ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নিহত তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি!

বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করতে আমরাই বাধ্য করেছি: নওয়াজ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

একাত্তরে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মমতার কথা স্বীকার করে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, হিংস্র আচরণ করে বাঙালিদের আমরা নিজেদের থেকে আলাদা করে দিয়েছি। মঙ্গলবার ইসলামাবাদের পাঞ্জাব হাউজে নিজ দলের প্রতিনিধি সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর: ডন উর্দু। নওয়াজ শরীফ বলেন, ‘পাকিস্তান তৈরিতে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা-কষ্ট করেছে বাঙালিরা। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে হিংস্র আচরণ করেছি এবং নিজেদের থেকে আলাদা করে দিয়েছি। ফলে পাকিস্তান দুই টুকরো হয়ে গেছে।’

সাবেক এই পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এসব বিষয় অধ্যয়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা এমন কী কী করেছি যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আবেগ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এরা তো সেই জনগণ ছিল, যারা কায়েদে আজমের (মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ) সঙ্গে পাকিস্তান বানাতে নিয়ামকের ভূমিকা রেখেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা ভাগ হয়ে যাওয়া নিয়ে বিচারপতি হামুদুর রহমান যে কমিশন গঠন করেছিলেন, তারা সব খুঁটিনাটি কারণ উদ্ঘাটন করেছিলেন এবং সত্য প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের কেউ ওই কমিশনের রিপোর্ট আমলে নেয়নি। আমরা যদি সে অনুযায়ী কাজ করতাম, তাহলে আজকের পাকিস্তান ভিন্ন রকম হতো।’

ফেডারেল ব্যবস্থা এবং সংবিধানে মুসলিমদের সুরক্ষা প্রদানে হিন্দুদের বিরোধিতার কারণে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হয়। ভূখণ্ড ভাগে ন্যায্যতার দাবিতে চলা আন্দোলনে জিন্নাহর নেতৃত্বে অগ্রভাগেই ছিলেন বাঙালি নেতারা।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিকতন্ত্রের শোষণের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ নামে নতুন দেশের অভ্যুদয় হয়।

তবে পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো নিষ্ঠুরতা কারণে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। এতে শহীদ হয়েছিলেন ৩০ লাখ বাঙালি আর সম্ভ্রম হারিয়েছেন লাখো বাঙালি নারী।

এমনকি স্বাধীনতার মাত্র দু’দিন আগে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। পাক হানাদার বাহিনীকে একাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা এসব বাহিনী গঠন করেছিল।

শেখ মুজিব প্রসঙ্গে তিনবারের ক্ষমতাচ্যুত পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী ছিলেন না, কিন্তু আমরা তাকে বিদ্রোহী করেছিলাম।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করতে আমরাই বাধ্য করেছি: নওয়াজ

আপডেট সময় ০৯:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

একাত্তরে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মমতার কথা স্বীকার করে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, হিংস্র আচরণ করে বাঙালিদের আমরা নিজেদের থেকে আলাদা করে দিয়েছি। মঙ্গলবার ইসলামাবাদের পাঞ্জাব হাউজে নিজ দলের প্রতিনিধি সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর: ডন উর্দু। নওয়াজ শরীফ বলেন, ‘পাকিস্তান তৈরিতে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা-কষ্ট করেছে বাঙালিরা। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে হিংস্র আচরণ করেছি এবং নিজেদের থেকে আলাদা করে দিয়েছি। ফলে পাকিস্তান দুই টুকরো হয়ে গেছে।’

সাবেক এই পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এসব বিষয় অধ্যয়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা এমন কী কী করেছি যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আবেগ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এরা তো সেই জনগণ ছিল, যারা কায়েদে আজমের (মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ) সঙ্গে পাকিস্তান বানাতে নিয়ামকের ভূমিকা রেখেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা ভাগ হয়ে যাওয়া নিয়ে বিচারপতি হামুদুর রহমান যে কমিশন গঠন করেছিলেন, তারা সব খুঁটিনাটি কারণ উদ্ঘাটন করেছিলেন এবং সত্য প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের কেউ ওই কমিশনের রিপোর্ট আমলে নেয়নি। আমরা যদি সে অনুযায়ী কাজ করতাম, তাহলে আজকের পাকিস্তান ভিন্ন রকম হতো।’

ফেডারেল ব্যবস্থা এবং সংবিধানে মুসলিমদের সুরক্ষা প্রদানে হিন্দুদের বিরোধিতার কারণে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হয়। ভূখণ্ড ভাগে ন্যায্যতার দাবিতে চলা আন্দোলনে জিন্নাহর নেতৃত্বে অগ্রভাগেই ছিলেন বাঙালি নেতারা।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিকতন্ত্রের শোষণের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ নামে নতুন দেশের অভ্যুদয় হয়।

তবে পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো নিষ্ঠুরতা কারণে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। এতে শহীদ হয়েছিলেন ৩০ লাখ বাঙালি আর সম্ভ্রম হারিয়েছেন লাখো বাঙালি নারী।

এমনকি স্বাধীনতার মাত্র দু’দিন আগে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। পাক হানাদার বাহিনীকে একাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা এসব বাহিনী গঠন করেছিল।

শেখ মুজিব প্রসঙ্গে তিনবারের ক্ষমতাচ্যুত পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী ছিলেন না, কিন্তু আমরা তাকে বিদ্রোহী করেছিলাম।’