ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

খুলনায় খালেকের পক্ষে বিএনপির একাংশ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি করপোরশন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের পাশাপাশি দলের একাংশের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হচ্ছে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে।

বিএনপি সমর্থিত একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী, দলের সমর্থন না পেয়েও কাউন্সিলর পদে লড়াই করা কয়েকজন বিএনপি নেতার মেয়র পদে পছন্দ নৌকা মার্কার প্রার্থীকে।

এ নিয়ে খুলনায় বিএনপি শিবিরে উত্তেজনা, চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। সচরাচর ক্ষমতাসীনদের মধ্যে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো কোনো নেতার অবস্থান নেয়ার ঘটনা ঘটলেও খুলনায় উল্টোচিত্র হতবাক বিএনপি। এরই মধ্যে দল সমর্থিত একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে তারা।

খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ হাফিজুর রহমান, ১৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান বিশ্বাস (বিএনপির সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী), নগর বিএনপি নেতা আরিফুর রহমান মিঠু, ১৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোদাচ্ছের হোসেন বাবুল (বিএনপির সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী), ১২নং ওয়ার্ডের মনিরুজ্জামান মনি (বিএনপির সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী), ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম মওলা শানু মোল্লা, ২০নং ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী গাউসুল আজম, ১৯নং ওয়ার্ডের বিএনপি প্রার্থী আশফাকুর রহমান কাকন, যুবদল নেতা আক্কাস আলীসহ বেশ কিছু নেতা মঞ্জুর পক্ষে কাজ করছেন না।

তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে ও গোপনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন বলে তথ্য আছে বিএনপিতে। এনিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গত ৫ মে নগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ হাফিজুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের চিঠির অনুলিপি মহানগর বিএনপির সভাপতি মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির কাছে পাঠানো হয়।

শেখ হাফিজুর রহমান ১৭নং ওয়ার্ডে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান করপোরেশনে প্যানেল মেয়রের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

শেখ হাফিজ তালুকদার সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুল খালেকের কয়েকটি সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। একটি বৈঠকে তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটির উন্নয়নে খালেক তালুকদারের বিকল্প নেই। যা গত ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মেয়াদে আমি প্রত্যক্ষ করেছি।’

আনিছুর রহমান বিশ্বাস ও বিএনপির সমর্থনে ১৬নং ওয়ার্ডে একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সিটি করপোরেশনের ১নং প্যানেল মেয়র ছিলেন। এবার নির্বাচনে তাকে বিএনপি সমর্থন দেয়নি। একারণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনিও এবার প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন।

নগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও খালিশপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মিঠুর সঙ্গে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মঞ্জুর অনেক আগে থেকেই প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

দ্বন্দ্ব সংঘাতের এক পর্যায়ে মিঠুকে নগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে বহিষ্কার করে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় তাদের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনের দাবি করছে বিএনপি।

তবে এখন পর্যন্ত মিঠুর অনুসারীরা মঞ্জুর ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামেনি। বরং তারা গোপনে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

খুলনা-২ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি আলী আসগর লবী ও মঞ্জুর মধ্যে বিরাজমান পাল্টা-পাল্টি গ্রুপের একটি অংশের নেতৃত্বে যুবদল নেতা আক্কাস আলী। তিনিও তার অনুসারীদের নিয়ে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

২৬নং ওয়ার্ডের বার বার নির্বাচিত কাউন্সিলর গোলাম মওলা শানু এ সময় শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। এবারও তিনি কাউন্সিলর প্রার্থী। নিজের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তিনি মেয়র পদে খালেকের নৌকায়ও ভোট দেয়ারও আহ্বান জানাচ্ছেন।

১৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোদাচ্ছের হোসেন বাবুল, ১২নং ওয়ার্ডের মনিরুজ্জামান মনি এবার বিএনপির সমর্থন না পেয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘যারা দলের প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করছেন, তা কেন্দ্রীয় নেতারা খুলনায় থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। এবিষয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

