ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলডিসি থেকে উত্তরণে তিন সূচকেই বাংলাদেশের অগ্রগতি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের জন্য যেগুলোকে সূচক হিসেবে দেখা হয়, তার সবকটিতে অগ্রগতি হয়েছে। এই বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে বাংলাদেশের এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে নেয়া কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম এই তথ্য জানান। তিনি জানান, জাতিসংঘ আগামী মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণে প্রথম সুপারিশ করবে।

তিনটি নির্ণায়ককে কেন্দ্র করে এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। এর একটি মাথাপিছু আয়। এর মানদণ্ড হচ্ছে এক হাজার ২৩০ ডলার। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) সবশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে এই মাথাপিছু আয় এক হাজার ২৭২ ডলার। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ হিসাব অনুযায়ী এটা এক হাজার ৬১০ ডলার।

দ্বিতীয় নির্ণায়ক মানবসম্পদ সূচককে উত্তরণের মান হচ্ছে ৬৬ বা এর বেশি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে বাংলাদেশের মান ৭২.৯। আর সিডিপির হিসাবে এটা ৭২.৮। সর্বশেষ নির্ণায়ক অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক থাকতে হয় ৩২ বা এর কম। সিডিপির হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ২৫ এবং পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে এটা ২৪.৮।

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, এই প্রক্রিয়া আগামী মার্চ থেকেই শুরু হবে। ২০২১ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হবে। আর এটি কার্যকর হবে ২০২৪ সালে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমাদের মন্ত্রিপরিষদ মিটিংয়ে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি এটি আমাদের গর্ব। আমরা অনেক উন্নয়নশীল দেশ থেকে ভাল অবস্থানে আছি। পাকিস্তান থেকে আমরা অনেক সূচকে এগিয়ে আছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারত থেকে আমরা এগিয়ে আছি।’

বাংলাদেশ স্বল্পোন্ন দেশ থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিয়ায় উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সুযোগ সুবিধাও কমে যাবে। গত ১৭ জানুয়রি রাজধানীতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নশীল দেশসমূহের সমকক্ষ হবে। তবে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করে যা ট্রানজিশনের পর বন্ধ হয়ে যাবে।’ অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্ষেত্রে প্রস্তুতির মাধ্যমে আমাদেরকে তা পুষিয়ে নিতে হবে এবং আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ তার প্রভাব মোকাবেলায় কৌশলগত প্রস্তুতি ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি থেকে উত্তরণে তিন সূচকেই বাংলাদেশের অগ্রগতি

আপডেট সময় ০৮:১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের জন্য যেগুলোকে সূচক হিসেবে দেখা হয়, তার সবকটিতে অগ্রগতি হয়েছে। এই বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে বাংলাদেশের এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে নেয়া কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম এই তথ্য জানান। তিনি জানান, জাতিসংঘ আগামী মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণে প্রথম সুপারিশ করবে।

তিনটি নির্ণায়ককে কেন্দ্র করে এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। এর একটি মাথাপিছু আয়। এর মানদণ্ড হচ্ছে এক হাজার ২৩০ ডলার। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) সবশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে এই মাথাপিছু আয় এক হাজার ২৭২ ডলার। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ হিসাব অনুযায়ী এটা এক হাজার ৬১০ ডলার।

দ্বিতীয় নির্ণায়ক মানবসম্পদ সূচককে উত্তরণের মান হচ্ছে ৬৬ বা এর বেশি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে বাংলাদেশের মান ৭২.৯। আর সিডিপির হিসাবে এটা ৭২.৮। সর্বশেষ নির্ণায়ক অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক থাকতে হয় ৩২ বা এর কম। সিডিপির হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ২৫ এবং পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে এটা ২৪.৮।

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, এই প্রক্রিয়া আগামী মার্চ থেকেই শুরু হবে। ২০২১ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হবে। আর এটি কার্যকর হবে ২০২৪ সালে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমাদের মন্ত্রিপরিষদ মিটিংয়ে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি এটি আমাদের গর্ব। আমরা অনেক উন্নয়নশীল দেশ থেকে ভাল অবস্থানে আছি। পাকিস্তান থেকে আমরা অনেক সূচকে এগিয়ে আছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারত থেকে আমরা এগিয়ে আছি।’

বাংলাদেশ স্বল্পোন্ন দেশ থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিয়ায় উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সুযোগ সুবিধাও কমে যাবে। গত ১৭ জানুয়রি রাজধানীতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নশীল দেশসমূহের সমকক্ষ হবে। তবে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করে যা ট্রানজিশনের পর বন্ধ হয়ে যাবে।’ অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্ষেত্রে প্রস্তুতির মাধ্যমে আমাদেরকে তা পুষিয়ে নিতে হবে এবং আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ তার প্রভাব মোকাবেলায় কৌশলগত প্রস্তুতি ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে।