ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না: ট্রাম্প একাদশ শ্রেণিতে ৬ হাজার টাকা ভর্তি সহায়তা পাবেন যেসব শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামে শপিং কমপ্লেক্সে আগুন ইসরাইলি হামলায় বাংলাদেশি নারীর মৃত্যুতে নিন্দা আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান

ভূয়া নামে নিবন্ধন, বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার গ্রেফতার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহের ভালুকার বনবিভাগের প্রায় ১০ একর সম্পত্তি ভূয়া দাতা সাজিয়ে তা ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত (রেজিষ্ট্রি) করার অভিযোগের মামলায় বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার ফজলার রহমানকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের জেলা রেজিস্ট্রিারের কার্যালয় থেকে কর্মকর্তা ফজলার রহমানকে গ্রেফতার করে। তাকে আদালতের মাধ্যমে সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রোববার দুদকের ময়মনসিংহ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে ভালুকা থানায় জেলা রেজিস্ট্রার ফজলার রহমান, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, এনটিভি ও রোজা এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা করেন। এই মামলাগুলোর মধ্যে জেলা রেজিস্ট্রার ফজলার রহমান ও মোসাদ্দেক আলী ফালু প্রত্যেক মামলার আসামি। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় জমির ভূয়া মালিক, দলিল লেখক ও সনাক্তকারীরা।

মামলার বরাত দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মহাতাব উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, ২০১৩ সালে ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ফজলার রহমান জেলার ভালুকা উপজেলার বন বিভাগের মালিকানাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নয় দশমিক ৬৪ একর জমির ভূয়া জমিদাতা, সনাক্তকারী ও দলিল লেখক সাজিয়ে মোসাদ্দেক আলী ফালুর কাছে ছয়টি দলিলমূলে এক কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রি) করে দেন।

মোসাদ্দেক আলী ফালু এই জমিটি তার রোজা এগ্রো লিমিটেডের নামে কিনেছেন। জেলা রেজিস্ট্রার এই কাজে তিনি স্থানীয় জমির ভূয়া মালিক, দলিল লেখক ও সনাক্তকারী হিসেবে মোট ১১ ব্যক্তিকে রেখেছেন। তিনি বন বিভাগের সরকারি জমি মোসাদ্দেক আলী ফালুর নামে নিবন্ধন দেয়ায় তা খতিয়ে দেখতে দুদক তদন্তে নামে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে জেলা রেজিস্ট্রার ফজলার রহমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করতে অনুমতি চাওয়া হয়। আটককৃত ফজলার রহমান ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফুচিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে।

গত বৃহস্পতিবার কমিশন মামলা করার অনুমতি দিলে ৪০৯/ ৪২০/ ৪৬৭/৪৬৮ ও ৪৭১ দণ্ডবিধির দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ সালের ৫/২ ধারায় বাদী ভালুকা থানায় পৃথক ছয়টি মামলা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি ফজলার রহমান বর্তমানে বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ফজলার রহমানও প্রত্যেকটি মামলার আসামি।

তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের দায়ের করা মামলায় বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার ফজলার রহমানকে তার কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে দুদকের অভিযান চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

স্কুলছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, একজন গ্রেফতার

ভূয়া নামে নিবন্ধন, বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার গ্রেফতার

আপডেট সময় ১২:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহের ভালুকার বনবিভাগের প্রায় ১০ একর সম্পত্তি ভূয়া দাতা সাজিয়ে তা ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত (রেজিষ্ট্রি) করার অভিযোগের মামলায় বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার ফজলার রহমানকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের জেলা রেজিস্ট্রিারের কার্যালয় থেকে কর্মকর্তা ফজলার রহমানকে গ্রেফতার করে। তাকে আদালতের মাধ্যমে সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রোববার দুদকের ময়মনসিংহ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে ভালুকা থানায় জেলা রেজিস্ট্রার ফজলার রহমান, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, এনটিভি ও রোজা এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা করেন। এই মামলাগুলোর মধ্যে জেলা রেজিস্ট্রার ফজলার রহমান ও মোসাদ্দেক আলী ফালু প্রত্যেক মামলার আসামি। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় জমির ভূয়া মালিক, দলিল লেখক ও সনাক্তকারীরা।

মামলার বরাত দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মহাতাব উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, ২০১৩ সালে ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ফজলার রহমান জেলার ভালুকা উপজেলার বন বিভাগের মালিকানাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নয় দশমিক ৬৪ একর জমির ভূয়া জমিদাতা, সনাক্তকারী ও দলিল লেখক সাজিয়ে মোসাদ্দেক আলী ফালুর কাছে ছয়টি দলিলমূলে এক কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রি) করে দেন।

মোসাদ্দেক আলী ফালু এই জমিটি তার রোজা এগ্রো লিমিটেডের নামে কিনেছেন। জেলা রেজিস্ট্রার এই কাজে তিনি স্থানীয় জমির ভূয়া মালিক, দলিল লেখক ও সনাক্তকারী হিসেবে মোট ১১ ব্যক্তিকে রেখেছেন। তিনি বন বিভাগের সরকারি জমি মোসাদ্দেক আলী ফালুর নামে নিবন্ধন দেয়ায় তা খতিয়ে দেখতে দুদক তদন্তে নামে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে জেলা রেজিস্ট্রার ফজলার রহমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করতে অনুমতি চাওয়া হয়। আটককৃত ফজলার রহমান ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফুচিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে।

গত বৃহস্পতিবার কমিশন মামলা করার অনুমতি দিলে ৪০৯/ ৪২০/ ৪৬৭/৪৬৮ ও ৪৭১ দণ্ডবিধির দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ সালের ৫/২ ধারায় বাদী ভালুকা থানায় পৃথক ছয়টি মামলা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি ফজলার রহমান বর্তমানে বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ফজলার রহমানও প্রত্যেকটি মামলার আসামি।

তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের দায়ের করা মামলায় বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার ফজলার রহমানকে তার কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে দুদকের অভিযান চলছে।