খুলনায় খালেকের পক্ষে বিএনপির একাংশ

আপডেট সময় ০৩:১৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি করপোরশন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের পাশাপাশি দলের একাংশের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হচ্ছে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে।

বিএনপি সমর্থিত একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী, দলের সমর্থন না পেয়েও কাউন্সিলর পদে লড়াই করা কয়েকজন বিএনপি নেতার মেয়র পদে পছন্দ নৌকা মার্কার প্রার্থীকে।

এ নিয়ে খুলনায় বিএনপি শিবিরে উত্তেজনা, চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। সচরাচর ক্ষমতাসীনদের মধ্যে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো কোনো নেতার অবস্থান নেয়ার ঘটনা ঘটলেও খুলনায় উল্টোচিত্র হতবাক বিএনপি। এরই মধ্যে দল সমর্থিত একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে তারা।

খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ হাফিজুর রহমান, ১৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান বিশ্বাস (বিএনপির সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী), নগর বিএনপি নেতা আরিফুর রহমান মিঠু, ১৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোদাচ্ছের হোসেন বাবুল (বিএনপির সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী), ১২নং ওয়ার্ডের মনিরুজ্জামান মনি (বিএনপির সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী), ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম মওলা শানু মোল্লা, ২০নং ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী গাউসুল আজম, ১৯নং ওয়ার্ডের বিএনপি প্রার্থী আশফাকুর রহমান কাকন, যুবদল নেতা আক্কাস আলীসহ বেশ কিছু নেতা মঞ্জুর পক্ষে কাজ করছেন না।

তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে ও গোপনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন বলে তথ্য আছে বিএনপিতে। এনিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গত ৫ মে নগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ হাফিজুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের চিঠির অনুলিপি মহানগর বিএনপির সভাপতি মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির কাছে পাঠানো হয়।

শেখ হাফিজুর রহমান ১৭নং ওয়ার্ডে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান করপোরেশনে প্যানেল মেয়রের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

শেখ হাফিজ তালুকদার সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুল খালেকের কয়েকটি সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। একটি বৈঠকে তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটির উন্নয়নে খালেক তালুকদারের বিকল্প নেই। যা গত ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মেয়াদে আমি প্রত্যক্ষ করেছি।’

আনিছুর রহমান বিশ্বাস ও বিএনপির সমর্থনে ১৬নং ওয়ার্ডে একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সিটি করপোরেশনের ১নং প্যানেল মেয়র ছিলেন। এবার নির্বাচনে তাকে বিএনপি সমর্থন দেয়নি। একারণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনিও এবার প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন।

নগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও খালিশপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মিঠুর সঙ্গে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মঞ্জুর অনেক আগে থেকেই প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

দ্বন্দ্ব সংঘাতের এক পর্যায়ে মিঠুকে নগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে বহিষ্কার করে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় তাদের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনের দাবি করছে বিএনপি।

তবে এখন পর্যন্ত মিঠুর অনুসারীরা মঞ্জুর ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামেনি। বরং তারা গোপনে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

খুলনা-২ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি আলী আসগর লবী ও মঞ্জুর মধ্যে বিরাজমান পাল্টা-পাল্টি গ্রুপের একটি অংশের নেতৃত্বে যুবদল নেতা আক্কাস আলী। তিনিও তার অনুসারীদের নিয়ে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

২৬নং ওয়ার্ডের বার বার নির্বাচিত কাউন্সিলর গোলাম মওলা শানু এ সময় শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। এবারও তিনি কাউন্সিলর প্রার্থী। নিজের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তিনি মেয়র পদে খালেকের নৌকায়ও ভোট দেয়ারও আহ্বান জানাচ্ছেন।

১৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোদাচ্ছের হোসেন বাবুল, ১২নং ওয়ার্ডের মনিরুজ্জামান মনি এবার বিএনপির সমর্থন না পেয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘যারা দলের প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করছেন, তা কেন্দ্রীয় নেতারা খুলনায় থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। এবিষয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’