ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুনোখুনি পছন্দ না আমার, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই: ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না: ইরান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’:মাহদী আমিন ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৪৪ নুরুল হক নুরের ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকের চেষ্টা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে : হুমায়ুন কবির প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনসিপি নেতাদের শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ না করার আহ্বান রিজভীর

সৌদি অবরোধের সম্ভাবনায় লেবাননের অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রতিবেশী কাতারের সঙ্গে যেমন করেছে তেমন অবরোধ লেবাননের ওপরও চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব, আশঙ্কা লেবাননের রাজনীতিক ও ব্যাঙ্কারদের। সৌদি আরবের দাবি না মানা পর্যন্ত ওই অর্থনৈতিক অবরোধ চলতে থাকবে বলেও মনে করছেন তারা।

বিশ্বের বৃহত্তম তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারী এবং মাত্র তিন লাখ জনসংখ্যার দেশ কাতারের বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ্ক রিজার্ভ থাকায় তারা ওই অবরোধের চাপ সামাল দিতে পারছে। কিন্তু লেবাননের প্রাকৃতিক সম্পদ বা নগদ অর্থ কোনটাই না থাকায় দেশটির লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে।

চার লাখেরও বেশি লেবাননি উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করছেন। তাদের পাঠানো বছরে সাত থেকে আট বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সই লেবাননের আয়ের প্রধান উৎস। অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ও সরকারি কার্যক্রম চালাতে এই আয়ের ওপরই নির্ভর করতে হয় ঋণে জর্জরিত দেশটিকে।

“ইতোমধ্যেই শোচনীয় হয়ে পড়া লেবাননের অর্থনীতির জন্য এটি একটি গুরুতর হুমকি। তারা যদি রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ বন্ধ করে দেয় তাহলে বিপর্যয় ঘটবে,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন লেবাননের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সৌদি আরবে অবস্থানকারী লেবাননের পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরির কাছ থেকেই নিষেধাজ্ঞার হুমকির বিষয়ে জানা গেছে। ৪ নভেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। সৌদি আরবের চাপেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করছেন লেবাননের রাজনৈতিক নেতারা।

সৌদি আরবের পুরনো মিত্র হারিরি রোববার সম্ভাব্য আরব নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নিজ দেশকে সতর্ক করেছেন। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাস করা লাখ লাখ লেবাননির জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে লেবাননকে সৌদি আরবের কী কী শর্ত মানতে হবে তাও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

এর মধ্যে প্রধান শর্তটি হল লেবাননের ইরান-সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে ইয়েমেনে। সৌদিদের চিন্তা-ভাবনা সম্পকে জ্ঞাত এক লেবাননি সূত্র রয়টার্সকে বলেছেন, “যদি বাস্তব আপোষরফায় না পৌঁছানো যায়, তাহলে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে তার একটি ইঙ্গিত দিয়েছে হারিরির সাক্ষাৎকার। কাতারের কৌশলই খাটানো হবে।”

হারিরির পদত্যাগ লেবাননকে সুন্নি সৌদি আরব ও শিয়া ইরানের বাড়তে থাকা শত্রুতার ঘূর্ণাবর্তে ফেলে দিয়েছে। বাদশা সালমানের ৩২ বছর বয়সী ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সৌদি নীতিতে লেবাননের সঙ্গে সংঘর্ষে না জড়ানোর সৌদি কৌশলও অতীত হয়ে গেছে। অপরদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিজবুল্লাহ উপরে উপরে কিছু ছাড় দিলেও চূড়ান্ত কোনো ছাড় দিবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুনোখুনি পছন্দ না আমার, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই: ট্রাম্প

সৌদি অবরোধের সম্ভাবনায় লেবাননের অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা

আপডেট সময় ০১:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রতিবেশী কাতারের সঙ্গে যেমন করেছে তেমন অবরোধ লেবাননের ওপরও চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব, আশঙ্কা লেবাননের রাজনীতিক ও ব্যাঙ্কারদের। সৌদি আরবের দাবি না মানা পর্যন্ত ওই অর্থনৈতিক অবরোধ চলতে থাকবে বলেও মনে করছেন তারা।

বিশ্বের বৃহত্তম তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারী এবং মাত্র তিন লাখ জনসংখ্যার দেশ কাতারের বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ্ক রিজার্ভ থাকায় তারা ওই অবরোধের চাপ সামাল দিতে পারছে। কিন্তু লেবাননের প্রাকৃতিক সম্পদ বা নগদ অর্থ কোনটাই না থাকায় দেশটির লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে।

চার লাখেরও বেশি লেবাননি উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করছেন। তাদের পাঠানো বছরে সাত থেকে আট বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সই লেবাননের আয়ের প্রধান উৎস। অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ও সরকারি কার্যক্রম চালাতে এই আয়ের ওপরই নির্ভর করতে হয় ঋণে জর্জরিত দেশটিকে।

“ইতোমধ্যেই শোচনীয় হয়ে পড়া লেবাননের অর্থনীতির জন্য এটি একটি গুরুতর হুমকি। তারা যদি রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ বন্ধ করে দেয় তাহলে বিপর্যয় ঘটবে,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন লেবাননের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সৌদি আরবে অবস্থানকারী লেবাননের পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরির কাছ থেকেই নিষেধাজ্ঞার হুমকির বিষয়ে জানা গেছে। ৪ নভেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। সৌদি আরবের চাপেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করছেন লেবাননের রাজনৈতিক নেতারা।

সৌদি আরবের পুরনো মিত্র হারিরি রোববার সম্ভাব্য আরব নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নিজ দেশকে সতর্ক করেছেন। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাস করা লাখ লাখ লেবাননির জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে লেবাননকে সৌদি আরবের কী কী শর্ত মানতে হবে তাও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

এর মধ্যে প্রধান শর্তটি হল লেবাননের ইরান-সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে ইয়েমেনে। সৌদিদের চিন্তা-ভাবনা সম্পকে জ্ঞাত এক লেবাননি সূত্র রয়টার্সকে বলেছেন, “যদি বাস্তব আপোষরফায় না পৌঁছানো যায়, তাহলে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে তার একটি ইঙ্গিত দিয়েছে হারিরির সাক্ষাৎকার। কাতারের কৌশলই খাটানো হবে।”

হারিরির পদত্যাগ লেবাননকে সুন্নি সৌদি আরব ও শিয়া ইরানের বাড়তে থাকা শত্রুতার ঘূর্ণাবর্তে ফেলে দিয়েছে। বাদশা সালমানের ৩২ বছর বয়সী ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সৌদি নীতিতে লেবাননের সঙ্গে সংঘর্ষে না জড়ানোর সৌদি কৌশলও অতীত হয়ে গেছে। অপরদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিজবুল্লাহ উপরে উপরে কিছু ছাড় দিলেও চূড়ান্ত কোনো ছাড় দিবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।