ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে: প্রধান উপদেষ্টা এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন এখন আর নেই: জামায়াত আমির সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হচ্ছে সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে সব সাইজ হয়ে যাবে, ঢাকায় কোনো সিট দেব না বলে জামায়াত প্রার্থী হুঙ্কার দিয়েছেন খালিদুজ্জামান ‘গুণ্ডামির কাছে আমরা মাথা নত করি না’: ইমানুয়েল মাক্রোঁ রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী হতো না: উপদেষ্টা সাখাওয়াত জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজোর হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফ্রান্সে কোরআনের আয়াত মুছে ফেলতে সারকোজির সমর্থন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

লে পারিসিয়েন নামে এক ফরাসি পত্রিকায়, গত রোববার একটি খোলা চিঠি ছাপা হয়েছে। চিঠিতে পবিত্র কোরআন শরিফের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

দাবি করা হয়েছে, ‘বিদ্বেষমূলক’আয়াতগুলো কোরআন শরিফ থেকে মুছে ফেলার জন্য। আর এমন একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করে সমর্থন জানিয়েছেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি। তার সঙ্গে আছেন জনপ্রিয় ফরাসী অভিনেতা জেরার্ড দেপার্দিউসহ ৩০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। চিঠিতে দাবি করা হয়, সম্প্রতি ফ্রান্সে ১১ জন ইহুদি খুন হয়েছে। এগুলোর জন্য দায়ী করা হয়, মুসলিম উগ্রবাদীদের। মিরিয়েলে নল নামে ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের উল্লেখ করা হয়, যাকে গত মাসে নিজ বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এটাকেও মুসলিমদের কাজ বলে দাবি করা হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিত চিঠি নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মুসলিম নেতারা। প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম দালিল বুবাকেউর বলেন, এই চিঠিতেই বিভেদ আর বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। ইহুদি বিদ্বেষ অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। কিন্তু মুসলিমদের টার্গেট বানানোও ঠিক নয়।

বোর্দো শহরের প্রধান মসজিদের ইমাম তারেক ওব্রোউ বলেন, সংঘাত-সহিংসতার কথা অনেক ধর্মগ্রন্থেই আছে। কিন্তু শুধু মুসলিমদেরই দোষারোপ করা হয় কেন?

কোরআনের আয়াত বাদ দেয়ার যে দাবি উঠেছে, তার তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের ইসলামের বিষয়ে ‘মূর্খ’ বলে অভিহিত করেছেন অনেকে। কেউ লিখেছেন, “রংধনু থেকে যেমন কোন একটি রং কেড়ে নেয়া চলে না, তেমনি কোরআন থেকে কোনো আয়াত মুছে ফেলা সম্ভব নয়।”

এদিকে ইহুদিদেরই একটি সংগঠন ‘দ্য ইউনিয়ন অফ ফ্রেঞ্চ জিউস ফর পিস’ চিঠির প্রতিবাদে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে সব ধরনের ইসলাম বিদ্বেষের সমালোচনা করা হয়। ফ্রান্সের ইহুদিদের নিয়ে চিন্তিত হলেও, ফিলিস্তিনে যে জাতিগত নিধন চলছে, সে বিষয়ে নীরব থাকার জন্য নিন্দা জানানো হয় চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের। বলা হয়, ইসরায়েলের সমালোচনাকেই ইহুদি বিদ্বেষ বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছে একটি গোষ্ঠী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে: প্রধান উপদেষ্টা

ফ্রান্সে কোরআনের আয়াত মুছে ফেলতে সারকোজির সমর্থন

আপডেট সময় ০৭:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

লে পারিসিয়েন নামে এক ফরাসি পত্রিকায়, গত রোববার একটি খোলা চিঠি ছাপা হয়েছে। চিঠিতে পবিত্র কোরআন শরিফের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

দাবি করা হয়েছে, ‘বিদ্বেষমূলক’আয়াতগুলো কোরআন শরিফ থেকে মুছে ফেলার জন্য। আর এমন একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করে সমর্থন জানিয়েছেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি। তার সঙ্গে আছেন জনপ্রিয় ফরাসী অভিনেতা জেরার্ড দেপার্দিউসহ ৩০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। চিঠিতে দাবি করা হয়, সম্প্রতি ফ্রান্সে ১১ জন ইহুদি খুন হয়েছে। এগুলোর জন্য দায়ী করা হয়, মুসলিম উগ্রবাদীদের। মিরিয়েলে নল নামে ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের উল্লেখ করা হয়, যাকে গত মাসে নিজ বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এটাকেও মুসলিমদের কাজ বলে দাবি করা হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিত চিঠি নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মুসলিম নেতারা। প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম দালিল বুবাকেউর বলেন, এই চিঠিতেই বিভেদ আর বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। ইহুদি বিদ্বেষ অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। কিন্তু মুসলিমদের টার্গেট বানানোও ঠিক নয়।

বোর্দো শহরের প্রধান মসজিদের ইমাম তারেক ওব্রোউ বলেন, সংঘাত-সহিংসতার কথা অনেক ধর্মগ্রন্থেই আছে। কিন্তু শুধু মুসলিমদেরই দোষারোপ করা হয় কেন?

কোরআনের আয়াত বাদ দেয়ার যে দাবি উঠেছে, তার তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের ইসলামের বিষয়ে ‘মূর্খ’ বলে অভিহিত করেছেন অনেকে। কেউ লিখেছেন, “রংধনু থেকে যেমন কোন একটি রং কেড়ে নেয়া চলে না, তেমনি কোরআন থেকে কোনো আয়াত মুছে ফেলা সম্ভব নয়।”

এদিকে ইহুদিদেরই একটি সংগঠন ‘দ্য ইউনিয়ন অফ ফ্রেঞ্চ জিউস ফর পিস’ চিঠির প্রতিবাদে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে সব ধরনের ইসলাম বিদ্বেষের সমালোচনা করা হয়। ফ্রান্সের ইহুদিদের নিয়ে চিন্তিত হলেও, ফিলিস্তিনে যে জাতিগত নিধন চলছে, সে বিষয়ে নীরব থাকার জন্য নিন্দা জানানো হয় চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের। বলা হয়, ইসরায়েলের সমালোচনাকেই ইহুদি বিদ্বেষ বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছে একটি গোষ্ঠী।