ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু:অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা আইএমএফের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য চাপে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ আরও বেড়েছে, যা অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা। নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার, শর্ত এবং সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আরও আলোচনা হবে।

আইএমএফের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি- এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যদিও প্রবাসী আয় শক্তিশালী রয়েছে।

আইএমএফ বলেছে, ব্যাংক খাতের চাপও এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার জরুরি। এতে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে।

সংস্থাটি মনে করছে, অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি যৌক্তিক করা এবং সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ব্যয়ে ব্যবহার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে আইএমএফ। এছাড়া ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে বিনিময় হার আরও নমনীয় হয় এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরবর্তী মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, ব্যাংক খাতের সংকট, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক চাপ একে অপরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে অর্থনীতির ঝুঁকি নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে।

তবে আইএমএফ জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সংস্থাটি আগামী মাসগুলোতে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু:অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা আইএমএফের

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য চাপে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ আরও বেড়েছে, যা অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা। নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার, শর্ত এবং সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আরও আলোচনা হবে।

আইএমএফের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি- এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যদিও প্রবাসী আয় শক্তিশালী রয়েছে।

আইএমএফ বলেছে, ব্যাংক খাতের চাপও এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার জরুরি। এতে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে।

সংস্থাটি মনে করছে, অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি যৌক্তিক করা এবং সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ব্যয়ে ব্যবহার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে আইএমএফ। এছাড়া ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে বিনিময় হার আরও নমনীয় হয় এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরবর্তী মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, ব্যাংক খাতের সংকট, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক চাপ একে অপরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে অর্থনীতির ঝুঁকি নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে।

তবে আইএমএফ জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সংস্থাটি আগামী মাসগুলোতে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।