ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

চাঁদপুরে ট্রেনে আগুন, অল্পে রক্ষা পেল কয়েকশ যাত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। পাওয়ার কারের ইঞ্জিন রুমে ওভার হিট ও শটসার্কিটের ফলে জেনারেটর বিস্ফোরণ হয়ে ট্রেনটির ৮৩৫নং বগিতে এই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ট্রেনের বগিতে ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় চাঁদপুর স্টেশন এলাকায় বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঘটে এই ঘটনা। আগুনে কেউ হতাহত না হলেও হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এতে ট্রেনের প্রায় অর্ধকোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরে কর্মরত রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

চাঁদপুর রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ, ক্যারেজ বিভাগ, ট্রেনের দায়িত্বে থাকা ইলেকট্রিক ফিটার, রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চাঁদপুর স্টেশনে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়ার কারের ভেতরে আগুন লেগে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শত-শত যাত্রী আতঙ্কে ট্রেন থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে থাকে। এতে অন্তত ৩০ যাত্রী আহত হন।

ট্রেনের ১৭টি বগির মধ্যে মাঝামাঝি স্থানে থাকা ৮৩৫৮নং বগিটির পাওয়ার কারে আগুন লাগে। আগুনের খবরে পুরো স্টেশন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনের সব লাইট বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারে যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকে।

এরই মধ্যে ট্রেনের খাওয়ার বগির আবুল হাশেম মিয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আবুল কালাম, ক্যারেজ স্টাফ জুয়েল পাটওয়ারী, রেলওয়ে থানার এসআই শাহজাহান, এএসআই কামাল হোসেন, পুলিশ সদস্য শাহজাহান, গিয়াস উদ্দিন ও এলাকার দোকানদারসহ ২০/২৫ জন ট্রেনে থাকা ১১টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে গ্যাস ছিটিয়ে দিতে থাকেন। অনেকে বালতি ও কলসি দিয়ে পানি এনে মেরে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন ট্রেনের বগিগুলোতে ছড়াতে না পারায় পাওয়ার কারসহ ১৭টি বগি রক্ষা পেয়েছে। তা না হলে পুরো ট্রেনই পুড়ে যেত। প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল।

ঘটনার ৩০ মিনিট পরে উপস্থিত হন চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফারুক আহমেদসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৬ জন কর্মী। তবে ততক্ষণে আগুন নিভিয়ে ফেলেন ট্রেন ও স্টেশনের স্টাফরা।

পাওয়ার কারে থাকা দ্বিতীয় ড্রাইভার আব্দুল করিম ইলেক্ট্রিক ফিটার গ্রেড-২ জানান, ইঞ্জিন ওভার হিটের কারণে পাওয়ার কারের অ্যাডভেস্টোটের কাপড়ে আগুন লেগে জেনারেটরে আগুন লেগে যায়।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফারুক আহমেদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমরা আসার আগে রেলওয়ে স্টাফরা আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে পাওয়ার কারে পরিদর্শনকালে দেখা যায় ওভার হিটের কারণে জেনারেটরে আগুন লেগে এ ঘটনা ঘটেছে।’

চাঁদপুর রেলওয়ের টিএক্সআর আবুল কাশেমও একই তথ্য জানিয়েছেন।

সর্বশেষ ফোরম্যান বিল্লাল জানিয়েছেন, আগুনে ট্রেনের ইঞ্জিনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। চাঁদপুর থেকে ট্রেনটি শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে ট্রেনে আগুন, অল্পে রক্ষা পেল কয়েকশ যাত্রী

আপডেট সময় ০৩:১১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। পাওয়ার কারের ইঞ্জিন রুমে ওভার হিট ও শটসার্কিটের ফলে জেনারেটর বিস্ফোরণ হয়ে ট্রেনটির ৮৩৫নং বগিতে এই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ট্রেনের বগিতে ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় চাঁদপুর স্টেশন এলাকায় বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঘটে এই ঘটনা। আগুনে কেউ হতাহত না হলেও হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এতে ট্রেনের প্রায় অর্ধকোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরে কর্মরত রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

চাঁদপুর রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ, ক্যারেজ বিভাগ, ট্রেনের দায়িত্বে থাকা ইলেকট্রিক ফিটার, রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চাঁদপুর স্টেশনে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়ার কারের ভেতরে আগুন লেগে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শত-শত যাত্রী আতঙ্কে ট্রেন থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে থাকে। এতে অন্তত ৩০ যাত্রী আহত হন।

ট্রেনের ১৭টি বগির মধ্যে মাঝামাঝি স্থানে থাকা ৮৩৫৮নং বগিটির পাওয়ার কারে আগুন লাগে। আগুনের খবরে পুরো স্টেশন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনের সব লাইট বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারে যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকে।

এরই মধ্যে ট্রেনের খাওয়ার বগির আবুল হাশেম মিয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আবুল কালাম, ক্যারেজ স্টাফ জুয়েল পাটওয়ারী, রেলওয়ে থানার এসআই শাহজাহান, এএসআই কামাল হোসেন, পুলিশ সদস্য শাহজাহান, গিয়াস উদ্দিন ও এলাকার দোকানদারসহ ২০/২৫ জন ট্রেনে থাকা ১১টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে গ্যাস ছিটিয়ে দিতে থাকেন। অনেকে বালতি ও কলসি দিয়ে পানি এনে মেরে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন ট্রেনের বগিগুলোতে ছড়াতে না পারায় পাওয়ার কারসহ ১৭টি বগি রক্ষা পেয়েছে। তা না হলে পুরো ট্রেনই পুড়ে যেত। প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল।

ঘটনার ৩০ মিনিট পরে উপস্থিত হন চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফারুক আহমেদসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৬ জন কর্মী। তবে ততক্ষণে আগুন নিভিয়ে ফেলেন ট্রেন ও স্টেশনের স্টাফরা।

পাওয়ার কারে থাকা দ্বিতীয় ড্রাইভার আব্দুল করিম ইলেক্ট্রিক ফিটার গ্রেড-২ জানান, ইঞ্জিন ওভার হিটের কারণে পাওয়ার কারের অ্যাডভেস্টোটের কাপড়ে আগুন লেগে জেনারেটরে আগুন লেগে যায়।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফারুক আহমেদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমরা আসার আগে রেলওয়ে স্টাফরা আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে পাওয়ার কারে পরিদর্শনকালে দেখা যায় ওভার হিটের কারণে জেনারেটরে আগুন লেগে এ ঘটনা ঘটেছে।’

চাঁদপুর রেলওয়ের টিএক্সআর আবুল কাশেমও একই তথ্য জানিয়েছেন।

সর্বশেষ ফোরম্যান বিল্লাল জানিয়েছেন, আগুনে ট্রেনের ইঞ্জিনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। চাঁদপুর থেকে ট্রেনটি শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।