ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ হাসনাত আব্দুল্লাহর আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা কৌশলের অজুহাতে বিএনপি কোনো গোপন বেশ ধারণ করেনি: তারেক রহমান

মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ মামলায় রায় ঘোষণার পর বিচারকের পদত্যাগ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীকে খালাস দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পদত্যাগ করেছেন মামলার বিচারক।

দীর্ঘ ১১ বছর পর সোমবার বিকালে ওই মামলার রায় দেন বিচারক রবীন্দ্র রেড্ডি।

রায়ে তিনি বলেন, ভারতের শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) অভিযুক্তদের কারও অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি। প্রমাণের অভাবেই তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।

২০০৭ সালের ১৮ মে জুমার নামাজের সময় ওই বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সবাই ‘অভিনব ভারত’ নামে একটি কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য।

তাদের অন্যতম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার গেরুয়াধারী সন্ন্যাসী অসীমানন্দ। তিনি একসময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএসের সদস্য ছিলেন। সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের আগে তার নাম ছিল নবকুমার সরকার।

তিনি বহুদিন পশ্চিম ও মধ্য ভারতে আদিবাসীদের মধ্যে কাজ করেছেন। মক্কা মসজিদ, আজমির শরিফ ও সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের তিনটি ঘটনাতেই তিনি মূল অভিযুক্ত।

এর মধ্যে সমঝোতা এক্সপ্রেস মামলায় অসীমানন্দ জামিনে আছেন। আর আজমির মামলায় খালাস পাওয়ার পর মক্কা মসজিদ হামলায়ও তাকে আদালত নির্দোষ ঘোষণা করলেন।

কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ এ রায়ের পর মন্তব্য করেছেন- সরকার যে নিজের ইচ্ছেমতো এসব সংস্থাকে ব্যবহার করছে, আজকের রায় তার আরও একটি প্রমাণ।

আজাদ বলেন, আমরা একের পর এক ঘটনায় দেখছি বিরোধী নেতাদের ভয় দেখাতে বা হেনস্তা করতে। সত্যিকে মিথ্যে বা মিথ্যেকে সত্যি বানাতে এসব সংস্থাকে সরকার কাজে লাগাচ্ছে। আর এটি চলছে এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত চার বছর ধরেই।

তিনি বলেন, এতদিন অন্তত বিচার বিভাগের ওপর মানুষের ভরসাটুকু ছিল- জানি না সেটিও এবার কোথায় যাবে!

হায়দরাবাদের এমপি আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও টুইট করে বলেন, মোদি সরকারের আমলে মক্কা মসজিদ মামলায় একের পর এক সাক্ষী বিগড়ে গেছেন, এমনকি রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতা পর্যন্ত করেনি।

বিজেপি অবশ্য এদিন রায় ঘোষণার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই দিল্লিতে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে, আজকের রায় কংগ্রেসি ষড়যন্ত্রের এক কড়া জবাব।

বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র সেখানে বলেন, কংগ্রেসের জয়পুর অধিবেশনে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার সিন্ধে হিন্দু সন্ত্রাসের কথা প্রথমবার উচ্চারণ করে হাজার কোটি বছরের হিন্দু সভ্যতাকে প্রথম অপমান করেছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমানের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী

মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ মামলায় রায় ঘোষণার পর বিচারকের পদত্যাগ

আপডেট সময় ০২:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীকে খালাস দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পদত্যাগ করেছেন মামলার বিচারক।

দীর্ঘ ১১ বছর পর সোমবার বিকালে ওই মামলার রায় দেন বিচারক রবীন্দ্র রেড্ডি।

রায়ে তিনি বলেন, ভারতের শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) অভিযুক্তদের কারও অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি। প্রমাণের অভাবেই তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।

২০০৭ সালের ১৮ মে জুমার নামাজের সময় ওই বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সবাই ‘অভিনব ভারত’ নামে একটি কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য।

তাদের অন্যতম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার গেরুয়াধারী সন্ন্যাসী অসীমানন্দ। তিনি একসময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএসের সদস্য ছিলেন। সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের আগে তার নাম ছিল নবকুমার সরকার।

তিনি বহুদিন পশ্চিম ও মধ্য ভারতে আদিবাসীদের মধ্যে কাজ করেছেন। মক্কা মসজিদ, আজমির শরিফ ও সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের তিনটি ঘটনাতেই তিনি মূল অভিযুক্ত।

এর মধ্যে সমঝোতা এক্সপ্রেস মামলায় অসীমানন্দ জামিনে আছেন। আর আজমির মামলায় খালাস পাওয়ার পর মক্কা মসজিদ হামলায়ও তাকে আদালত নির্দোষ ঘোষণা করলেন।

কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ এ রায়ের পর মন্তব্য করেছেন- সরকার যে নিজের ইচ্ছেমতো এসব সংস্থাকে ব্যবহার করছে, আজকের রায় তার আরও একটি প্রমাণ।

আজাদ বলেন, আমরা একের পর এক ঘটনায় দেখছি বিরোধী নেতাদের ভয় দেখাতে বা হেনস্তা করতে। সত্যিকে মিথ্যে বা মিথ্যেকে সত্যি বানাতে এসব সংস্থাকে সরকার কাজে লাগাচ্ছে। আর এটি চলছে এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত চার বছর ধরেই।

তিনি বলেন, এতদিন অন্তত বিচার বিভাগের ওপর মানুষের ভরসাটুকু ছিল- জানি না সেটিও এবার কোথায় যাবে!

হায়দরাবাদের এমপি আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও টুইট করে বলেন, মোদি সরকারের আমলে মক্কা মসজিদ মামলায় একের পর এক সাক্ষী বিগড়ে গেছেন, এমনকি রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতা পর্যন্ত করেনি।

বিজেপি অবশ্য এদিন রায় ঘোষণার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই দিল্লিতে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে, আজকের রায় কংগ্রেসি ষড়যন্ত্রের এক কড়া জবাব।

বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র সেখানে বলেন, কংগ্রেসের জয়পুর অধিবেশনে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার সিন্ধে হিন্দু সন্ত্রাসের কথা প্রথমবার উচ্চারণ করে হাজার কোটি বছরের হিন্দু সভ্যতাকে প্রথম অপমান করেছিলেন।