ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় স্বামীকে হত্যা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর রহস্য উন্মোচন হয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই হত্যার রহস্য বেরিয়ে এসেছে। তাহমিনা আক্তার (৩০) নামে এই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, পরকীয়া প্রেমের জন্য তার স্বামী তৌহিদুল ইসলামকে (৩৫) শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত তৌহিদুল পুঠিয়া উপজেলার চকদোমাদি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তৌহিদুল আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ এর রহস্য উদঘাটন করেছে।

এ ঘটনায় তাহমিনা ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে তার পরকীয়া প্রেমিক সুমন আলী (৩২) ও সুমনের ভাই সুজন আলীকে (২৫)। সুমন একই গ্রামের মোমিন আলীর ছেলে। মঙ্গলবার রাতে তাদের নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুঠিয়া থানার ওসি সায়েদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তৌহিদুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। তবে লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, শ্বাসরোধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে আঘাতেরও চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের চাচা সৈয়দ আলী।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার পর নিহতের স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমন ও সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারাও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তাহমিনার বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, সুমনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাহমিনার। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাতে সুমন তাহমিনার বাড়ি গিয়ে আসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। ঘরে ফিরে তৌহিদুল বিষয়টি দেখে ফেলেন। এ সময় তাহমিনা ও সুমন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে সুজনের সহায়তায় লাশ বাগানে নিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছেন কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় স্বামীকে হত্যা

আপডেট সময় ১০:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর রহস্য উন্মোচন হয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই হত্যার রহস্য বেরিয়ে এসেছে। তাহমিনা আক্তার (৩০) নামে এই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, পরকীয়া প্রেমের জন্য তার স্বামী তৌহিদুল ইসলামকে (৩৫) শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত তৌহিদুল পুঠিয়া উপজেলার চকদোমাদি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তৌহিদুল আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ এর রহস্য উদঘাটন করেছে।

এ ঘটনায় তাহমিনা ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে তার পরকীয়া প্রেমিক সুমন আলী (৩২) ও সুমনের ভাই সুজন আলীকে (২৫)। সুমন একই গ্রামের মোমিন আলীর ছেলে। মঙ্গলবার রাতে তাদের নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুঠিয়া থানার ওসি সায়েদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তৌহিদুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। তবে লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, শ্বাসরোধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে আঘাতেরও চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের চাচা সৈয়দ আলী।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার পর নিহতের স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমন ও সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারাও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তাহমিনার বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, সুমনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাহমিনার। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাতে সুমন তাহমিনার বাড়ি গিয়ে আসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। ঘরে ফিরে তৌহিদুল বিষয়টি দেখে ফেলেন। এ সময় তাহমিনা ও সুমন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে সুজনের সহায়তায় লাশ বাগানে নিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছেন কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।