ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পুলিশের গাড়ি, দেশজুড়ে সতর্কতা জারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে ইরানের ভবিষ্যৎ: পেজেশকিয়ান সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, হজের বিমান ভাড়া আরও কমবে: পর্যটনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে : মির্জা ফখরুল জুলাই সনদ নয়, সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত সরকার: মাহমুদা মিতু গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না আ.লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতার মৃত্যু গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি: মঞ্জু মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

সু চিকে নিয়ে গান বানানো বোনোও তার পদত্যাগ চান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের নেত্রী আং সান সু চি যখন গৃহবন্দি ছিলেন, তখন তার মুক্তির দাবিতে বিশ্বজনমত গঠনে সবচেয়ে সরব ভূমিকা পালনকারীদের একজন ছিলেন রক ব্যান্ড ইউ-টু’র বোনো। কিন্তু সেই বোনো এখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিপীড়ন-হত্যার জন্য আং সান সু চির পদত্যাগ দাবি করেছেন।

২০০০ সালে বোনো আং সান সু চিকে নিয়ে একটি গান পর্যন্ত বেঁধেছিলেন। ‘ওয়াক অন’ নামের এই গানটি ২০০২ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড পর্যন্ত জিতেছিল। বোনো এমনকি এই গানটি বাজানোর সময় তার সমর্থকদের আং সান সুচির মুখোশ পরতে আহ্বান জানাতেন।

কিন্তু বোনো এখন বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং সেখানে রক্তপাতের ছবি দেখে তার বিবষিমা হচ্ছে। রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই অসুস্থ বোধ করছি। কারণ সব প্রমাণ যেদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছে তা দেখে আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না। কিন্তু সেখানেই আসলেই জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে।’

এটা সত্যি সত্যি ঘটছে এবং তাকে (আং সান সু চি) পদত্যাগ করতে হবে কারণ তিনি জানেন এটা ঘটছে। তার তো অন্তত এটা নিয়ে আরও বেশি কথা বলা উচিত। আর যদি তার কথা কেউ না শোনো, তার পদত্যাগ করা উচিত। জাতিসংঘসহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা ঘটছে তাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে বর্ণনা করেছে।

নব্বইয়ের দশকে আং সান সু চি যখন মিয়ানমারে গণতন্ত্রের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন বিশ্বজুড়ে অনেক তারকা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, তার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করেছিলেন। ২০১৫ সালে আং সান সু চি যখন মিয়ানমারের ক্ষমতায় এলেন তখন তার সমর্থকরা ছিলেন উল্লসিত। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিপীড়ন শুরু হওয়ার পর খুব তাড়াতাড়ি তাদের মোহভঙ্গ ঘটে। তাদের অনেকেই সুচির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হন।

এ মাসেরই শুরুতে আরেক আইরিশ পপ তারকা বব গেলডফ একই রকমভাবে আং সান সু চির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির ভূমিকার প্রতিবাদে তিনি ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব ডাবলিন’ পুরস্কার ফিরিয়ে দেবেন। কারণ সু চিকেও এই একই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এরপর অবশ্য সিটি অব ডাবলিন আং সান সুচিকে দেয়া এই পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পুলিশের গাড়ি, দেশজুড়ে সতর্কতা জারি

সু চিকে নিয়ে গান বানানো বোনোও তার পদত্যাগ চান

আপডেট সময় ১১:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের নেত্রী আং সান সু চি যখন গৃহবন্দি ছিলেন, তখন তার মুক্তির দাবিতে বিশ্বজনমত গঠনে সবচেয়ে সরব ভূমিকা পালনকারীদের একজন ছিলেন রক ব্যান্ড ইউ-টু’র বোনো। কিন্তু সেই বোনো এখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিপীড়ন-হত্যার জন্য আং সান সু চির পদত্যাগ দাবি করেছেন।

২০০০ সালে বোনো আং সান সু চিকে নিয়ে একটি গান পর্যন্ত বেঁধেছিলেন। ‘ওয়াক অন’ নামের এই গানটি ২০০২ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড পর্যন্ত জিতেছিল। বোনো এমনকি এই গানটি বাজানোর সময় তার সমর্থকদের আং সান সুচির মুখোশ পরতে আহ্বান জানাতেন।

কিন্তু বোনো এখন বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং সেখানে রক্তপাতের ছবি দেখে তার বিবষিমা হচ্ছে। রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই অসুস্থ বোধ করছি। কারণ সব প্রমাণ যেদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছে তা দেখে আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না। কিন্তু সেখানেই আসলেই জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে।’

এটা সত্যি সত্যি ঘটছে এবং তাকে (আং সান সু চি) পদত্যাগ করতে হবে কারণ তিনি জানেন এটা ঘটছে। তার তো অন্তত এটা নিয়ে আরও বেশি কথা বলা উচিত। আর যদি তার কথা কেউ না শোনো, তার পদত্যাগ করা উচিত। জাতিসংঘসহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা ঘটছে তাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে বর্ণনা করেছে।

নব্বইয়ের দশকে আং সান সু চি যখন মিয়ানমারে গণতন্ত্রের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন বিশ্বজুড়ে অনেক তারকা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, তার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করেছিলেন। ২০১৫ সালে আং সান সু চি যখন মিয়ানমারের ক্ষমতায় এলেন তখন তার সমর্থকরা ছিলেন উল্লসিত। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিপীড়ন শুরু হওয়ার পর খুব তাড়াতাড়ি তাদের মোহভঙ্গ ঘটে। তাদের অনেকেই সুচির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হন।

এ মাসেরই শুরুতে আরেক আইরিশ পপ তারকা বব গেলডফ একই রকমভাবে আং সান সু চির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির ভূমিকার প্রতিবাদে তিনি ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব ডাবলিন’ পুরস্কার ফিরিয়ে দেবেন। কারণ সু চিকেও এই একই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এরপর অবশ্য সিটি অব ডাবলিন আং সান সুচিকে দেয়া এই পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়।