ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

সু চিকে নিয়ে গান বানানো বোনোও তার পদত্যাগ চান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের নেত্রী আং সান সু চি যখন গৃহবন্দি ছিলেন, তখন তার মুক্তির দাবিতে বিশ্বজনমত গঠনে সবচেয়ে সরব ভূমিকা পালনকারীদের একজন ছিলেন রক ব্যান্ড ইউ-টু’র বোনো। কিন্তু সেই বোনো এখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিপীড়ন-হত্যার জন্য আং সান সু চির পদত্যাগ দাবি করেছেন।

২০০০ সালে বোনো আং সান সু চিকে নিয়ে একটি গান পর্যন্ত বেঁধেছিলেন। ‘ওয়াক অন’ নামের এই গানটি ২০০২ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড পর্যন্ত জিতেছিল। বোনো এমনকি এই গানটি বাজানোর সময় তার সমর্থকদের আং সান সুচির মুখোশ পরতে আহ্বান জানাতেন।

কিন্তু বোনো এখন বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং সেখানে রক্তপাতের ছবি দেখে তার বিবষিমা হচ্ছে। রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই অসুস্থ বোধ করছি। কারণ সব প্রমাণ যেদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছে তা দেখে আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না। কিন্তু সেখানেই আসলেই জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে।’

এটা সত্যি সত্যি ঘটছে এবং তাকে (আং সান সু চি) পদত্যাগ করতে হবে কারণ তিনি জানেন এটা ঘটছে। তার তো অন্তত এটা নিয়ে আরও বেশি কথা বলা উচিত। আর যদি তার কথা কেউ না শোনো, তার পদত্যাগ করা উচিত। জাতিসংঘসহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা ঘটছে তাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে বর্ণনা করেছে।

নব্বইয়ের দশকে আং সান সু চি যখন মিয়ানমারে গণতন্ত্রের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন বিশ্বজুড়ে অনেক তারকা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, তার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করেছিলেন। ২০১৫ সালে আং সান সু চি যখন মিয়ানমারের ক্ষমতায় এলেন তখন তার সমর্থকরা ছিলেন উল্লসিত। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিপীড়ন শুরু হওয়ার পর খুব তাড়াতাড়ি তাদের মোহভঙ্গ ঘটে। তাদের অনেকেই সুচির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হন।

এ মাসেরই শুরুতে আরেক আইরিশ পপ তারকা বব গেলডফ একই রকমভাবে আং সান সু চির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির ভূমিকার প্রতিবাদে তিনি ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব ডাবলিন’ পুরস্কার ফিরিয়ে দেবেন। কারণ সু চিকেও এই একই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এরপর অবশ্য সিটি অব ডাবলিন আং সান সুচিকে দেয়া এই পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছয় দিনে হরমুজ প্রণালি খোলার শর্ত দিল ইরান

সু চিকে নিয়ে গান বানানো বোনোও তার পদত্যাগ চান

আপডেট সময় ১১:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের নেত্রী আং সান সু চি যখন গৃহবন্দি ছিলেন, তখন তার মুক্তির দাবিতে বিশ্বজনমত গঠনে সবচেয়ে সরব ভূমিকা পালনকারীদের একজন ছিলেন রক ব্যান্ড ইউ-টু’র বোনো। কিন্তু সেই বোনো এখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিপীড়ন-হত্যার জন্য আং সান সু চির পদত্যাগ দাবি করেছেন।

২০০০ সালে বোনো আং সান সু চিকে নিয়ে একটি গান পর্যন্ত বেঁধেছিলেন। ‘ওয়াক অন’ নামের এই গানটি ২০০২ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড পর্যন্ত জিতেছিল। বোনো এমনকি এই গানটি বাজানোর সময় তার সমর্থকদের আং সান সুচির মুখোশ পরতে আহ্বান জানাতেন।

কিন্তু বোনো এখন বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং সেখানে রক্তপাতের ছবি দেখে তার বিবষিমা হচ্ছে। রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই অসুস্থ বোধ করছি। কারণ সব প্রমাণ যেদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছে তা দেখে আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না। কিন্তু সেখানেই আসলেই জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে।’

এটা সত্যি সত্যি ঘটছে এবং তাকে (আং সান সু চি) পদত্যাগ করতে হবে কারণ তিনি জানেন এটা ঘটছে। তার তো অন্তত এটা নিয়ে আরও বেশি কথা বলা উচিত। আর যদি তার কথা কেউ না শোনো, তার পদত্যাগ করা উচিত। জাতিসংঘসহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা ঘটছে তাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে বর্ণনা করেছে।

নব্বইয়ের দশকে আং সান সু চি যখন মিয়ানমারে গণতন্ত্রের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন বিশ্বজুড়ে অনেক তারকা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, তার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করেছিলেন। ২০১৫ সালে আং সান সু চি যখন মিয়ানমারের ক্ষমতায় এলেন তখন তার সমর্থকরা ছিলেন উল্লসিত। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিপীড়ন শুরু হওয়ার পর খুব তাড়াতাড়ি তাদের মোহভঙ্গ ঘটে। তাদের অনেকেই সুচির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হন।

এ মাসেরই শুরুতে আরেক আইরিশ পপ তারকা বব গেলডফ একই রকমভাবে আং সান সু চির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির ভূমিকার প্রতিবাদে তিনি ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব ডাবলিন’ পুরস্কার ফিরিয়ে দেবেন। কারণ সু চিকেও এই একই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এরপর অবশ্য সিটি অব ডাবলিন আং সান সুচিকে দেয়া এই পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়।