ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্প কে, প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের সংসদে ক্ষোভ ঝাড়লেন হাসনাত আব্দুল্লাহ উন্নয়নমূলক কাজে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে: ডেপুটি স্পিকার দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব সংস্কৃতিচর্চায় শিক্ষার্থীদের উগ্র চিন্তার প্রতি আকর্ষণ কমে যায় : ববি হাজ্জাজ সংকট না থাকলে রাস্তায় তেলের জন্য ৩ কিমি লম্বা লাইন কেন, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, আর দেশে বাড়ছে: জামায়াত আমির অতীতে কেউ ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন: নাহিদ সোমবার থেকে সারা দেশে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু

বিরল রোগে দুই চোখ হারাতে বসেছে শিশু মীম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আট বছরের শিশু মীমের শরীর এখন কালো-কালো ছাপে ফোসকা পড়েছে। সেগুলো আবার ফুটে ঘায়ের মতো তৈরি হয়। আবার শুকে গিয়ে হচ্ছে কালচে রঙের। সারা শরীরের ব্যথায় ছটফট করে মীম। ফোসকাগুলো আগুনের মতো জ্বালা করে। কিছুদিন থেকে চোখ দুটি আক্রান্ত হয়ে লালচে হয়ে গেছে। এতে করে বর্তমানে আলোর দিকে তাকাতে পারে না। ফলে হারাতে বসেছে চোখ দুটো। অনেক চিকিৎসা করেও লাভ হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে। দিনমজুর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। মেয়ের এমন অবস্থায় সারাক্ষণ কেঁদে অস্থির মা মরিয়ম বেগম।

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেড়ছড়া ইউনিয়নের কালিরহাট গ্রামের দিনমজুর জাহেদুল ইসলামের মেয়ে মীমের বর্তমান বয়স আট বছর। জন্মের পর দুই বছর বয়সের সময় হঠাৎ বিরল রোগ দেখা দেয় মীমের। পুরো শরীরেই ওঠে ফোসকা। সেগুলো পরবর্তী সময়ে গলে যায়। আস্তে আস্তে সারা শরীর তার ঢেকে যায় এ রোগে।

ডাঙ্গিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মীম। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে চোখে ঠিকমত দেখতে না পাওয়ায় সে স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

মীমের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ছয় সাত মাস আগে তাকে রংপুরে এক মহিলা চিকিৎসককে দেখানো হয়। তার দেয়া ওষুধ খাওয়ার পর অসুখটি বেড়ে যায়। সেটি এখন চোখ দিয়েও বের হচ্ছে। কানেও কম শুনতে পায়। ভালো করে কথাও বলতে পারছে না। শুধু কান্নাকাটি করে। আমি মা হয়ে সহ্য করতে পারছি না মেয়ের কান্না। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। অনেকেই বলেছে ঢাকায় ভালো ডাক্তার দেখাতে। তাই ইউএনও স্যারের কাছে মেয়েকে নিয়ে আসছি সাহায্যের জন্য।

মীমের বাবা জাহেদুল ইসলাম বলেন, থাকি ওয়াপদা বাঁধের উপর। দিন করে দিন খাই। এরমধ্যে পর্যায়ক্রমে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা মেয়ের চিকিৎসা করতে গেছে। কিন্তু দিন দিন অসুখ বেড়েই চলছে। আর ক্ষমতা নেই।

এ ব্যাপারে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএইচএম মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসী দৈনিক আকাশকে বলেন, এ রোগটিকে সরিয়াসিস বলা হয়। এর চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা প্রয়োজন। আমার কাছে মীমের মা একটি আবেদন নিয়ে এসেছে। আমরা সামান্য কিছু হয়তো দিতে পারবো। কিন্তু এটা দীর্ঘদিন চিকিৎসা করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্প কে, প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের

বিরল রোগে দুই চোখ হারাতে বসেছে শিশু মীম

আপডেট সময় ১১:৪৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আট বছরের শিশু মীমের শরীর এখন কালো-কালো ছাপে ফোসকা পড়েছে। সেগুলো আবার ফুটে ঘায়ের মতো তৈরি হয়। আবার শুকে গিয়ে হচ্ছে কালচে রঙের। সারা শরীরের ব্যথায় ছটফট করে মীম। ফোসকাগুলো আগুনের মতো জ্বালা করে। কিছুদিন থেকে চোখ দুটি আক্রান্ত হয়ে লালচে হয়ে গেছে। এতে করে বর্তমানে আলোর দিকে তাকাতে পারে না। ফলে হারাতে বসেছে চোখ দুটো। অনেক চিকিৎসা করেও লাভ হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে। দিনমজুর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। মেয়ের এমন অবস্থায় সারাক্ষণ কেঁদে অস্থির মা মরিয়ম বেগম।

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেড়ছড়া ইউনিয়নের কালিরহাট গ্রামের দিনমজুর জাহেদুল ইসলামের মেয়ে মীমের বর্তমান বয়স আট বছর। জন্মের পর দুই বছর বয়সের সময় হঠাৎ বিরল রোগ দেখা দেয় মীমের। পুরো শরীরেই ওঠে ফোসকা। সেগুলো পরবর্তী সময়ে গলে যায়। আস্তে আস্তে সারা শরীর তার ঢেকে যায় এ রোগে।

ডাঙ্গিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মীম। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে চোখে ঠিকমত দেখতে না পাওয়ায় সে স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

মীমের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ছয় সাত মাস আগে তাকে রংপুরে এক মহিলা চিকিৎসককে দেখানো হয়। তার দেয়া ওষুধ খাওয়ার পর অসুখটি বেড়ে যায়। সেটি এখন চোখ দিয়েও বের হচ্ছে। কানেও কম শুনতে পায়। ভালো করে কথাও বলতে পারছে না। শুধু কান্নাকাটি করে। আমি মা হয়ে সহ্য করতে পারছি না মেয়ের কান্না। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। অনেকেই বলেছে ঢাকায় ভালো ডাক্তার দেখাতে। তাই ইউএনও স্যারের কাছে মেয়েকে নিয়ে আসছি সাহায্যের জন্য।

মীমের বাবা জাহেদুল ইসলাম বলেন, থাকি ওয়াপদা বাঁধের উপর। দিন করে দিন খাই। এরমধ্যে পর্যায়ক্রমে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা মেয়ের চিকিৎসা করতে গেছে। কিন্তু দিন দিন অসুখ বেড়েই চলছে। আর ক্ষমতা নেই।

এ ব্যাপারে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএইচএম মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসী দৈনিক আকাশকে বলেন, এ রোগটিকে সরিয়াসিস বলা হয়। এর চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা প্রয়োজন। আমার কাছে মীমের মা একটি আবেদন নিয়ে এসেছে। আমরা সামান্য কিছু হয়তো দিতে পারবো। কিন্তু এটা দীর্ঘদিন চিকিৎসা করতে হবে।