ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

এলাকায় উন্নয়নের সঠিক তদারকি করাতে হবে: ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে এলাকায় উন্নয়ন কাজ বা সরকারি সেবায় দুর্নীতি হচ্ছে কি না, ঠিকভাবে চলছে কি না, সেটি তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনের সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের দুই দিনের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রায়ই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নাম এসেছে। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রাণঘাতি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আর মূল সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও এসেছে।

বর্তমান সরকারের আমলেই সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির ঘটনায় বহু ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিচার হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে শুরু করে ফাঁসির আদেশও এসেছে খুনের ঘটনায়।

আর এসব সমালোচনা থেকে উত্তরণে এবারের জাতীয় সম্মেলনে নতুন মডেলের ছাত্রলীগ করার ঘোষণা এসেছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

সম্মেলনে যোগ দিয়ে ছাত্রলীগের কী কী করা উচিত, সেটা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো রকম দুর্নীতি হচ্ছে কি না, সেটা লক্ষ্য রাখা, কাজগুলো মানসম্মত হচ্ছে কি না, সেটা একটু দেখা।’

‘অর্থাৎ, নিজের নেতৃত্বের জন্য কেউ নেতা বানিয়ে তুলে দিলে চলবে না। নিজের কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করেই নেতৃত্ব অর্জন করতে হয়।’

‘সেদিকে লক্ষ্য রেখেই জনগণের যে সমস্ত সমস্যা সেগুলোকে আগে থেকে ছোটবেলা থেকেই যদি সেটা জানা যায়, আর সেটাকে সমাধান করা যায় তাহলে বড় হলে অনেক বড় নেতা হতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি করছি। নিজের এলাকায় গেলে, নিজের গ্রামে গেলে এটা সঠিকভাবে চলছে কি না, ছাত্রনেতা হিসেবে নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে হলে মানুষের সমস্যাগুলো দেখার দরকার। সেটা দেখতে হবে।’

‘আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। সেখানে মানুষ সেবা পাচ্ছে, দরকার হলে সেখানে গিয়ে ভলান্টিয়ার সার্ভিস দেয়া বা সুষ্ঠুভাবে সেটা চলছে কি না, সেটা একটু দেখা।’

বেলা চারটার দিকে সম্মেলন স্থলে আসেন শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় দিন আগামী দুই বছরের জন্য নেতা নির্বাচন হবে। ভোটাভোটির বদলে সমঝোতায় নেতৃত্ব নির্বাচনের নির্দেশ দেন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে।

দীর্ঘ বক্তব্যে শেখ হাসিনা ভাষা আন্দোলন, স্বাধীকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জল ইতিহাস তুলে ধরে সংগঠনটিকে ধন্যবাদ জানান।

সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে ভালোভাবে পড়াশোনা, দেশ গড়া, জনসেবায় মনোনিবেশের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলেন তিনি।

সেই সঙ্গে নিজের ক্যাম্পাস এবং নিজের জায়গায় ফুলের গাছ বা একটু বৃক্ষ রোপন করতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদেরকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

‘পাশাপাশি ছাত্রলীগের ছেলে মেয়েরা পরীক্ষার পর যে সময়টা থাকে, নিজ নিজ এলাকায় গেলে, সেখানে যদি একটা ছেলে মেয়ে নিরক্ষর থাকে, বা একজন বয়স্ক যদি নিরক্ষর থাকে, তকে অক্ষরজ্ঞান দেয়া, এটা নিজের দায়িত্ব বলে মনে করতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলাকায় উন্নয়নের সঠিক তদারকি করাতে হবে: ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে এলাকায় উন্নয়ন কাজ বা সরকারি সেবায় দুর্নীতি হচ্ছে কি না, ঠিকভাবে চলছে কি না, সেটি তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনের সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের দুই দিনের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রায়ই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নাম এসেছে। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রাণঘাতি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আর মূল সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও এসেছে।

বর্তমান সরকারের আমলেই সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির ঘটনায় বহু ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিচার হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে শুরু করে ফাঁসির আদেশও এসেছে খুনের ঘটনায়।

আর এসব সমালোচনা থেকে উত্তরণে এবারের জাতীয় সম্মেলনে নতুন মডেলের ছাত্রলীগ করার ঘোষণা এসেছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

সম্মেলনে যোগ দিয়ে ছাত্রলীগের কী কী করা উচিত, সেটা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো রকম দুর্নীতি হচ্ছে কি না, সেটা লক্ষ্য রাখা, কাজগুলো মানসম্মত হচ্ছে কি না, সেটা একটু দেখা।’

‘অর্থাৎ, নিজের নেতৃত্বের জন্য কেউ নেতা বানিয়ে তুলে দিলে চলবে না। নিজের কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করেই নেতৃত্ব অর্জন করতে হয়।’

‘সেদিকে লক্ষ্য রেখেই জনগণের যে সমস্ত সমস্যা সেগুলোকে আগে থেকে ছোটবেলা থেকেই যদি সেটা জানা যায়, আর সেটাকে সমাধান করা যায় তাহলে বড় হলে অনেক বড় নেতা হতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি করছি। নিজের এলাকায় গেলে, নিজের গ্রামে গেলে এটা সঠিকভাবে চলছে কি না, ছাত্রনেতা হিসেবে নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে হলে মানুষের সমস্যাগুলো দেখার দরকার। সেটা দেখতে হবে।’

‘আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। সেখানে মানুষ সেবা পাচ্ছে, দরকার হলে সেখানে গিয়ে ভলান্টিয়ার সার্ভিস দেয়া বা সুষ্ঠুভাবে সেটা চলছে কি না, সেটা একটু দেখা।’

বেলা চারটার দিকে সম্মেলন স্থলে আসেন শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় দিন আগামী দুই বছরের জন্য নেতা নির্বাচন হবে। ভোটাভোটির বদলে সমঝোতায় নেতৃত্ব নির্বাচনের নির্দেশ দেন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে।

দীর্ঘ বক্তব্যে শেখ হাসিনা ভাষা আন্দোলন, স্বাধীকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জল ইতিহাস তুলে ধরে সংগঠনটিকে ধন্যবাদ জানান।

সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে ভালোভাবে পড়াশোনা, দেশ গড়া, জনসেবায় মনোনিবেশের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলেন তিনি।

সেই সঙ্গে নিজের ক্যাম্পাস এবং নিজের জায়গায় ফুলের গাছ বা একটু বৃক্ষ রোপন করতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদেরকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

‘পাশাপাশি ছাত্রলীগের ছেলে মেয়েরা পরীক্ষার পর যে সময়টা থাকে, নিজ নিজ এলাকায় গেলে, সেখানে যদি একটা ছেলে মেয়ে নিরক্ষর থাকে, বা একজন বয়স্ক যদি নিরক্ষর থাকে, তকে অক্ষরজ্ঞান দেয়া, এটা নিজের দায়িত্ব বলে মনে করতে হবে।’