ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি জানাল শিক্ষা বোর্ড

দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে জ্যাকব জুমার সরে যাওয়ার পরদিন পার্লামেন্টের ভোটে দেশটির নতুর প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সিরিল রামাফোসা। দুর্নীতি আর অর্থনৈতিক অস্থিতিশীল অবস্থা সফলভাবে সামলা দেয়াই হবে এখন তার প্রধান কাজ।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) প্রার্থী হিসেবে রামাফোসার নাম ঘোষণা করলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন দলের এমপি’রা গান গেয়ে তার নাম ঘোষণা করেন।

প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রথম ভাষণে ৬৫ বছর বয়সী রামাফোসা বলেছেন, তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বেন। পূর্বসূরি জুমার আমলে দেশ যে দুর্নীতিতে ছেয়ে গিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

দুর্নীতিতে জড়িত থাকাকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) চাপে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন জ্যাকব জুমা। তার আগে নয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন তিনি।

জুমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ থাকলেও তিনি বরাবরই সব অস্বীকার করে এসেছেন।

এখন জুমার বিদায়ের পর রামাফোসার আগমনে দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন আশা সঞ্চার হয়েছে।

নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য এখন জুমা আমলে হওয়া দুর্নীতির বিষয়টি সফলভাবে সামাল দেওয়া ছাড়াও আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল করা। দেশটিতে বেকারত্ব কমানোর জন্য বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে তাকে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে স্টেট অব দ্য ন্যাশন ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে রামাফোসার। দক্ষিণ আফ্রিকায় এ কথা প্রচলিত রয়েছে যে, ১৯৯৪ সালে এএনসি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রামাফোসার নজর ছিল প্রেসিডেন্ট পদের প্রতি।

নেলসন ম্যান্ডেলা তাকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত না করায় তিনি বেশ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে রাজনীতি বাদ দিয়ে ব্যবসার দিকে ঝুঁকেছিলেন।

অবশেষে তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি আফ্রিকার ভেঙে পড়া অর্থনীতি জাগিয়ে তোলার প্রতি অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেছেন।

কিন্তু কাজটা অতি সহজ হবে না, তা সবারই জানার কথা। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ বেকারত্ব রয়েছে। আর তরুণদের ক্ষেত্রে সেটা আরও ১০ শতাংশ বেশি।

দেশে প্রবৃদ্ধির হার সর্বনিম্ম পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন বিনিয়োগকারীরা। সরকারের হৃদপিণ্ড থেকে দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে বিনিয়োগে আস্থা ফেরানোই হবে এখন রামাফোসার প্রধান কাজ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান

দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা

আপডেট সময় ০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে জ্যাকব জুমার সরে যাওয়ার পরদিন পার্লামেন্টের ভোটে দেশটির নতুর প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সিরিল রামাফোসা। দুর্নীতি আর অর্থনৈতিক অস্থিতিশীল অবস্থা সফলভাবে সামলা দেয়াই হবে এখন তার প্রধান কাজ।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) প্রার্থী হিসেবে রামাফোসার নাম ঘোষণা করলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন দলের এমপি’রা গান গেয়ে তার নাম ঘোষণা করেন।

প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রথম ভাষণে ৬৫ বছর বয়সী রামাফোসা বলেছেন, তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বেন। পূর্বসূরি জুমার আমলে দেশ যে দুর্নীতিতে ছেয়ে গিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

দুর্নীতিতে জড়িত থাকাকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) চাপে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন জ্যাকব জুমা। তার আগে নয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন তিনি।

জুমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ থাকলেও তিনি বরাবরই সব অস্বীকার করে এসেছেন।

এখন জুমার বিদায়ের পর রামাফোসার আগমনে দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন আশা সঞ্চার হয়েছে।

নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য এখন জুমা আমলে হওয়া দুর্নীতির বিষয়টি সফলভাবে সামাল দেওয়া ছাড়াও আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল করা। দেশটিতে বেকারত্ব কমানোর জন্য বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে তাকে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে স্টেট অব দ্য ন্যাশন ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে রামাফোসার। দক্ষিণ আফ্রিকায় এ কথা প্রচলিত রয়েছে যে, ১৯৯৪ সালে এএনসি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রামাফোসার নজর ছিল প্রেসিডেন্ট পদের প্রতি।

নেলসন ম্যান্ডেলা তাকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত না করায় তিনি বেশ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে রাজনীতি বাদ দিয়ে ব্যবসার দিকে ঝুঁকেছিলেন।

অবশেষে তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি আফ্রিকার ভেঙে পড়া অর্থনীতি জাগিয়ে তোলার প্রতি অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেছেন।

কিন্তু কাজটা অতি সহজ হবে না, তা সবারই জানার কথা। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ বেকারত্ব রয়েছে। আর তরুণদের ক্ষেত্রে সেটা আরও ১০ শতাংশ বেশি।

দেশে প্রবৃদ্ধির হার সর্বনিম্ম পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন বিনিয়োগকারীরা। সরকারের হৃদপিণ্ড থেকে দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে বিনিয়োগে আস্থা ফেরানোই হবে এখন রামাফোসার প্রধান কাজ।