ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৪ জনের বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে: আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশবাসীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা টাঙ্গাইলে ‘জনতার সংযোগ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: আমান উল্লাহ আমান স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপে বাংলাদেশি যুবকের আত্মহত্যা

বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করতে আমরাই বাধ্য করেছি: নওয়াজ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

একাত্তরে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মমতার কথা স্বীকার করে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, হিংস্র আচরণ করে বাঙালিদের আমরা নিজেদের থেকে আলাদা করে দিয়েছি। মঙ্গলবার ইসলামাবাদের পাঞ্জাব হাউজে নিজ দলের প্রতিনিধি সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর: ডন উর্দু। নওয়াজ শরীফ বলেন, ‘পাকিস্তান তৈরিতে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা-কষ্ট করেছে বাঙালিরা। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে হিংস্র আচরণ করেছি এবং নিজেদের থেকে আলাদা করে দিয়েছি। ফলে পাকিস্তান দুই টুকরো হয়ে গেছে।’

সাবেক এই পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এসব বিষয় অধ্যয়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা এমন কী কী করেছি যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আবেগ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এরা তো সেই জনগণ ছিল, যারা কায়েদে আজমের (মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ) সঙ্গে পাকিস্তান বানাতে নিয়ামকের ভূমিকা রেখেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা ভাগ হয়ে যাওয়া নিয়ে বিচারপতি হামুদুর রহমান যে কমিশন গঠন করেছিলেন, তারা সব খুঁটিনাটি কারণ উদ্ঘাটন করেছিলেন এবং সত্য প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের কেউ ওই কমিশনের রিপোর্ট আমলে নেয়নি। আমরা যদি সে অনুযায়ী কাজ করতাম, তাহলে আজকের পাকিস্তান ভিন্ন রকম হতো।’

ফেডারেল ব্যবস্থা এবং সংবিধানে মুসলিমদের সুরক্ষা প্রদানে হিন্দুদের বিরোধিতার কারণে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হয়। ভূখণ্ড ভাগে ন্যায্যতার দাবিতে চলা আন্দোলনে জিন্নাহর নেতৃত্বে অগ্রভাগেই ছিলেন বাঙালি নেতারা।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিকতন্ত্রের শোষণের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ নামে নতুন দেশের অভ্যুদয় হয়।

তবে পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো নিষ্ঠুরতা কারণে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। এতে শহীদ হয়েছিলেন ৩০ লাখ বাঙালি আর সম্ভ্রম হারিয়েছেন লাখো বাঙালি নারী।

এমনকি স্বাধীনতার মাত্র দু’দিন আগে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। পাক হানাদার বাহিনীকে একাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা এসব বাহিনী গঠন করেছিল।

শেখ মুজিব প্রসঙ্গে তিনবারের ক্ষমতাচ্যুত পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী ছিলেন না, কিন্তু আমরা তাকে বিদ্রোহী করেছিলাম।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৪ জনের

বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করতে আমরাই বাধ্য করেছি: নওয়াজ

আপডেট সময় ০৯:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

একাত্তরে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মমতার কথা স্বীকার করে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, হিংস্র আচরণ করে বাঙালিদের আমরা নিজেদের থেকে আলাদা করে দিয়েছি। মঙ্গলবার ইসলামাবাদের পাঞ্জাব হাউজে নিজ দলের প্রতিনিধি সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর: ডন উর্দু। নওয়াজ শরীফ বলেন, ‘পাকিস্তান তৈরিতে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা-কষ্ট করেছে বাঙালিরা। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে হিংস্র আচরণ করেছি এবং নিজেদের থেকে আলাদা করে দিয়েছি। ফলে পাকিস্তান দুই টুকরো হয়ে গেছে।’

সাবেক এই পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এসব বিষয় অধ্যয়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা এমন কী কী করেছি যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আবেগ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এরা তো সেই জনগণ ছিল, যারা কায়েদে আজমের (মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ) সঙ্গে পাকিস্তান বানাতে নিয়ামকের ভূমিকা রেখেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা ভাগ হয়ে যাওয়া নিয়ে বিচারপতি হামুদুর রহমান যে কমিশন গঠন করেছিলেন, তারা সব খুঁটিনাটি কারণ উদ্ঘাটন করেছিলেন এবং সত্য প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের কেউ ওই কমিশনের রিপোর্ট আমলে নেয়নি। আমরা যদি সে অনুযায়ী কাজ করতাম, তাহলে আজকের পাকিস্তান ভিন্ন রকম হতো।’

ফেডারেল ব্যবস্থা এবং সংবিধানে মুসলিমদের সুরক্ষা প্রদানে হিন্দুদের বিরোধিতার কারণে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হয়। ভূখণ্ড ভাগে ন্যায্যতার দাবিতে চলা আন্দোলনে জিন্নাহর নেতৃত্বে অগ্রভাগেই ছিলেন বাঙালি নেতারা।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিকতন্ত্রের শোষণের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ নামে নতুন দেশের অভ্যুদয় হয়।

তবে পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো নিষ্ঠুরতা কারণে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। এতে শহীদ হয়েছিলেন ৩০ লাখ বাঙালি আর সম্ভ্রম হারিয়েছেন লাখো বাঙালি নারী।

এমনকি স্বাধীনতার মাত্র দু’দিন আগে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। পাক হানাদার বাহিনীকে একাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা এসব বাহিনী গঠন করেছিল।

শেখ মুজিব প্রসঙ্গে তিনবারের ক্ষমতাচ্যুত পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী ছিলেন না, কিন্তু আমরা তাকে বিদ্রোহী করেছিলাম।’