অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সর্বশেষ খড়্গটা পড়েছে সাবেক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের ঘাড়ে। বিন নায়েফ ও তাঁর বেশ কয়েকজন নিকটতম আত্মীয়ের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।
মোহাম্মদ বিন নায়েফের ব্যাংক হিসাব জব্দের খবর বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চাউর হয়। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরেও এর সত্যতা মেলে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিন নায়েফের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে। বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সউদ গত শনিবার তাঁর ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওপর দুর্নীতিবিরোধী কমিশনের দায়িত্ব দেন।
রাজ পরিবারের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় কয়েক ডজন লোককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন প্রিন্স, চার মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী রয়েছেন। ধরপাকড়ের পাশাপাশি এক হাজার ৭০০টির বেশি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। জব্দ হওয়া ব্যাংক হিসাবের তালিকায় বিন নায়েফের অ্যাকাউন্ট থাকার খবর গত বুধবার নিশ্চিত করেছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
যুবরাজ পদ থেকে বিন নায়েফকে গত জুনে সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁকে প্রথম জনসমক্ষে দেখা যায় গত মঙ্গলবার। ওই দিন তিনি প্রিন্স মনসুর বিন মুকরিনের শেষকৃত্যে যোগ দেন। প্রিন্স মুকরিন গত রবিবার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন, তবে দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়নি।
সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে যে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে, তাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। চলমান ধরপাকড়কে তারা ‘গণগ্রেপ্তার’ অ্যাখ্যা দিয়েছে।
গত বুধবার সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য অংশের পরিচালক সারাহ লিয়াহ হুইটসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মধ্যরাতে একই সঙ্গে নতুন একটা দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং দুর্নীতির অভিযোগে গণগ্রেপ্তার করায় যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সেটা হলো, সৌদি কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে এবং কোনো কারণ না দেখিয়ে এ গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে।’
সৌদি আরবের এ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে, এমন সন্দেহ প্রকাশ করে বিবৃতিতে এইচআরডাব্লিউ আরো বলে, ‘এগুলোকে সৌদি গণমাধ্যম মোহাম্মদ বিন সালমানের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করছে বটে, তবে এ রকম গণগ্রেপ্তার দেখে মনে হচ্ছে ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্পর্কটাই বেশি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















