ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

আমার মামলা নেয়নি পুলিশ, কারণ ইনডেমনিটি আছে: শেখ হাসিনা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাবা, মা ভাইসহ পরিবারের সব সদস্যকে হত্যার ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্মরণে জনসভায় সেই কাহিনি তুলে ধরেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের ৪৭ তম বার্ষিকীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বুধবার জনসভা করে আওয়ামী লীগ। এতে রাজধানীর পাশাপাশি আশেপাশের জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী যোগ দেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা তার ভাষণে ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর দেশ গড়ার সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে আসা, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরষ্কৃত করা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরা, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দিন শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানা ছিলেন বিদেশে। ছয় বছর পর আওয়ামী লীগ তাকে দলীয় সভাপতি নির্বাচিত করে এবং ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার তাকে দেশে আসার অনুমতি দেয়।

এর মধ্যে সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ পাস করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি আত্মস্বীকৃত খুনিদেরকে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরষ্কৃত করেছিলেন জিয়াউর রহমান।

দেশে ফিরে শেখ হাসিনা মামলা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমি বাবা হারিয়েছি, মা হারিয়েছি, ভাই হারিয়েছি, আমার পরিবারের প্রায় সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমার বিচার চাইবার কোনো অধিকার ছিল না।’

‘আমি আমি ৮১ সালে দেশে ফিরে এসে মমালা করতে গেছি, আমার মামলা নেবে না, কারণ ইনডেমনিটি আছে, খুনিদের বিচার হবে না।’

‘পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে এমন কোনো আইন হতে পারে যে খুনিদের, শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারী, একটা দেশের রাষ্ট্রপতিকে যে হত্যা করেছে তাদের বিচার হবে না, এটা হতে পারে? বাংলাদেশে সেই ঘটনাই হয়েছিল।’

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘আমোদের এই সংগ্রাম অব্যাহত ছিল এই অভিশাপ থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার জন্য। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলার জনগণকে আর আমার অগুণতি নেতা-কর্মীদের। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২১ বছর পর সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছি।’

‘এই সংগ্রাম করতে যেয়ে আমাদের বহু নেতা-কর্মী জীবন দিয়েছে। বহু মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, দুঃখ কষ্ট সহ্য করেছে সেটা আমি জানি। কারণ, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা কী, সেটা আমার চেয়ে বেশি কে জানে?’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে বাধা দেয়া হতো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই ভাষণ বাজিয়েছেন। আর এই কাজ করায় অনেকের ওপর হামলা হয়েছে, তাদেরকে জীবনও দিতে হয়েছে।

তারপরও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীদেরকে ‘স্যালুট’ দেন প্রধানমন্ত্রী।

জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার আমলে দেশে কেন উন্নয়ন হয়নি, সে প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী। ওই তিন সরকারের সঙ্গে তার আমলের তুলনা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপরও জোর দেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

আমার মামলা নেয়নি পুলিশ, কারণ ইনডেমনিটি আছে: শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ১১:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাবা, মা ভাইসহ পরিবারের সব সদস্যকে হত্যার ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্মরণে জনসভায় সেই কাহিনি তুলে ধরেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের ৪৭ তম বার্ষিকীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বুধবার জনসভা করে আওয়ামী লীগ। এতে রাজধানীর পাশাপাশি আশেপাশের জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী যোগ দেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা তার ভাষণে ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর দেশ গড়ার সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে আসা, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরষ্কৃত করা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরা, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দিন শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানা ছিলেন বিদেশে। ছয় বছর পর আওয়ামী লীগ তাকে দলীয় সভাপতি নির্বাচিত করে এবং ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার তাকে দেশে আসার অনুমতি দেয়।

এর মধ্যে সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ পাস করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি আত্মস্বীকৃত খুনিদেরকে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরষ্কৃত করেছিলেন জিয়াউর রহমান।

দেশে ফিরে শেখ হাসিনা মামলা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমি বাবা হারিয়েছি, মা হারিয়েছি, ভাই হারিয়েছি, আমার পরিবারের প্রায় সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমার বিচার চাইবার কোনো অধিকার ছিল না।’

‘আমি আমি ৮১ সালে দেশে ফিরে এসে মমালা করতে গেছি, আমার মামলা নেবে না, কারণ ইনডেমনিটি আছে, খুনিদের বিচার হবে না।’

‘পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে এমন কোনো আইন হতে পারে যে খুনিদের, শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারী, একটা দেশের রাষ্ট্রপতিকে যে হত্যা করেছে তাদের বিচার হবে না, এটা হতে পারে? বাংলাদেশে সেই ঘটনাই হয়েছিল।’

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘আমোদের এই সংগ্রাম অব্যাহত ছিল এই অভিশাপ থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার জন্য। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলার জনগণকে আর আমার অগুণতি নেতা-কর্মীদের। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২১ বছর পর সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছি।’

‘এই সংগ্রাম করতে যেয়ে আমাদের বহু নেতা-কর্মী জীবন দিয়েছে। বহু মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, দুঃখ কষ্ট সহ্য করেছে সেটা আমি জানি। কারণ, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা কী, সেটা আমার চেয়ে বেশি কে জানে?’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে বাধা দেয়া হতো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই ভাষণ বাজিয়েছেন। আর এই কাজ করায় অনেকের ওপর হামলা হয়েছে, তাদেরকে জীবনও দিতে হয়েছে।

তারপরও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীদেরকে ‘স্যালুট’ দেন প্রধানমন্ত্রী।

জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার আমলে দেশে কেন উন্নয়ন হয়নি, সে প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী। ওই তিন সরকারের সঙ্গে তার আমলের তুলনা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপরও জোর দেন তিনি।