ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

৭৭৭০০০ টন টাইটানিয়াম বর্জ্য ফেলা হবে প্রশান্ত মহাসাগরে

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক স্থাপনা বিপর্যয়ে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ফেলা হবে সমুদ্রে। এ জন্য বেছে নেয়া হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরকে। নিউক্লিয়ার রেজুলেশন অথরিটির চেয়ারম্যান শুনিচি তানাকা বলেছেন, এ বর্জ্য মানুষের জন্য খুব কমই ক্ষতিকর। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে ওই বর্জ্যে রয়েছে টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ পানি। টাইটানিয়াম হলো হাইড্রোজেনের একটি আইসোটোপ। এটি তেজষ্ক্রিয়।

এমন টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ পানি রয়েছে জাপানের কাছে প্রায় ৫৮০ ব্যারেল। এসব পানি পারমাণবিক স্থাপনার চুল্লিকে ঠান্ডা করতে ব্যবহৃত হতো। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক স্থাপনায় বিপর্যয় ঘটে। তখন থেকেই স্থানীয় অধিবাসীরা এ থেকে নির্গত তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখন সেই বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সমুদ্রে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির (টেপকো) চেয়ারম্যান তাকাশি কাওয়ামুরা বলেছেন, এসব বর্জ্য ওই সমুদ্রে ফেলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে পরিমাণ টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ বর্জ্য ফেলা হবে তার পরিমাণ ৭ লাখ ৭৭ হাজার টন। এর প্রতিক্রিয়া বা পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে এরই মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও জাপান সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় নি বলে বলেছেন কাওয়ামুরা।

তিনি বলেছেন, সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে টেপকো। জাপান টাইমসকে তিনি বলেছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া আমরা এ কাজটি করতে পারি না। সমুদ্রে এই পানি ফেলা সমর্থন করেন নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটির চেয়ারম্যান শুনিচি তানাকা। তবে সমুদ্রে এই পানি ফেলার বিরোধী স্থানীয় জেলেরা। তারা বলছেন, এর ফলে তাদের জীবন জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয় জেলেদের সমিতির প্রধান কানজি তাচিয়া। তিনি বলেন, সমুদ্রে এই বর্জ্য ফেলা হলে তাতে নানা রকম গুজব ছড়িয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, টাইটানিয়াম মানুষের জন্য কম ক্ষতিকর। তবে উচ্চ মাত্রায় তা প্রয়োগ করা হলে তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। শুনিচি তানাকা বলেন, এই রাসায়নিক পদার্থটি এতটাই দুর্বল যে এর থেকে যে তেজষ্ক্রিয়তা নির্গত হয় তা একটি প্লাস্টিককে ভেদ করতে পারে না।

তবে ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের সমুদ্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিমন বক্সল বলেন, ব্যাপক হারে এই পদার্থ যদি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলা হয় তাহলে তা থেকে সমুদ্র তলদেশে প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে পরিবেশ কর্মীদের আশঙ্কা এই মহাসাগরকে যদি টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ পানি ফেলার জন্য বেছে নেয়া হয় তাহলে সব সময়ই তাই করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

৭৭৭০০০ টন টাইটানিয়াম বর্জ্য ফেলা হবে প্রশান্ত মহাসাগরে

আপডেট সময় ০৪:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক স্থাপনা বিপর্যয়ে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ফেলা হবে সমুদ্রে। এ জন্য বেছে নেয়া হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরকে। নিউক্লিয়ার রেজুলেশন অথরিটির চেয়ারম্যান শুনিচি তানাকা বলেছেন, এ বর্জ্য মানুষের জন্য খুব কমই ক্ষতিকর। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে ওই বর্জ্যে রয়েছে টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ পানি। টাইটানিয়াম হলো হাইড্রোজেনের একটি আইসোটোপ। এটি তেজষ্ক্রিয়।

এমন টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ পানি রয়েছে জাপানের কাছে প্রায় ৫৮০ ব্যারেল। এসব পানি পারমাণবিক স্থাপনার চুল্লিকে ঠান্ডা করতে ব্যবহৃত হতো। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক স্থাপনায় বিপর্যয় ঘটে। তখন থেকেই স্থানীয় অধিবাসীরা এ থেকে নির্গত তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখন সেই বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সমুদ্রে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির (টেপকো) চেয়ারম্যান তাকাশি কাওয়ামুরা বলেছেন, এসব বর্জ্য ওই সমুদ্রে ফেলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে পরিমাণ টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ বর্জ্য ফেলা হবে তার পরিমাণ ৭ লাখ ৭৭ হাজার টন। এর প্রতিক্রিয়া বা পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে এরই মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও জাপান সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় নি বলে বলেছেন কাওয়ামুরা।

তিনি বলেছেন, সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে টেপকো। জাপান টাইমসকে তিনি বলেছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া আমরা এ কাজটি করতে পারি না। সমুদ্রে এই পানি ফেলা সমর্থন করেন নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটির চেয়ারম্যান শুনিচি তানাকা। তবে সমুদ্রে এই পানি ফেলার বিরোধী স্থানীয় জেলেরা। তারা বলছেন, এর ফলে তাদের জীবন জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয় জেলেদের সমিতির প্রধান কানজি তাচিয়া। তিনি বলেন, সমুদ্রে এই বর্জ্য ফেলা হলে তাতে নানা রকম গুজব ছড়িয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, টাইটানিয়াম মানুষের জন্য কম ক্ষতিকর। তবে উচ্চ মাত্রায় তা প্রয়োগ করা হলে তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। শুনিচি তানাকা বলেন, এই রাসায়নিক পদার্থটি এতটাই দুর্বল যে এর থেকে যে তেজষ্ক্রিয়তা নির্গত হয় তা একটি প্লাস্টিককে ভেদ করতে পারে না।

তবে ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের সমুদ্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিমন বক্সল বলেন, ব্যাপক হারে এই পদার্থ যদি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলা হয় তাহলে তা থেকে সমুদ্র তলদেশে প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে পরিবেশ কর্মীদের আশঙ্কা এই মহাসাগরকে যদি টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ পানি ফেলার জন্য বেছে নেয়া হয় তাহলে সব সময়ই তাই করা হবে।