ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী অহংকারী মনোভাব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস এমপিরা পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ বস্ত্র খাত পুনরুজ্জীবনে গভর্নরকে বিটিএমএ’র ১০ দফা প্রস্তাব থানায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করল পুলিশ কাতারের সাবেক আমিরের স্মরণে রাজধানীতে সড়কের নামকরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জুলাইকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

ব্রিটেনে বাংলাদেশিসহ ১৮ যৌন নিপীড়ক দোষী সাব্যস্ত

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিসহ একটি যৌন নিপীড়ক চক্রের ১৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে স্থানীয় একটি আদালত। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসলে একটি অপরাধ চক্রের এক নারী ও ১৭ পুরুষ সদস্যরা দোষী প্রমাণিত হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

মদ বা মাদক সেবন করে নারী ও কিশোরীদের যৌন নিপীড়ন এবং ধর্ষণ করত ওই চক্রটি। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ওই চক্রটি ধর্ষণ, মানব পাচার, পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা এবং মাদক পাচারের মত প্রায় একশ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।

যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, মানব পাচার বা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে এমন নারীদের বয়স ১৩ থেকে ২৫। তাদেরকে টার্গেট করা হতো কারণ এই বয়সের নারীরা ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারবে না। তাদের জোর করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করতে বাধ্য করা হতো।

ওই চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা বহু নারীকে অজ্ঞান করে বা মাদক সেবন করিয়ে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ করেছে। অনেক নারীকে তাদের অজান্তেই পাচারও করে দেয়া হয়েছে। ওই চক্রটির হাত থেকে শিশুরাও রক্ষা পায়নি। তারা শিশুদেরও নিপীড়ন করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশি, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, ইরান এবং তুরস্কের বেশ কয়েকজন নাগরিক ওই যৌন নিপীড়ক চক্রের সদস্য।

২০১৪ সালের এপ্রিলে ১৮ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হন। মেফেড্রোন দিয়ে তাকে অবচেতন করা হয়। যখন জ্ঞান ফেরে তখন তিনি নিজেকে একটি ঘরে দেখতে পান। সেখানে রহিম নামের একজন তাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। এরকম বহু অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে ওই অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগই বেশি।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের ওপর কোনো ধরনের সম্মান দেখায়নি যৌন নিপীড়ক চক্র। তারা কম বয়সী নারীদেরই টার্গেট করেছিল কারণ এতে করে তাদের কাজটা অনেক সহজ হতো।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে অপারেশন শেল্টারের কাছে এক তরুণী এবং ১৪ ও ১৫ বছরের দুই কিশোরী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করার পরই যৌন নিপীড়ক চক্রের অপরাধের বিষয়টি সামনে আসে। পরে ২০১৫ সালে ওই চক্রটির বিরুদ্ধে প্রথম চার্জ গঠন করা হয়।

যৌন নিপীড়ক চক্রের সদস্য ক্যারোলান গ্যালোন (২৩) নামের এক নারীও নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি নারী ও শিশুদের পাচার করতেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ

ব্রিটেনে বাংলাদেশিসহ ১৮ যৌন নিপীড়ক দোষী সাব্যস্ত

আপডেট সময় ০৭:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিসহ একটি যৌন নিপীড়ক চক্রের ১৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে স্থানীয় একটি আদালত। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসলে একটি অপরাধ চক্রের এক নারী ও ১৭ পুরুষ সদস্যরা দোষী প্রমাণিত হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

মদ বা মাদক সেবন করে নারী ও কিশোরীদের যৌন নিপীড়ন এবং ধর্ষণ করত ওই চক্রটি। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ওই চক্রটি ধর্ষণ, মানব পাচার, পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা এবং মাদক পাচারের মত প্রায় একশ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।

যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, মানব পাচার বা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে এমন নারীদের বয়স ১৩ থেকে ২৫। তাদেরকে টার্গেট করা হতো কারণ এই বয়সের নারীরা ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারবে না। তাদের জোর করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করতে বাধ্য করা হতো।

ওই চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা বহু নারীকে অজ্ঞান করে বা মাদক সেবন করিয়ে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ করেছে। অনেক নারীকে তাদের অজান্তেই পাচারও করে দেয়া হয়েছে। ওই চক্রটির হাত থেকে শিশুরাও রক্ষা পায়নি। তারা শিশুদেরও নিপীড়ন করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশি, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, ইরান এবং তুরস্কের বেশ কয়েকজন নাগরিক ওই যৌন নিপীড়ক চক্রের সদস্য।

২০১৪ সালের এপ্রিলে ১৮ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হন। মেফেড্রোন দিয়ে তাকে অবচেতন করা হয়। যখন জ্ঞান ফেরে তখন তিনি নিজেকে একটি ঘরে দেখতে পান। সেখানে রহিম নামের একজন তাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। এরকম বহু অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে ওই অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগই বেশি।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের ওপর কোনো ধরনের সম্মান দেখায়নি যৌন নিপীড়ক চক্র। তারা কম বয়সী নারীদেরই টার্গেট করেছিল কারণ এতে করে তাদের কাজটা অনেক সহজ হতো।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে অপারেশন শেল্টারের কাছে এক তরুণী এবং ১৪ ও ১৫ বছরের দুই কিশোরী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করার পরই যৌন নিপীড়ক চক্রের অপরাধের বিষয়টি সামনে আসে। পরে ২০১৫ সালে ওই চক্রটির বিরুদ্ধে প্রথম চার্জ গঠন করা হয়।

যৌন নিপীড়ক চক্রের সদস্য ক্যারোলান গ্যালোন (২৩) নামের এক নারীও নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি নারী ও শিশুদের পাচার করতেন।