ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে নিতে চায়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘১১৬ অনুচ্ছেদে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সেটা সুপ্রিম কোর্ট নিতে চায়।৩১ জুলাই সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সভায় এ মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির পরিচিতি সভা ও কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালার সংশোধিত খসড়া নিয়ে সম্প্রতি আপিল বিভাগের মন্তব্যের পর আইনমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।

আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘ওনারা (সুপ্রিম কোর্ট) মাসদার হোসেন কেসে ডিসিপ্লিনারি রুলসের কথা বলেছেন। কেউ কিন্তু ডিসিপ্লিনারি রুলস করে নাই। আমি আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরে এ রুলসটা করেছি।মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারা (সুপ্রিম কোর্ট) সংশোধন করে যেটা দিয়েছিল সেখানে দেখা গিয়েছে, আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে, ১১৬ অনুচ্ছেদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির যে ক্ষমতা, সেটা তারা নিয়ে নিতে চায়। আমি কী করে সেটা দেই? আপনারা আমাকে রায় দিয়ে দেন, বলেন? আমি তো দিতে পারি না।

আনিসুল হক বলেছেন, ‘আমি বললাম, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আসেন শেষ করে দেই। আমি একটা ড্রাফট পাঠিয়েছি। আপনারা কারেকশন করে দিয়েছেন। আমরা সেটার ওপরে সেইটুকু হাত লাগিয়েছি। যেইখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ১১৬ অনুচ্ছেদ মতে, সেইটা আমি শুধু বলছি না, এটা দেওয়া যাবে না। ওটা ফেরত পাঠিয়েছে। আমি তো এসে ওনাকে দিয়েছি। আমিতো এমন না পিয়ন বা আমার সচিবকে দিয়ে ওনার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি নিজে এসে ওনাকে দিয়েছি। বলেছি, আপনি পড়েন, আপনি দেখেন। তার পরে যদি কোনো বক্তব্য থাকে আমাকে জানান। তারপরেও আলোচনা করব।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘তিনি প্রধান বিচারপতি। আমার তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান আছে। আমি সেই সম্মান ও অধিকার রেখে মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বলতে চাই, আমিতো হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট উঠানোর কথা বলি নাই। ডিসিপ্লিনারি রুলস দিয়ে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট উঠে না। আপনার এজলাসে বসে এগুলি বলারতো দরকার হয় না। আলাপ আলোচনাতো আমি করবই। আমি কালকে যশোরে ছিলাম। ওনার কথা শুনে আমি ফোন করে বলেছি আমি আসতেছি বৃহস্পতিবারে বসব। আমাদের সদিচ্ছা আছে।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেনের মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথককরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের এ নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

গত ২৭ জুলাই বিকেলে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খসড়াটি প্রধান বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে এই খসড়া নিয়ে গত ৩০ জুলাই সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির বেঞ্চ আইনমন্ত্রীর দেওয়া খসড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হলো। উনি খসড়া দিয়ে গেলেন। আমি তো খুশি হয়ে গেলাম। যদিও খুলে দেখিনি। কিন্তু এটা কী! এখানে বলা হলো ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’। এটার মানে কী? সব আইনে ব্যাখ্যা থাকে। কিন্তু এখানে কোনো ব্যাখ্যা নেই।”

সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে নিতে চায়

আপডেট সময় ১২:৩২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘১১৬ অনুচ্ছেদে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সেটা সুপ্রিম কোর্ট নিতে চায়।৩১ জুলাই সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সভায় এ মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির পরিচিতি সভা ও কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালার সংশোধিত খসড়া নিয়ে সম্প্রতি আপিল বিভাগের মন্তব্যের পর আইনমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।

আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘ওনারা (সুপ্রিম কোর্ট) মাসদার হোসেন কেসে ডিসিপ্লিনারি রুলসের কথা বলেছেন। কেউ কিন্তু ডিসিপ্লিনারি রুলস করে নাই। আমি আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরে এ রুলসটা করেছি।মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারা (সুপ্রিম কোর্ট) সংশোধন করে যেটা দিয়েছিল সেখানে দেখা গিয়েছে, আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে, ১১৬ অনুচ্ছেদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির যে ক্ষমতা, সেটা তারা নিয়ে নিতে চায়। আমি কী করে সেটা দেই? আপনারা আমাকে রায় দিয়ে দেন, বলেন? আমি তো দিতে পারি না।

আনিসুল হক বলেছেন, ‘আমি বললাম, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আসেন শেষ করে দেই। আমি একটা ড্রাফট পাঠিয়েছি। আপনারা কারেকশন করে দিয়েছেন। আমরা সেটার ওপরে সেইটুকু হাত লাগিয়েছি। যেইখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ১১৬ অনুচ্ছেদ মতে, সেইটা আমি শুধু বলছি না, এটা দেওয়া যাবে না। ওটা ফেরত পাঠিয়েছে। আমি তো এসে ওনাকে দিয়েছি। আমিতো এমন না পিয়ন বা আমার সচিবকে দিয়ে ওনার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি নিজে এসে ওনাকে দিয়েছি। বলেছি, আপনি পড়েন, আপনি দেখেন। তার পরে যদি কোনো বক্তব্য থাকে আমাকে জানান। তারপরেও আলোচনা করব।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘তিনি প্রধান বিচারপতি। আমার তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান আছে। আমি সেই সম্মান ও অধিকার রেখে মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বলতে চাই, আমিতো হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট উঠানোর কথা বলি নাই। ডিসিপ্লিনারি রুলস দিয়ে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট উঠে না। আপনার এজলাসে বসে এগুলি বলারতো দরকার হয় না। আলাপ আলোচনাতো আমি করবই। আমি কালকে যশোরে ছিলাম। ওনার কথা শুনে আমি ফোন করে বলেছি আমি আসতেছি বৃহস্পতিবারে বসব। আমাদের সদিচ্ছা আছে।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেনের মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথককরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের এ নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

গত ২৭ জুলাই বিকেলে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খসড়াটি প্রধান বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে এই খসড়া নিয়ে গত ৩০ জুলাই সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির বেঞ্চ আইনমন্ত্রীর দেওয়া খসড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হলো। উনি খসড়া দিয়ে গেলেন। আমি তো খুশি হয়ে গেলাম। যদিও খুলে দেখিনি। কিন্তু এটা কী! এখানে বলা হলো ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’। এটার মানে কী? সব আইনে ব্যাখ্যা থাকে। কিন্তু এখানে কোনো ব্যাখ্যা নেই।”

সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।