আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
ভারত, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার মত শক্তিশালী দলও যে দেশে গিয়ে সুবিধা করতে পারে না। খাবি খায়, সিরিজ হেরে আসে। সেখানে বাংলাদেশ গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কোন ফরম্যাটে সিরিজ জিতে আসবে, এমন আশা করেননি কেউ। তাই বলে প্রোটিয়াদের সাথে একদম পাত্তাই পাবে না টাইগাররা, নাস্তানাবুদ হবে, এতটা ভাবেননি অতি বড় সমালোচকও।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে একটু আশার আলো জ্বললেও তা নিভে গেছে দপ করে। পারফরমেন্সের গ্রাফ নামতে নামতে একদম তলানিতে ঠেকেছে। শেষ পর্যন্ত টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি, তিন ফরম্যাটেই চরম ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েই দেশে ফিরে আসছে জাতীয় ক্রিকেট দল।
এ সিরিজকে অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করেছেন। কেউ বলছেন, ‘টেস্ট ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটে হোয়াইটওয়াশের হ্যাটট্রিক! আবার কারো মুখে, এটা দুঃস্বপ্নের এক সফর’। প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ শেষ কবে এত বেশি খারাপ খেলে চরমভাবে পর্যদুস্ত, মানে তিন ফরম্যাটে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরেছে?
অনেকেরই ধারনা নিকট অতীত বা গত তিন-চার বছরে বাংলাদেশ কোথাও খেলতে গিয়ে এতটা খারাপ খেলেনি এবং এমন করুণ পরিণতিও হয়নি। আসলে কি তাই? ইতিহাস কিন্তু তা জানাচ্ছে না। বলছে উল্টো কথা।
পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে বাংলাদেশ গত তিন বছরে এ নিয়ে দেশের বাইরে চারবার টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ (ভারতের সাথে এ বছর হায়দরাবাদে হওয়া একমাত্র টেস্ট ম্যাচ বাদে) খেলতে দেশের বাইরে গেছে। এর মধ্যে এশিয়ার বাইরে যে তিনবার খেলতে গেছে প্রতিবারই এমন করুন পরিণতিই বরণ করতে হয়েছে। প্রতিবার টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে চরমভাবে পর্যদুস্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে ফিরে এসেছে। শুধু এ বছর মার্চ-এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় দুই ম্যাচে টেস্ট, তিন ম্যাচের ওয়ানডে আর দুই ম্যাচে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ড্র হয়েছে।
আসুন পরিসংখ্যানের আয়নায় দেখি সেই খারাপ খেলা সিরিজগুলো; ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ফরম্যাটের পূর্ণ সিরিজ দিয়ে শুরু, মাঝে ২০১৬-২০১৭ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড আর এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফর- তিন সিরিজে তিন ফরম্যাট মিলে ছয় টেস্ট, নয় ওয়ানডে আর ছয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের একটি ম্যাচ ছাড়া (সেটা ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত) সব ক’টিতে হেরেছে বাংলাদেশ।
২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১০ উইকেট ও ২৯৬ রানে হার। ২-০‘তে হোয়াইটওয়াশ। তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডেতে ধবলধোলাই (৩ উইকেট, ১৭৭ রান ও ৯১ রানে হার)। এক মাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ।
এরপর গত ২০১৬ সালের ডিসেম্বর আর ২০১৭ জানুারিতে নিউজিল্যান্ড সফরেও একই অবস্থা। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে (প্রথম টেস্টে ৭ উইকেটে আর পরের টেস্টে ৮ উইকেটে হার) পর্যদুস্ত। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে (৭৭ রান, ৬৭ রান ও ৮ উইকেটে হার)। আর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও (৬ উইকেট, ৪৭ রান ও ২৭ রানে হার) চরম ভরাডুবি ।
এবার দক্ষিণ আফ্রিকায়ও সেই খারাপ অবস্থা। না পারার বৃত্তে আটকে থাকা। দুই টেস্টের (৩৩৩ রান এবং ইনিংস ও ২৫৪ রানে পরাজয়) সিরিজে করুণ পরিণতি। ওয়ানডেতে (১০ উইকেট, ১০৪ ও ২০০ রান) এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজেও (২০ রান ও ৮৩ রানের হার) ব্যর্থতার ঘানি শুধু লম্বাই হয়েছে।
কেউ কেউ হয়ত বলবেন, কেন বাংলাদেশ কী এ সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারফাইনাল খেলেনি? ইংল্যান্ডের মত পরাশক্তিকে হারায়নি? নিউজিল্যান্ডের ভীত কাঁপিয়ে দেয়নি? এই তো চার মাস আগে যুক্তরাজ্যে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবিস্মরনীয় লড়াইয়ে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠেনি? তাহলে এশিয়ার বাইরে পারে না, কি করে বলা হয়?
তাদের প্রশ্নর জবাব; সেটা একদিনের সীমিত ওভারের ফরম্যাট মানে ওয়ানডেতে; তাও কোনো দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে নয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সিরিজ হলে পারফরমমেন্স ও পরিণতি এমনই হতো। কারণ, একটাই; ওয়ানডে হয় শতভাগ ব্যাটিং সহায়ক পিচে। খুব ভাল খেলা। এবার হয়ত প্রশ্ন উঠবে , এবার দক্ষিণ আফ্রিকায়ও তো ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেটে খেলা হয়েছে। তাহলে কেন জিততে ভুলে যাওয়া?
জবাব একটাই, পূর্ণাঙ্গ সিরিজ আর একটি ওয়ানডে আসর এক নয়। পূর্ণাঙ্গ সিরিজে টেস্টের প্রভাব পরে ওয়ানডেতে। আর ওয়ানডের প্রভাব টি-টোয়েন্টিতে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে টেস্টে শোচনীয় পরাজয়ের পর সেই যে মনোবল ভেঙ্গেছে টাইগারদের, আর তা জোড়া লাগেনি। তাই জীর্ন-শীর্ন দশা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























