ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি বিএনপি নেতার মৃত্যু, অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার

মিয়ানমারে এক মাসে ৬,৭০০ রোহিঙ্গা হত্যা: এমএসএফ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। আর কেবল প্রথম এক মাসেই এই সহিংসতার শিকার হয়ে মারা গেছে ৯ হাজার রোহিঙ্গা। এই লোমহর্ষক পরিসংখ্যান দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানে ৪০০ জনের প্রাণহানির দাবি করলেও এমএসএফ বলছে, এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। অভিযানের মুখে সীমান্তের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সমীক্ষা শেষে মানবাধিকার সংগঠনটির বক্তব্য, এটা এখন পর্যন্ত ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপকতর সহিংসতার স্পষ্ট নিদের্শন’ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে।

এমএসএফের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) এ খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। অভিযানের কারণ হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযোগ তুলছে রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলাকে। একইসঙ্গে তারা নিজেদের অপকর্মের অভিযোগও বরাবর অস্বীকার করে আসছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের পর প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এমএসএফও বলছে, এ সংখ্যা ৬ লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি। মানবাধিকার সংগঠনটির সমীক্ষা অনুযায়ী, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত সরাসরি ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। আবার ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক মাসেই সংঘাতের শিকার হয়ে মারা গেছে ৯ হাজার রোহিঙ্গা, যার মধ্যে ৭৩০ জন ছিল ৫ বছরেরও কম বয়সী শিশু।

এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যে ৬ হাজার ৭০০ জনকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে, তাদের ৬৯ শতাংশেরই প্রাণ গেছে গুলিতে। ৯ শতাংশকে মারা হয়েছে তাদের ঘরে অগ্নিসংযোগ করে জীবন্ত পুড়িয়ে, ৫ শতাংশকে মারা হয়েছে পিটিয়ে। বাকিদেরও মারা হয়েছে নানা নৃশংস কায়দায়। আর যে শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, তাদেরও ৫৯ শতাংশকে মারা হয়েছে গুলি করে, ১৫ শতাংশকে পুড়িয়ে এবং ৭ শতাংশকে মারা হয়েছে পিটিয়ে।

এমএসএফের মেডিকেল ডিরেক্টর সিডনি ওং বলেন, সমীক্ষা চালিয়ে আমরা যা পেয়েছি তা পুরোপুরি হতভম্ভ করে দেওয়ার মতো, সেটা সহিংসতার কারণে মৃত্যু হোক অথবা নৃশংস কায়দায় হত্যা ও জখমের ঘটনা হোক।

এই মানবাধিকার নেতা বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের সব শরণার্থী স্থাপনায় যাওয়া যায়নি, তাই এই পরিসংখ্যান ‘অপূর্ণাঙ্গ’ হতে পারে। তাছাড়া অনেক নিপীড়িত বা স্বজন হারানো পরিবারই মিয়ানমারের বাইরে তাদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

এই সংঘাতের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অভিযান শিথিল করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিশ্ববাসীর দাবির প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিও করে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু, আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা এখনও বাংলাদেশ অভিমুখে যাচ্ছে বলে এটিকে অনেক বেশি ‘তাড়াহুড়ো করে সম্পাদিত অপূর্ণাঙ্গ’ (প্রিম্যাচিউর) চুক্তি বলছে এমএসএফ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারে এক মাসে ৬,৭০০ রোহিঙ্গা হত্যা: এমএসএফ

আপডেট সময় ০১:০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। আর কেবল প্রথম এক মাসেই এই সহিংসতার শিকার হয়ে মারা গেছে ৯ হাজার রোহিঙ্গা। এই লোমহর্ষক পরিসংখ্যান দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানে ৪০০ জনের প্রাণহানির দাবি করলেও এমএসএফ বলছে, এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। অভিযানের মুখে সীমান্তের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সমীক্ষা শেষে মানবাধিকার সংগঠনটির বক্তব্য, এটা এখন পর্যন্ত ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপকতর সহিংসতার স্পষ্ট নিদের্শন’ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে।

এমএসএফের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) এ খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। অভিযানের কারণ হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযোগ তুলছে রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলাকে। একইসঙ্গে তারা নিজেদের অপকর্মের অভিযোগও বরাবর অস্বীকার করে আসছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের পর প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এমএসএফও বলছে, এ সংখ্যা ৬ লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি। মানবাধিকার সংগঠনটির সমীক্ষা অনুযায়ী, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত সরাসরি ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। আবার ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক মাসেই সংঘাতের শিকার হয়ে মারা গেছে ৯ হাজার রোহিঙ্গা, যার মধ্যে ৭৩০ জন ছিল ৫ বছরেরও কম বয়সী শিশু।

এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যে ৬ হাজার ৭০০ জনকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে, তাদের ৬৯ শতাংশেরই প্রাণ গেছে গুলিতে। ৯ শতাংশকে মারা হয়েছে তাদের ঘরে অগ্নিসংযোগ করে জীবন্ত পুড়িয়ে, ৫ শতাংশকে মারা হয়েছে পিটিয়ে। বাকিদেরও মারা হয়েছে নানা নৃশংস কায়দায়। আর যে শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, তাদেরও ৫৯ শতাংশকে মারা হয়েছে গুলি করে, ১৫ শতাংশকে পুড়িয়ে এবং ৭ শতাংশকে মারা হয়েছে পিটিয়ে।

এমএসএফের মেডিকেল ডিরেক্টর সিডনি ওং বলেন, সমীক্ষা চালিয়ে আমরা যা পেয়েছি তা পুরোপুরি হতভম্ভ করে দেওয়ার মতো, সেটা সহিংসতার কারণে মৃত্যু হোক অথবা নৃশংস কায়দায় হত্যা ও জখমের ঘটনা হোক।

এই মানবাধিকার নেতা বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের সব শরণার্থী স্থাপনায় যাওয়া যায়নি, তাই এই পরিসংখ্যান ‘অপূর্ণাঙ্গ’ হতে পারে। তাছাড়া অনেক নিপীড়িত বা স্বজন হারানো পরিবারই মিয়ানমারের বাইরে তাদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

এই সংঘাতের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অভিযান শিথিল করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিশ্ববাসীর দাবির প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিও করে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু, আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা এখনও বাংলাদেশ অভিমুখে যাচ্ছে বলে এটিকে অনেক বেশি ‘তাড়াহুড়ো করে সম্পাদিত অপূর্ণাঙ্গ’ (প্রিম্যাচিউর) চুক্তি বলছে এমএসএফ।