবিআই সেতারা বেগম ও তার মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে উদ্ধারে অভিযানে নামে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় কক্সবাজারের পিবিআই সদস্যরা তিন দিন ধরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালান। অবশেষে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে আত্মগোপনে থাকা পতেঙ্গা থানাধীন স্টিল মিল বাজারের কাছে টিএসপি গেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়েকে।

সেতারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, স্বামী তাকে নির্যাতনের কারণে তিনি শিশু মেয়েকে নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মা-মেয়েকে হত্যা করে গুমের এক বছর পর জীবিত উদ্ধার

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ও ৬ বছরের মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার এক বছরের মাথায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজারের টিএসপি গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর মা ও মেয়েকে শনিবার সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে পিবিআই।

চকরিয়ার বড়ইতলী ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়া গ্রামের নবী হোসেনের মেয়ে সেতারা বেগমকে ২০১১ সালের ২২ জুলাই বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম। বিয়ের পর থেকে সেতারা বেগমের ওপর স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন নানাভাবে নির্র্যাতন করে আসছিল। এ অভিযোগ এনে গত ১ এপ্রিল নবী হোসেন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কক্সবাজারে একটি মামলা করেন।

এতে বলা হয়, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে নানাভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৫ মে ব্যবসার জন্য তার কাছ থেকে (নবী হোসেন) ১ লাখ টাকা এনে দিতে মেয়ে সেতারা বেগমকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এতে সেতারা বেগম অস্বীকৃতি জানালে স্বামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে হত্যা করে লাশ গুম করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার জেলাকে দায়িত্ব দেন।

পিবিআই কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দায়িত্ব প্রদানের পর পিবিআই মামলার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে বিবাদীদের মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার জন্য এ মামলা করেছে মর্মে পিবিআইয়ের কাছে প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিবিআই সেতারা বেগম ও তার মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে উদ্ধারে অভিযানে নামে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় কক্সবাজারের পিবিআই সদস্যরা তিন দিন ধরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালান। অবশেষে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে আত্মগোপনে থাকা পতেঙ্গা থানাধীন স্টিল মিল বাজারের কাছে টিএসপি গেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়েকে।

সেতারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, স্বামী তাকে নির্যাতনের কারণে তিনি শিশু মেয়েকে নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যান।