আকাশ নিউজ ডেস্ক:
চলছে আষাঢ় মাস। কখনো রোদ কখনো বৃষ্টি— এভাবেই চলে যাচ্ছে দিন। থেমে নেই জীবনের গতি। কিন্তু ত্বকের যত্বেও পড়ছে ভাটা। এ রকম আবহাওয়ার মধ্যেই সারা দিন ছোটাছুটি করতে হয়। ফলে ত্বক অনেকাংশেই নাজুক হয়ে পড়ে, নির্জীব দেখায়। বাড়ি কিংবা বাইরে দরকার একটু যত্নের।
বর্ষাকাল আমাদের দারুণ প্রিয়। কিন্তু প্রিয় এ আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকেরও বেশ কিছু পরিবর্তন হয়। তাই বর্ষার এমন সময় প্রয়োজন ত্বকের বাড়তি যত্ন। তবে ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগে জেনে নেওয়া যাক, আপনার ত্বকের ধরন কী?
বর্ষায় সব ধরনের ত্বকই খুব ম্যাড়মেড়ে ও অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে। এর কারণ বাতাসে বেশি পরিমাণে আর্দ্রতা। চলুন জেনে নিই— বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় কিছু ঘরোয়া টিপস!
১. টোনিং:
বৃষ্টিতে ভিজে গেলে অনেক সময় শুধু মুখ আর হাত-পা মোছা হয়। কিন্তু পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। এ সময় যতটা সম্ভব ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। টোনিং করতে হবে নিয়মিত। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফ্রিজ বা ঠান্ডা জায়গায় টোনার সংরক্ষণ করতে পারেন। এতে টোনার ব্যবহারের সময় ভালো ফল পাবেন। অন্য ত্বকের জন্য সাধারণ তাপমাত্রাতেই টোনার সংরক্ষণ করতে পারেন। কারণ বর্ষায় ত্বকের সৌন্দর্যে টোনার ভীষণ জরুরি।
২. ডিপ ক্লিনিং:
গরমের সময়ে শসা খুব ভালো কাজ করে ডিপ ক্লিনিংয়ের জন্য। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা শসা কুচি করে ত্বকের ওপর কিছুক্ষণ রেখে দিতে পারেন। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। তৈলাক্ত ত্বকে এ ঋতুতে কিছুটা কালচে ভাব চলে আসতে পারে। মুলতানি মাটি আর গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। উপকার পাবেন।
৩. ব্রণের দাগ:
ব্রণ কিংবা দাগের জন্য শসা, গোলাপজল ও কাঁচাহলুদের পেস্ট লাগাতে পারেন। বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় মিশ্র ত্বকের জন্য ডিমের সাদা অংশ, মধু, লেবুর রস, দুধের সর চমৎকার কাজ করবে। ত্বক পরিষ্কার করে এ পেস্ট লাগিয়ে রাখতে পারেন, উজ্জ্বলতা ফিরবেই। শুষ্ক ত্বকের জন্য ২০০ মিলিমিটার গ্লিসারিন, ২০০ মিলিগ্রাম গোলাপজল একটা বোতলে রাখুন। তারপর সারা শরীরে ভালোভাবে আস্তে আস্তে মাসাজ করতে হবে৷ মাসাজের পর গ্লিসারিনযুক্ত সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে৷ এতে করে ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর হবে৷
৪. বলিরেখা:
বলিরেখার জন্য বয়স্ক যারা আছেন, তাদের জন্য একটা ডিমের সাদা অংশ খুব ভালোভাবে এগ বিটার দিয়ে বিট করে ফোম করতে হবে৷ এবার একটা লেবুর রস দিয়ে আবার ভালোভাবে বিট করে পুরো মুখ ও নাকে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই টিপস ফলো করলে ত্বকের টানটান ভাব ফিরে আসবে!
৫. চুলের যত্ন:
বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় চুলের কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। রোদ আর বৃষ্টির মাঝে পড়ে চুলের খুব ক্ষতি হয়। বৃষ্টির পানিতে চুল ভিজে গেলে বাড়ি ফিরে সম্ভব হলে শ্যাম্পু করে ফেলবেন। কারণ এতে চুল ঝরঝরে হয়ে যাবে। না হলে ময়লা আটকে থাকবে চুলের গোড়ায়। টকদই, পাকা পেঁপে ও কলা একসঙ্গে চটকে প্যাক বানিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন। এই সহজ টিপস মেনে চললে চুল থাকবে সুন্দর!
৬. পায়ের ত্বকের যত্ন:
বৃষ্টির পানিতে হাত-পা ভেজার কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে৷ বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় তাই প্রতিদিনই বাইরে থেকে আসার পর অবশ্যই হালকাভাবে পেডিকিউর ও মেনিকিউর করতে হবে৷ এরপর গরম পানিতে চায়ের লিকার করে পা দুটিকে ১০-১৫ মিনিট ভেজান। দুই চামচ চিনি আর এক চামচ মধু মিশিয়ে স্ক্রাবের মতো পা ম্যাসাজ করুন। পানি দিয়ে ধুয়ে-মুছে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা লোশন লাগান!
৭. আলু ও পাতি লেবুর রস:
আলু ও পাতি লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক পরিষ্কার হবে। বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় পাতিলেবু রস ও গরুর কাঁচা দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
৮. শসা ও টমেটোর রস:
শসা ও টমেটোর রস মিশিয়ে ছেঁকে ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা অবস্থায় মুখে তুলা দিয়ে লাগান।
এ ছাড়া বর্ষায় আরও কিছু উপকারী প্যাক রয়েছে—
১. বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় হালকা কুসুম গরম পানিতে অল্প কর্পুর এবং চিনি মিশিয়ে তুলা দিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে।
২. বর্ষায় ত্বকের যত্নে আপেল বাটা, কয়েক ফোঁটা মধু ও দুধের সর একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক হবে ঝকঝকে উজ্জ্বল।
৩. কাঁচাহলুদ বাটা, দুধ, গোলাপ ফুলের পাঁপড়ি বাটা, চন্দন বাটা ও কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর স্বাভাবিক পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় এই প্যাক আমার ভীষণ প্রিয়।
৪. মসুর ডাল বাটা, মুলতানি মাটি, গোলাপজল, পাতিলেবুর খোসা বাটা, কয়েক ফোঁটা মধু ও নিমপাতা বাটা একসঙ্গে পেস্ট তৈরি করে মুখ ও গলায় লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৫. বর্ষায় সোন্দর্যচর্চায় মুলতানি মাটি, টক দই, গোলাপ জল ও টমেটোর রস একসঙ্গে পেষ্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
প্রত্যেকটি উপকরণ বা মিশ্রণ গোসলের সময় সাবানের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন। এতে শরীরের লোমকূপের ভেতর থেকে ময়লা বেরিয়ে এসে ত্বক কোমল ও মসৃণ হয়ে উঠছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























