ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: আরাগচি বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী টাইগারদের হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো অস্ট্রেলিয়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল সীমান্তে ‘পুশইন’ এর প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা দলের মানববন্ধন টিন কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত যুবক আটক ডাচদের হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশের মেয়েরা না.গঞ্জে মাদককারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলি, ৫ পুলিশ আহত গণমাধ্যম খাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার তিন মাস পরপর বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রকাশের দাবি গণসংহতি আন্দোলনের

কুঁড়েঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা, মাদক ব্যবসায়ীর ‌‌বিলাসবহুল জীবনযাপন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাইরে থেকে দেখলে বুঝার উপায় নেই। মনে হবে সাধারণ একটি ঝুপড়ি ঘর। তবে ভেতরে প্রবেশ করলেই মিলবে ভিন্ন চিত্র। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা একটি কুঁড়েঘরেই চলছে কথিত রাজকীয় জীবনযাপন। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে বিলাসবহুল এয়ারকন্ডিশনার (এসি) ও পুরো আস্তানাজুড়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আস্তানার মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, একসময় আওয়ামী লীগের নেতাদের সহযোগিতায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয়ে তিনি সেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে চাটখিল থানা পুলিশ কয়েক দফায় তাকে ইয়াবাসহ আটক করে আদালতে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আস্তানার চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের মাধ্যমে বেদে পল্লী থেকে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হওয়ায় চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি কে হানিফ বলেন, একজন মাদক কারবারির কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় মানুষ সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিতি টের পেলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবেঁধে বের হয়ে আসে। ববিতার এত ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করা দরকার। যারা তাকে পেছন থেকে সহযোগিতা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ববিতা আক্তার সুমাইয়ার মুঠোফোনে কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ওই নারী মাদক কারবারি। তাকে কতবার ধরে চালান দিলাম। এখন সড়ক জনপথ বিভাগের একটি জায়গা টার্গেট ছিল। সেটা না পেরে এখন নাকি নতুন করে ঘর দরজা উঠাচ্ছে। আমি আসার পর তার বিরুদ্ধে দুটি মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা ছিল। কিছু দিন আগেও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুঁড়েঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা, মাদক ব্যবসায়ীর ‌‌বিলাসবহুল জীবনযাপন

আপডেট সময় ০৪:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাইরে থেকে দেখলে বুঝার উপায় নেই। মনে হবে সাধারণ একটি ঝুপড়ি ঘর। তবে ভেতরে প্রবেশ করলেই মিলবে ভিন্ন চিত্র। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা একটি কুঁড়েঘরেই চলছে কথিত রাজকীয় জীবনযাপন। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে বিলাসবহুল এয়ারকন্ডিশনার (এসি) ও পুরো আস্তানাজুড়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আস্তানার মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, একসময় আওয়ামী লীগের নেতাদের সহযোগিতায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয়ে তিনি সেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে চাটখিল থানা পুলিশ কয়েক দফায় তাকে ইয়াবাসহ আটক করে আদালতে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আস্তানার চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের মাধ্যমে বেদে পল্লী থেকে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হওয়ায় চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি কে হানিফ বলেন, একজন মাদক কারবারির কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় মানুষ সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিতি টের পেলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবেঁধে বের হয়ে আসে। ববিতার এত ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করা দরকার। যারা তাকে পেছন থেকে সহযোগিতা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ববিতা আক্তার সুমাইয়ার মুঠোফোনে কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ওই নারী মাদক কারবারি। তাকে কতবার ধরে চালান দিলাম। এখন সড়ক জনপথ বিভাগের একটি জায়গা টার্গেট ছিল। সেটা না পেরে এখন নাকি নতুন করে ঘর দরজা উঠাচ্ছে। আমি আসার পর তার বিরুদ্ধে দুটি মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা ছিল। কিছু দিন আগেও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।