অাকাশ ইতিহাস ডেস্ক:
আজ বুধবার ৭ মার্চ ২০১৮ সাল
ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।
তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে দৈনিক আকাশের পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’।
৭ মার্চ, ২০১৮, বুধবার। ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। একনজরে দেখে নিন ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
সোহরাওয়াদী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ৭ মার্চ খুব গুরুত্বপূর্ণ ডেটলাইন। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন এটি। ১৯৭১’র এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (পরবর্তীতে সোহরাওয়াদী উদ্যান)-এ বিশাল জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম খ্যাত ওই ভাষণ স্বাধীনতা আন্দোলনে বিরাট ভূমিকা রাখে। স্বাধীনতার চেতনাকে উজ্জীবিত করে। আওয়ামী লীগ এ দিনটিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে থাকে। বিস্তারিত কর্মসূচি থাকে এ দিনে।
১২৭৪ সালের এ দিনে ইতালীর বিখ্যাত দার্শনিক থমাস একুইনাস মারা যান। ১২২৫ সালে তিনি ইতালীর নাপোলীতে জন্ম গ্রহণ করেন। ধর্মীয় শিক্ষা লাভের পর তিনি নাপোলী বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের ওপর পড়াশুনা শুরু করেন। একুইনাসের মতে খোদায়ী পরিপূর্ণতার জন্য প্রচেষ্টাই মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য বা মুক্তি বয়ে আনে। গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটলের মত তিনিও বিশ্বাস করতেন যে প্রত্যেক মানুষের ভেতরে এমন এক শক্তি আছে যা তাকে আধ্যাত্মিক পূর্ণতায় পৌঁছে দিতে পারে।
একুইনাসের মতে বিজ্ঞান ও এলাহীয়াত বা ঐশী বিষয়ের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা সংঘাত নেই। কারণ, এ দুই-ই বাস্তবতা বা সত্য উদঘাটনের জন্য কাজ করে। একুইনাসের এসব মতের কারণে ইউরোপে বিজ্ঞান চর্চার পথ উন্মুক্ত হয়। এর আগে মধ্যযুগের গীর্জা বিজ্ঞান চর্চাকে ধর্ম বিরোধী কাজ বলে মনে করতো। থমাস একুইনাসের মতবাদ চার শতক পর্যন্ত ইউরোপের ধর্মীয় ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতিষ্ঠানে সরকারীভাবে পড়ানো হত এবং এখনও তা ক্যাথলিক চিন্তাবিদরা তা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
১৭৬৫ সালের এ দিনে ফরাসী রসায়নবিদ এবং আলোকচিত্র শিল্পের অন্যতম রূপকার নিসফোর নি পাস জন্ম গ্রহণ করেন। তাকে স্থির আলোকচিত্রের আবিস্কারক বলা হয়। নি পাস প্রথমবারের মত আলোকচিত্র তোলার ক্যামেরা তৈরি করেন। তিনি ১৮৩৩ সালে মারা যান।
১৯৩৬ সালের এ দিনে হিটলারের সশস্ত্র নাৎসী বাহিনী বিরোধ-কবলিত অঞ্চল রানানীতে আগ্রাসন শুরু করে। প্রথম মহাযুদ্ধের পর এটাই ছিল নাৎসী বাহিনীর প্রথম আগ্রাসন। রানানী নিয়ে ফ্রান্স ও জার্মানীর মধ্যে বিরোধ থাকায় লোকার্ণো ও ওয়ারসায়ি চুক্তি অনুযায়ী এ অঞ্চলটিকে নিরপেক্ষ এলাকা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু হিটলারের নেতৃত্বাধীন নাৎসীরা এই দিনে এ অঞ্চলটি দখল করে নেয়।
১৯৫৭ সালের এ দিনে সুয়েজ খাল পুনরায় খুলে দেয়া হয়। উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায় অবস্থিত এ খাল এশিয়া ও আফ্রিকার সাথে সাগর পথে সংযোগ রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুন্নাসের সূয়েজ খালকে মিশরের জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পর বৃটেন, ফ্রান্স ও ইহুদিবাদী ইসরাইল মিশরে হামলা চালায় এবং সিনা শহরসহ সুয়েজ-খাল সংলগ্ন কয়েকটি মিশরীয় শহর দখল করে নেয়।
আকাবা উপসাগরকে ইসরাইলী জাহাজগুলোর জন্য উন্মুক্ত করা ছিল এ হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশ্ব সমাজের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দখলদার শক্তিগুলো মিশরীয় শহরগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নেয় এবং সুয়েজ খাল দিয়ে পুনরায় বিভিন্ন দেশের জাহাজ চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকে সুয়েজ খালের ওপর পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয় মিশরের মালিকানা।
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চের এইদিনে পাকিস্তানের শাসন-শোষণের হাত থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্তির দিশা দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) জনসমুদ্রে ঘোষণা করেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
১৯ বছর আগে এই দিনে ইরানের বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ হোসাইন কাওয়ামী ইন্তেকাল করেন। তিনি খাঁটি ইরানী সঙ্গীত বা ইরানের ঐতিহ্যবাহী প্রথাগত সঙ্গীতের ওস্তাদ ছিলেন।
এ ছাড়াও ১৬ বছর আগে এ দিনে ইরানের আরেক বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আহমদ এবাদী ইন্তেকাল করেন। তিনি সেতার বাদ্যযন্ত্র ও ইরানের ঐতিহ্যবাহী প্রথাগত সঙ্গীতের ওস্তাদ ছিলেন।
- শেখ আবদুল্লাহর সম্পাদনায় বাংলার মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সাপ্তাহিক সমাচার সভা রাজেন্দ্র প্রকাশিত (১৮৩১)
- ভারতে সরকারি অফিসে ফার্সির পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার প্রচলন (১৮৩৫)
- মাদ্রিদে কমিউনিস্ট ও নন কমিউনিস্টদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু (১৯৩৯)
- রেঙ্গুন থেকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী প্রত্যাহার (১৯৪২)
- ইরানের প্রধানমন্ত্রী আলী রাজমারা আততায়ীর হাতে খুন (১৯৫১)
- লাইবেরিয়ায় বহুজাতিক আফ্রিকান সেনাবাহিনীর নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা (১৯৯৪)
- এরিয়েল শ্যারনের ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ (২০০১)
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















