ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি জানাল শিক্ষা বোর্ড

আসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় স্বামীকে হত্যা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর রহস্য উন্মোচন হয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই হত্যার রহস্য বেরিয়ে এসেছে। তাহমিনা আক্তার (৩০) নামে এই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, পরকীয়া প্রেমের জন্য তার স্বামী তৌহিদুল ইসলামকে (৩৫) শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত তৌহিদুল পুঠিয়া উপজেলার চকদোমাদি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তৌহিদুল আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ এর রহস্য উদঘাটন করেছে।

এ ঘটনায় তাহমিনা ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে তার পরকীয়া প্রেমিক সুমন আলী (৩২) ও সুমনের ভাই সুজন আলীকে (২৫)। সুমন একই গ্রামের মোমিন আলীর ছেলে। মঙ্গলবার রাতে তাদের নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুঠিয়া থানার ওসি সায়েদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তৌহিদুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। তবে লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, শ্বাসরোধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে আঘাতেরও চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের চাচা সৈয়দ আলী।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার পর নিহতের স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমন ও সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারাও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তাহমিনার বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, সুমনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাহমিনার। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাতে সুমন তাহমিনার বাড়ি গিয়ে আসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। ঘরে ফিরে তৌহিদুল বিষয়টি দেখে ফেলেন। এ সময় তাহমিনা ও সুমন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে সুজনের সহায়তায় লাশ বাগানে নিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছেন কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান

আসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় স্বামীকে হত্যা

আপডেট সময় ১০:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর রহস্য উন্মোচন হয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই হত্যার রহস্য বেরিয়ে এসেছে। তাহমিনা আক্তার (৩০) নামে এই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, পরকীয়া প্রেমের জন্য তার স্বামী তৌহিদুল ইসলামকে (৩৫) শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত তৌহিদুল পুঠিয়া উপজেলার চকদোমাদি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তৌহিদুল আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ এর রহস্য উদঘাটন করেছে।

এ ঘটনায় তাহমিনা ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে তার পরকীয়া প্রেমিক সুমন আলী (৩২) ও সুমনের ভাই সুজন আলীকে (২৫)। সুমন একই গ্রামের মোমিন আলীর ছেলে। মঙ্গলবার রাতে তাদের নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুঠিয়া থানার ওসি সায়েদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তৌহিদুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। তবে লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, শ্বাসরোধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে আঘাতেরও চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের চাচা সৈয়দ আলী।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার পর নিহতের স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমন ও সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারাও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তাহমিনার বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, সুমনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাহমিনার। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাতে সুমন তাহমিনার বাড়ি গিয়ে আসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। ঘরে ফিরে তৌহিদুল বিষয়টি দেখে ফেলেন। এ সময় তাহমিনা ও সুমন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে সুজনের সহায়তায় লাশ বাগানে নিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছেন কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।