ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সাবধান! এই লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নেই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘সাবধান! এই লেভেল ক্রসিং গেটে গেটম্যান নেই। নিজ দায়িত্বে ও সাবধানে এই লেভেল ক্রসিং গেট পারাপার হইবেন।’ বর্তমানে যাতায়াতে দেশের প্রধানতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রেলপথে ক্রসিং গেটে এরকম একটি সাইনবোর্ড নজরে পড়ল। গেটম্যানের ব্যবস্থা না করে ব্যস্ততম রেলপথের ক্রসিংগুলোতে এসব সাইন বোর্ড দুর্ঘটনা এড়াতে কতটুকু কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এটা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

ঢাকা-উত্তরবঙ্গের রেলসড়কে টাঙ্গাইলের বাসাইল অংশে পাঁচটি লেভেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন যানবাহনসহ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর, হাবলা ইউনিয়নের সহেরাতুল, টেঙ্গুরিয়াপাড়া, সালিনাপাড়া ও সোনালিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় রেলপথের ওপর দিয়ে যাওয়া সড়কপথের লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় এসব ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহন। শিক্ষার্থীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব লেভেল ক্রসিং পারাপার হয়।

লেভেল ক্রসিংয়ে সতর্কতামূলক ‘এই লেভেল ক্রসিং গেটে গেটম্যান নাই, নিজ দায়িত্বে ও সাবধানে লেভেল ক্রসিং পারাপার হইবেন’- এ জাতীয় লেখা সাইনবোর্ড দেখা গেলেও অধিকাংশ লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তা গেট বা এ জাতীয় কোনো সাইনবোর্ডও নেই। এসব এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কোনো ধরনের বাতিও নেই। বিশেষ করে দাপনাজোর এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে বড় ধরনের বাঁক থাকায় ট্রেন আসছে কি না কোনো সংকেতও পাওয়া যায় না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এখানে। শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হয় পথচারীদের।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক বিকাশ সরকার বলেন, দাপনাজোরে লেভের ক্রসিংয়ে সিগন্যাল বার ও গেটম্যান নেই। বেশ কয়েকবার এখানে ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের ধাক্কা লেগেছে। এখানে রেলপথে বাঁক থাকায় ট্রেন আসছে কি না তাও দেখা যায় না। ট্রেন না দেখেই যানবাহন পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিত দুর্ঘটনা ঘটছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দাপনাজোর এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান ও সিগন্যাল বারের প্রয়োজনীয়তা আমাদের ছাড়া কেউই উপলব্ধি করে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের লেভেল ক্রসিং পারাপার হতে হচ্ছে।

বাসাইল-করটিয়ার সড়কের সোনালিয়া গেটম্যান রফিকুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে বলেন, বাসাইল অংশে দাপনাজোর এলাকায় লেভেল ক্রসিং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ইতোপূর্বেও কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ট্রেনের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে তিনজন আরোহী গুরুতর আহত হন।

তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টায় এ রেলপথ দিয়ে ২৫/২৬ বার ট্রেন যাতায়াত করে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল (ঘারিন্দা) রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জালাল উদ্দিন দৈনিক আকাশকে বলেন, বাসাইলের লেভেল ক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গেটম্যান নিয়োগ জরুরি। বিষয়টি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগ দেখাশোনা করে। তারা এ ব্যাপারে অবহিতও আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবধান! এই লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নেই

আপডেট সময় ০১:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘সাবধান! এই লেভেল ক্রসিং গেটে গেটম্যান নেই। নিজ দায়িত্বে ও সাবধানে এই লেভেল ক্রসিং গেট পারাপার হইবেন।’ বর্তমানে যাতায়াতে দেশের প্রধানতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রেলপথে ক্রসিং গেটে এরকম একটি সাইনবোর্ড নজরে পড়ল। গেটম্যানের ব্যবস্থা না করে ব্যস্ততম রেলপথের ক্রসিংগুলোতে এসব সাইন বোর্ড দুর্ঘটনা এড়াতে কতটুকু কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এটা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

ঢাকা-উত্তরবঙ্গের রেলসড়কে টাঙ্গাইলের বাসাইল অংশে পাঁচটি লেভেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন যানবাহনসহ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর, হাবলা ইউনিয়নের সহেরাতুল, টেঙ্গুরিয়াপাড়া, সালিনাপাড়া ও সোনালিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় রেলপথের ওপর দিয়ে যাওয়া সড়কপথের লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় এসব ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহন। শিক্ষার্থীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব লেভেল ক্রসিং পারাপার হয়।

লেভেল ক্রসিংয়ে সতর্কতামূলক ‘এই লেভেল ক্রসিং গেটে গেটম্যান নাই, নিজ দায়িত্বে ও সাবধানে লেভেল ক্রসিং পারাপার হইবেন’- এ জাতীয় লেখা সাইনবোর্ড দেখা গেলেও অধিকাংশ লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তা গেট বা এ জাতীয় কোনো সাইনবোর্ডও নেই। এসব এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কোনো ধরনের বাতিও নেই। বিশেষ করে দাপনাজোর এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে বড় ধরনের বাঁক থাকায় ট্রেন আসছে কি না কোনো সংকেতও পাওয়া যায় না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এখানে। শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হয় পথচারীদের।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক বিকাশ সরকার বলেন, দাপনাজোরে লেভের ক্রসিংয়ে সিগন্যাল বার ও গেটম্যান নেই। বেশ কয়েকবার এখানে ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের ধাক্কা লেগেছে। এখানে রেলপথে বাঁক থাকায় ট্রেন আসছে কি না তাও দেখা যায় না। ট্রেন না দেখেই যানবাহন পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিত দুর্ঘটনা ঘটছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দাপনাজোর এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান ও সিগন্যাল বারের প্রয়োজনীয়তা আমাদের ছাড়া কেউই উপলব্ধি করে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের লেভেল ক্রসিং পারাপার হতে হচ্ছে।

বাসাইল-করটিয়ার সড়কের সোনালিয়া গেটম্যান রফিকুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে বলেন, বাসাইল অংশে দাপনাজোর এলাকায় লেভেল ক্রসিং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ইতোপূর্বেও কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ট্রেনের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে তিনজন আরোহী গুরুতর আহত হন।

তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টায় এ রেলপথ দিয়ে ২৫/২৬ বার ট্রেন যাতায়াত করে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল (ঘারিন্দা) রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জালাল উদ্দিন দৈনিক আকাশকে বলেন, বাসাইলের লেভেল ক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গেটম্যান নিয়োগ জরুরি। বিষয়টি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগ দেখাশোনা করে। তারা এ ব্যাপারে অবহিতও আছে।