ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসএসসি জানুয়ারিতে এইচএসসি এপ্রিলে করার পক্ষে মত গুলি করে ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই: ‎জামায়াত এমপির ভাগ্নে কারাগারে এক মাস বয়সি শিশুকে টিকার পরিবর্তে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন ইমরান খান পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সংকট কাটলে টিকার বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিলিপাইনের সিনেটে গোলাগুলি, সিনেটরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টর হিসেবে চায় ইরান চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প, স্বাগত জানালেন ভাইস প্রেসিডেন্ট

ব্রিটেনে বাংলাদেশিসহ ১৮ যৌন নিপীড়ক দোষী সাব্যস্ত

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিসহ একটি যৌন নিপীড়ক চক্রের ১৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে স্থানীয় একটি আদালত। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসলে একটি অপরাধ চক্রের এক নারী ও ১৭ পুরুষ সদস্যরা দোষী প্রমাণিত হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

মদ বা মাদক সেবন করে নারী ও কিশোরীদের যৌন নিপীড়ন এবং ধর্ষণ করত ওই চক্রটি। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ওই চক্রটি ধর্ষণ, মানব পাচার, পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা এবং মাদক পাচারের মত প্রায় একশ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।

যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, মানব পাচার বা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে এমন নারীদের বয়স ১৩ থেকে ২৫। তাদেরকে টার্গেট করা হতো কারণ এই বয়সের নারীরা ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারবে না। তাদের জোর করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করতে বাধ্য করা হতো।

ওই চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা বহু নারীকে অজ্ঞান করে বা মাদক সেবন করিয়ে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ করেছে। অনেক নারীকে তাদের অজান্তেই পাচারও করে দেয়া হয়েছে। ওই চক্রটির হাত থেকে শিশুরাও রক্ষা পায়নি। তারা শিশুদেরও নিপীড়ন করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশি, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, ইরান এবং তুরস্কের বেশ কয়েকজন নাগরিক ওই যৌন নিপীড়ক চক্রের সদস্য।

২০১৪ সালের এপ্রিলে ১৮ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হন। মেফেড্রোন দিয়ে তাকে অবচেতন করা হয়। যখন জ্ঞান ফেরে তখন তিনি নিজেকে একটি ঘরে দেখতে পান। সেখানে রহিম নামের একজন তাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। এরকম বহু অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে ওই অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগই বেশি।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের ওপর কোনো ধরনের সম্মান দেখায়নি যৌন নিপীড়ক চক্র। তারা কম বয়সী নারীদেরই টার্গেট করেছিল কারণ এতে করে তাদের কাজটা অনেক সহজ হতো।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে অপারেশন শেল্টারের কাছে এক তরুণী এবং ১৪ ও ১৫ বছরের দুই কিশোরী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করার পরই যৌন নিপীড়ক চক্রের অপরাধের বিষয়টি সামনে আসে। পরে ২০১৫ সালে ওই চক্রটির বিরুদ্ধে প্রথম চার্জ গঠন করা হয়।

যৌন নিপীড়ক চক্রের সদস্য ক্যারোলান গ্যালোন (২৩) নামের এক নারীও নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি নারী ও শিশুদের পাচার করতেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি জানুয়ারিতে এইচএসসি এপ্রিলে করার পক্ষে মত

ব্রিটেনে বাংলাদেশিসহ ১৮ যৌন নিপীড়ক দোষী সাব্যস্ত

আপডেট সময় ০৭:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিসহ একটি যৌন নিপীড়ক চক্রের ১৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে স্থানীয় একটি আদালত। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসলে একটি অপরাধ চক্রের এক নারী ও ১৭ পুরুষ সদস্যরা দোষী প্রমাণিত হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

মদ বা মাদক সেবন করে নারী ও কিশোরীদের যৌন নিপীড়ন এবং ধর্ষণ করত ওই চক্রটি। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ওই চক্রটি ধর্ষণ, মানব পাচার, পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা এবং মাদক পাচারের মত প্রায় একশ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।

যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, মানব পাচার বা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে এমন নারীদের বয়স ১৩ থেকে ২৫। তাদেরকে টার্গেট করা হতো কারণ এই বয়সের নারীরা ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারবে না। তাদের জোর করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করতে বাধ্য করা হতো।

ওই চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা বহু নারীকে অজ্ঞান করে বা মাদক সেবন করিয়ে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ করেছে। অনেক নারীকে তাদের অজান্তেই পাচারও করে দেয়া হয়েছে। ওই চক্রটির হাত থেকে শিশুরাও রক্ষা পায়নি। তারা শিশুদেরও নিপীড়ন করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশি, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, ইরান এবং তুরস্কের বেশ কয়েকজন নাগরিক ওই যৌন নিপীড়ক চক্রের সদস্য।

২০১৪ সালের এপ্রিলে ১৮ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হন। মেফেড্রোন দিয়ে তাকে অবচেতন করা হয়। যখন জ্ঞান ফেরে তখন তিনি নিজেকে একটি ঘরে দেখতে পান। সেখানে রহিম নামের একজন তাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। এরকম বহু অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে ওই অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগই বেশি।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের ওপর কোনো ধরনের সম্মান দেখায়নি যৌন নিপীড়ক চক্র। তারা কম বয়সী নারীদেরই টার্গেট করেছিল কারণ এতে করে তাদের কাজটা অনেক সহজ হতো।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে অপারেশন শেল্টারের কাছে এক তরুণী এবং ১৪ ও ১৫ বছরের দুই কিশোরী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করার পরই যৌন নিপীড়ক চক্রের অপরাধের বিষয়টি সামনে আসে। পরে ২০১৫ সালে ওই চক্রটির বিরুদ্ধে প্রথম চার্জ গঠন করা হয়।

যৌন নিপীড়ক চক্রের সদস্য ক্যারোলান গ্যালোন (২৩) নামের এক নারীও নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি নারী ও শিশুদের পাচার করতেন।