ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

রাসিক মেয়রের সামনে সংঘর্ষে দুই কাউন্সিলরসহ আহত ৬

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) বিশেষ মতবিনিময় সভায় মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের উপস্থিতিতে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারী কাউন্সিলরসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চলমান ১১ দফা আন্দোলনের জের ধরে নগর ভবনের নিচতলায় বেলা ৩টার দিকে কর্পোরেশনের স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছিলেন মেয়র বুলবুল। সভায় কর্মচারীদের আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী এক কাউন্সিলরের মন্তব্যের জের ধরে বিকেল ৫টার দিকে সংঘর্ষ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নুরুন্নাহার বেগম ও মুসলিমা বেগম বেলী, মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মো. টুটুল, কর্মচারী ইউনিয়নের উপদেষ্টা সুমন হোসেন, জালাল উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম লাবু। এ ঘটনায় নগরভবনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের ১১ দফা দাবি নিয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে মেয়র মোসদ্দেক হোসেন বুলবুল নগর ভবনের নিচতলায় স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। সভায় কয়েকজন কাউন্সিলরও অংশ নেন।

সভা চলাকালে ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হামিদ সরকার টেকন বলেন, ‘কর্মচারীরা করপোরেশনের গেট, নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র চিড়িয়াখানা ও কেন্দ্রীয় উদ্যানের মূল ফটকে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছেন। এভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার অধিকার তাদের নেই। তিনি বলেন, দাবি আদায়ের আন্দোলন করবেন ভালো কথা, কিন্তু এটা করতে গিয়ে যাচ্ছে-তাই করবেন, এটা মেনে নেওয়া হবে না। আপনাদের আন্দোলন তো জঙ্গি স্টাইলের মতো হয়ে গেছে।’ তার এই বক্তব্যের পরপর প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য দাবি জানান রাসিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখ। এ নিয়ে সভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মেয়রের উপস্থিতিতেই আন্দোলনকারীদের পক্ষের কর্মচারীরা চেয়ার ভাংচুর শুরু করে। এ নিয়ে বাধা দিতে গেলে মেয়রের পক্ষের কর্মচারীদের সঙ্গে আন্দোলনের পক্ষের কর্মচারীদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এরপর সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মেয়র বুলবুল রাসিক কর্মচারী ইউনিয়ন ও তাদের সকল কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অস্থায়ী কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে তিনি স্থায়ী কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। এতে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা হামলা চালান। এ হামলা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বলে দাবি করেন মেয়র। তিনি বলেন, যারা কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে রাসিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহমেদ মামুন বলেন, ওই সভায় ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ সরকার টেকন আন্দোলনকারী শ্রমিকদের জঙ্গির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কর্মচারীদের এ আন্দোলন জঙ্গিদের মতো। তার এ কথারই প্রতিবাদ করেছিলেন ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম লাবু। একপর্যায়ে কাউন্সিলর টেকনসহ মেয়রের অনুসারী অন্য কাউন্সিলর ও কর্মচারীরা অস্থায়ী কর্মচারীদের মারপিট শুরু করেন।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, নগর ভবনে সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বর্তমানে সেখানে উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

রাসিক মেয়রের সামনে সংঘর্ষে দুই কাউন্সিলরসহ আহত ৬

আপডেট সময় ০১:২৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) বিশেষ মতবিনিময় সভায় মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের উপস্থিতিতে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারী কাউন্সিলরসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চলমান ১১ দফা আন্দোলনের জের ধরে নগর ভবনের নিচতলায় বেলা ৩টার দিকে কর্পোরেশনের স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছিলেন মেয়র বুলবুল। সভায় কর্মচারীদের আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী এক কাউন্সিলরের মন্তব্যের জের ধরে বিকেল ৫টার দিকে সংঘর্ষ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নুরুন্নাহার বেগম ও মুসলিমা বেগম বেলী, মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মো. টুটুল, কর্মচারী ইউনিয়নের উপদেষ্টা সুমন হোসেন, জালাল উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম লাবু। এ ঘটনায় নগরভবনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের ১১ দফা দাবি নিয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে মেয়র মোসদ্দেক হোসেন বুলবুল নগর ভবনের নিচতলায় স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। সভায় কয়েকজন কাউন্সিলরও অংশ নেন।

সভা চলাকালে ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হামিদ সরকার টেকন বলেন, ‘কর্মচারীরা করপোরেশনের গেট, নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র চিড়িয়াখানা ও কেন্দ্রীয় উদ্যানের মূল ফটকে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছেন। এভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার অধিকার তাদের নেই। তিনি বলেন, দাবি আদায়ের আন্দোলন করবেন ভালো কথা, কিন্তু এটা করতে গিয়ে যাচ্ছে-তাই করবেন, এটা মেনে নেওয়া হবে না। আপনাদের আন্দোলন তো জঙ্গি স্টাইলের মতো হয়ে গেছে।’ তার এই বক্তব্যের পরপর প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য দাবি জানান রাসিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখ। এ নিয়ে সভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মেয়রের উপস্থিতিতেই আন্দোলনকারীদের পক্ষের কর্মচারীরা চেয়ার ভাংচুর শুরু করে। এ নিয়ে বাধা দিতে গেলে মেয়রের পক্ষের কর্মচারীদের সঙ্গে আন্দোলনের পক্ষের কর্মচারীদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এরপর সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মেয়র বুলবুল রাসিক কর্মচারী ইউনিয়ন ও তাদের সকল কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অস্থায়ী কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে তিনি স্থায়ী কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। এতে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা হামলা চালান। এ হামলা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বলে দাবি করেন মেয়র। তিনি বলেন, যারা কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে রাসিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহমেদ মামুন বলেন, ওই সভায় ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ সরকার টেকন আন্দোলনকারী শ্রমিকদের জঙ্গির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কর্মচারীদের এ আন্দোলন জঙ্গিদের মতো। তার এ কথারই প্রতিবাদ করেছিলেন ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম লাবু। একপর্যায়ে কাউন্সিলর টেকনসহ মেয়রের অনুসারী অন্য কাউন্সিলর ও কর্মচারীরা অস্থায়ী কর্মচারীদের মারপিট শুরু করেন।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, নগর ভবনে সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বর্তমানে সেখানে উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।