ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু:অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা আইএমএফের বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : পর্যটনমন্ত্রী বিএনপি ধর্ম-বর্ণের বিভেদে বিশ্বাস করে না: শামা ওবায়েদ সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর: মাহদী আমিন ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বন্যা-জলাবদ্ধতায় আ.লীগ, ইন্টেরিম ও বিএনপি সরকারের আচরণ একই: এবি পার্টি ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎসকি জুলাই আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে ব্যবস্থা: ডিএমপি

নতুনরাই খুলে দেবে নতুন দুয়ার

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

নারী-মা, নারী বোন, নারী প্রেমিকা, নারীই শিক্ষিকা সে নারীরাই আজ উদ্যোক্তা। বিশ্ব ‍এগিয়ে যাচ্ছে সফল নারীদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে।

তথ্য-প্রযুক্তিতে নারীদের সম্পৃক্ত করতে কাজ করছেন বেশি কিছু তরুণ নারী। নারী দিবসে আসুন জানি তাদেরই কয়েক জন সম্পর্কে:
নাসিমা আক্তার নিসা ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর জয়েন্ট সেক্রেটারি ও স্টার্ট-আপ রেভারি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ২০১০ সালে রেভেরি কর্পোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। ই-ক্যাবের দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে।

গত কয়েক বছরে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্লাটফর্মে ৭৫টিরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে নিশার প্রতিষ্ঠান রেভারি।

যার মধ্যে হাউ টু ওয়্যার এ শাড়ি, ম্যাচ মেকার, রক অ্যান্ড রোল, উন্মাদ, ফ্লপি বার্ড, পোসড এগগ, ক্যানভাস, এস্কেপবোর্ট, ক্রিকেট রেকর্ড-২০১১, হাউ মাচ ইউ নো বাংলাদেশ, ডেথ কিস, হলিউড ম্যানিয়াসহ বেশকিছু অ্যাপস দেশ ও দেশের বাইরে সুনাম কুড়িয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে এ কার্যক্রম বলেন নাসিমা আক্তার নিসা। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ছাড়াও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ স্টোর সার্ভিস, মোবাইল অ্যাপ মার্কেটিং, অ্যাপ স্টোর রিচার্স নিয়ে কাজ করছে রেভারি।

প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছেন আছিয়া খালেদা নীলা। কম্পিউটার প্রকৌশলী নীলা উইমেন ইন ডিজিটালের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘ দিন মাল্টিন্যাশনাল সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

নীলা বলেন, নয় বছরের বেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি মেয়েরা টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে চায় না অথবা তাদের করতে দেওয়া হয় না। নারীরা প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে, নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও তাদের এগিয়ে নিতেই প্রতিষ্ঠা করলাম উইমেন ইন ডিজিটাল।

এখানে নারী ডেভেলপাররাই নারীদের কেরিয়ার কাউন্সেলিং ও টেনিং দিয়ে থাকে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো “ন্যাশনাল হ্যাকাথন ফর উইমেন ২০১৭” নামে এবং টেক প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কনটেস্ট “ডিজিটাল ইনোভেশন চেলেঞ্জ ফর ওমেন” এর আয়োজন করে উইমেন ইন ডিজিটাল।

দেশে ১৮ টি জেলায় উইমেন ইন ডিজিটাল কাজ করছে। নীলা বিশ্বাস করেন, দেশের উন্নতি করতে হলে প্রথমে গ্রামের নারীদের রোজগারের ব্যবস্থা করতে হবে।

ওয়েবসাইট: www.womenindigital.net

সিফাত সারোয়ারসিফাত সারোয়ার শপআপ এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, কর্পোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে, শপআপ শুরু করেছিলাম, কারণ শুরু থেকেই বুঝতে পারছিলাম যে অনলাইন বিজনেস নারীদের জন্য অনেক বড় শক্তি হতে পারে। আমি বিশ্বাস করি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হলে অন্যান্য অনেক কিছুই সহজ হয়ে ‍যায়।

সিফাত আরও বলেন, ঘরে বসেই আয় করার ক্ষেত্রে এফ কমার্সএর তুলনাই হয়না। এফ কমার্স উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছি প্রায় দুই বছর। এখন আমাদের টিমে প্রায় ২২ জন লোক। আমাদের প্রত্যেকের ই লক্ষ্য এফ কমার্সে কাজ করা সফল নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাদের গল্পগুলো তুলে এনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করা।

প্রায় সাত হাজারের বেশি এফ কমার্স উদ্যোক্তাকে শপআপ, ইনভেস্টমেন্ট, ডেলিভারি, প্রচার, ইত্যাদি পেতে সাহায্য করছে। আশা করি শীঘ্রই আরও অনেক নারী উদ্যোক্তাকে আমাদের প্লাটফর্মে যুক্ত করে তাদেরকে এগিয়ে যাবার মতো সহযোগিতা আর মানসিক শক্তি দিয়ে যেতে পারবো।

আমরা বিশ্বাস করি জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীরা সফল হলেই বাংলাদেশ সফল হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নতুনরাই খুলে দেবে নতুন দুয়ার

আপডেট সময় ০৮:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

নারী-মা, নারী বোন, নারী প্রেমিকা, নারীই শিক্ষিকা সে নারীরাই আজ উদ্যোক্তা। বিশ্ব ‍এগিয়ে যাচ্ছে সফল নারীদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে।

তথ্য-প্রযুক্তিতে নারীদের সম্পৃক্ত করতে কাজ করছেন বেশি কিছু তরুণ নারী। নারী দিবসে আসুন জানি তাদেরই কয়েক জন সম্পর্কে:
নাসিমা আক্তার নিসা ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর জয়েন্ট সেক্রেটারি ও স্টার্ট-আপ রেভারি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ২০১০ সালে রেভেরি কর্পোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। ই-ক্যাবের দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে।

গত কয়েক বছরে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্লাটফর্মে ৭৫টিরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে নিশার প্রতিষ্ঠান রেভারি।

যার মধ্যে হাউ টু ওয়্যার এ শাড়ি, ম্যাচ মেকার, রক অ্যান্ড রোল, উন্মাদ, ফ্লপি বার্ড, পোসড এগগ, ক্যানভাস, এস্কেপবোর্ট, ক্রিকেট রেকর্ড-২০১১, হাউ মাচ ইউ নো বাংলাদেশ, ডেথ কিস, হলিউড ম্যানিয়াসহ বেশকিছু অ্যাপস দেশ ও দেশের বাইরে সুনাম কুড়িয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে এ কার্যক্রম বলেন নাসিমা আক্তার নিসা। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ছাড়াও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ স্টোর সার্ভিস, মোবাইল অ্যাপ মার্কেটিং, অ্যাপ স্টোর রিচার্স নিয়ে কাজ করছে রেভারি।

প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছেন আছিয়া খালেদা নীলা। কম্পিউটার প্রকৌশলী নীলা উইমেন ইন ডিজিটালের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘ দিন মাল্টিন্যাশনাল সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

নীলা বলেন, নয় বছরের বেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি মেয়েরা টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে চায় না অথবা তাদের করতে দেওয়া হয় না। নারীরা প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে, নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও তাদের এগিয়ে নিতেই প্রতিষ্ঠা করলাম উইমেন ইন ডিজিটাল।

এখানে নারী ডেভেলপাররাই নারীদের কেরিয়ার কাউন্সেলিং ও টেনিং দিয়ে থাকে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো “ন্যাশনাল হ্যাকাথন ফর উইমেন ২০১৭” নামে এবং টেক প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কনটেস্ট “ডিজিটাল ইনোভেশন চেলেঞ্জ ফর ওমেন” এর আয়োজন করে উইমেন ইন ডিজিটাল।

দেশে ১৮ টি জেলায় উইমেন ইন ডিজিটাল কাজ করছে। নীলা বিশ্বাস করেন, দেশের উন্নতি করতে হলে প্রথমে গ্রামের নারীদের রোজগারের ব্যবস্থা করতে হবে।

ওয়েবসাইট: www.womenindigital.net

সিফাত সারোয়ারসিফাত সারোয়ার শপআপ এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, কর্পোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে, শপআপ শুরু করেছিলাম, কারণ শুরু থেকেই বুঝতে পারছিলাম যে অনলাইন বিজনেস নারীদের জন্য অনেক বড় শক্তি হতে পারে। আমি বিশ্বাস করি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হলে অন্যান্য অনেক কিছুই সহজ হয়ে ‍যায়।

সিফাত আরও বলেন, ঘরে বসেই আয় করার ক্ষেত্রে এফ কমার্সএর তুলনাই হয়না। এফ কমার্স উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছি প্রায় দুই বছর। এখন আমাদের টিমে প্রায় ২২ জন লোক। আমাদের প্রত্যেকের ই লক্ষ্য এফ কমার্সে কাজ করা সফল নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাদের গল্পগুলো তুলে এনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করা।

প্রায় সাত হাজারের বেশি এফ কমার্স উদ্যোক্তাকে শপআপ, ইনভেস্টমেন্ট, ডেলিভারি, প্রচার, ইত্যাদি পেতে সাহায্য করছে। আশা করি শীঘ্রই আরও অনেক নারী উদ্যোক্তাকে আমাদের প্লাটফর্মে যুক্ত করে তাদেরকে এগিয়ে যাবার মতো সহযোগিতা আর মানসিক শক্তি দিয়ে যেতে পারবো।

আমরা বিশ্বাস করি জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীরা সফল হলেই বাংলাদেশ সফল হবে।