ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

দিনে ৩০০ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার সরকার

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রতিদিন ৩০০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার সরকার। তবে এ প্রক্রিয়ায় ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত দুই দেশের মধ্যকার শরণার্থী প্রত্যাবাসন চুক্তির চারটি প্রধান মূলনীতির অধীনে শরণার্থীদের সুক্ষ্ম নিরীক্ষণের প্রয়োজন আছে বলে উল্লেখ করেছে মিয়ানমার।

মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিয়েন্ত কিয়াইং বলেন, ‘আমরা একটি সীমান্ত তল্লাশি চৌকিতে একদিনে ১৫০ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করতে পারি’। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তুংপিও লিতওয়ে ও এনগা খু ইয়া গ্রামের দুটি তল্লাশি চৌকির মাধ্যমে। পরে তাদের পুনর্বাসন করা হবে মংডু শহরের দার গি জার গ্রামে।

তবে দুই দেশের স্বাক্ষরিত ১৯৯৩ সালের শরণার্থী প্রত্যাবাসন চুক্তিতে সংশোধন চায় বাংলাদেশ; যাতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে পারেন। কিন্তু ইউ মিয়েন্ত কিয়াইং বলেন, প্রধান চার মূলনীতির পরিবর্তন হবে না।

চুক্তির প্রধান চার মূলনীতিতে বলা হয়েছে, ফিরতে হলে শরণার্থীদের প্রমাণ দেখাতে হবে যে তারা মিয়ানমারের বাসিন্দা, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছায়, যেসব শিশুর জন্ম শরণার্থী শিবিরে তাদের পিতা-মাতাকে অবশ্যই মিয়ানমারে বসবাস করতে হবে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শরণার্থীদের বাংলাদেশের আদালত থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে তা দেখাতে হবে।

তবে মিয়ানমারের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, এই চুক্তির অধীনে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলেও আরো অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে। এই পদক্ষেপের মধ্যে যারা ফিরে আসবে তাদের মধ্যে থেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। শরণার্থীদের ফেরাতে দুই দেশের মাঝে সমঝোতা স্মারক সইয়ের ব্যাপারে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আরাকানে ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। একমাসের জাতীয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে এ ভেরিফিকেশন কার্ড দিয়েছে দেশটি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি এবং একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যা ও নির্যাতনের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে শুরু হয় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্রোত। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৬ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

দিনে ৩০০ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার সরকার

আপডেট সময় ০৪:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রতিদিন ৩০০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার সরকার। তবে এ প্রক্রিয়ায় ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত দুই দেশের মধ্যকার শরণার্থী প্রত্যাবাসন চুক্তির চারটি প্রধান মূলনীতির অধীনে শরণার্থীদের সুক্ষ্ম নিরীক্ষণের প্রয়োজন আছে বলে উল্লেখ করেছে মিয়ানমার।

মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিয়েন্ত কিয়াইং বলেন, ‘আমরা একটি সীমান্ত তল্লাশি চৌকিতে একদিনে ১৫০ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করতে পারি’। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তুংপিও লিতওয়ে ও এনগা খু ইয়া গ্রামের দুটি তল্লাশি চৌকির মাধ্যমে। পরে তাদের পুনর্বাসন করা হবে মংডু শহরের দার গি জার গ্রামে।

তবে দুই দেশের স্বাক্ষরিত ১৯৯৩ সালের শরণার্থী প্রত্যাবাসন চুক্তিতে সংশোধন চায় বাংলাদেশ; যাতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে পারেন। কিন্তু ইউ মিয়েন্ত কিয়াইং বলেন, প্রধান চার মূলনীতির পরিবর্তন হবে না।

চুক্তির প্রধান চার মূলনীতিতে বলা হয়েছে, ফিরতে হলে শরণার্থীদের প্রমাণ দেখাতে হবে যে তারা মিয়ানমারের বাসিন্দা, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছায়, যেসব শিশুর জন্ম শরণার্থী শিবিরে তাদের পিতা-মাতাকে অবশ্যই মিয়ানমারে বসবাস করতে হবে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শরণার্থীদের বাংলাদেশের আদালত থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে তা দেখাতে হবে।

তবে মিয়ানমারের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, এই চুক্তির অধীনে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলেও আরো অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে। এই পদক্ষেপের মধ্যে যারা ফিরে আসবে তাদের মধ্যে থেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। শরণার্থীদের ফেরাতে দুই দেশের মাঝে সমঝোতা স্মারক সইয়ের ব্যাপারে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আরাকানে ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। একমাসের জাতীয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে এ ভেরিফিকেশন কার্ড দিয়েছে দেশটি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি এবং একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যা ও নির্যাতনের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে শুরু হয় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্রোত। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৬ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।