ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

এ কেমন নৃশংসতা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চার পা বেঁধে মলদ্বার (পায়ুপথ) ও মূত্রনালিতে বাঁশের লাঠি ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে একটি ঘোড়াকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাণীবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে গত শুক্রবার রাতে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে রাজবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ঘোড়ার মালিক একই ইউনিয়নের বৃচাত্রা গ্রামের ওমর আলী সেখ (৫৫)।

ঘোড়ার মালিক ওমর আলী জানান, তিনি ঘোড়ার গাড়ি ও রিকশাভ্যান চালিয়ে কোনো রকমে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ের সংসার চালান। তাঁর বসতবাড়ির সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমি ছাড়া কোনো স্থায়ী সম্পদ নেই, উপার্জনের প্রধান সম্পদ একটি ঘোড়া। ঘোড়াটি ৩৮ হাজার টাকায় এক বছর আগে কেনেন। ঘোড়া সাধারণত রাতে ঘুরে ঘুরে ঘাস খায়।

তাই প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বসতবাড়ির কাছে আটদাপুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে তাঁরসহ স্থানীয় দুই ব্যক্তির তিনটি ঘোড়া বেঁধে রাখা হয়। তাঁরটি স্ত্রী ঘোড়া। ওমর আলীর ছেলে হায়দার আলী সেখ জানান, শনিবার ভোরে ওই মাঠে তাঁদের ঘোড়াটিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেয়। তখনই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ঘোড়াটির চার পা একসঙ্গে বাঁধা এবং মলদ্বার ও মূত্রনালিতে বাঁশের লাঠি ঢুকিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করা।

স্থানীয়দের সহায়তায় ঘোড়াটির পায়ের বাঁধন এবং মলদ্বার ও মূত্রনালি থেকে লাঠি বের করে তিনি ঘোড়াটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে এর অনেক আগেই ঘোড়াটির মৃত্যু হয়েছে।

ওমর আলী সেখের আহাজারিরত স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, এই ঘোড়াই ছিল তাঁদের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন। প্রতি ধানের মৌসুমে তাঁরা এই ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে ১০ সলি (পাঁচ মণে এক সলি) ধান উপার্জন করেন। এতে তাঁদের সারা বছরের চালের চাহিদা পূরণ হয়। বছরের অন্য সময় এ ঘোড়ার গাড়িতে বিভিন্ন মালপত্র টানার টাকায় নানা খরচ মেটান। আগামী মৌসুমে তাঁদের ১০ সলি ধান আসার কথা ছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মৌসুম শুরু হবে। অথচ তাঁদের ঘোড়াটিকে কে বা কারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

হাজেরা বেগম আরো বলেন, তাঁদের কোনো শত্রু নেই। ঘোড়ার মতো একটা নিরীহ প্রাণীরই বা শত্রু থাকে কিভাবে? তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। যারা এই অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

আরেক ঘোড়ার মালিক হায়দার আলী জানান, তাঁরা এখন রাতে মাঠে ঘোড়া বাঁধতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের ঘোড়াও দুর্বৃত্তরা হত্যা করে কি না আশঙ্কা করছেন। বাণীবহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য মনসুর আলী খান বলেন, ‘মানুষ এমন নিষ্ঠুর হয় কিভাবে। একাধিক ব্যক্তি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু পাটোয়ারীর ধারণা, দুর্বৃত্তরা ঘোড়াটির চার পা বেঁধে প্রথমে যৌন নির্যাতন চালায়। পরে প্রমাণ মুছে ফেলতে ওইভাবে হত্যা করে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু বলেন, ‘ওমর আলী সেখ অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়েই তাঁর সংসার চলে। অথচ নৃশংসভাবে তাঁর ঘোড়াটিকে হত্যা করা হয়েছে। এমন জঘন্য কাজ যারা করেছে তাদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। ’

রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল জানান, ঘটনার তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। তদন্তের পর দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ কেমন নৃশংসতা

আপডেট সময় ১১:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চার পা বেঁধে মলদ্বার (পায়ুপথ) ও মূত্রনালিতে বাঁশের লাঠি ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে একটি ঘোড়াকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাণীবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে গত শুক্রবার রাতে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে রাজবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ঘোড়ার মালিক একই ইউনিয়নের বৃচাত্রা গ্রামের ওমর আলী সেখ (৫৫)।

ঘোড়ার মালিক ওমর আলী জানান, তিনি ঘোড়ার গাড়ি ও রিকশাভ্যান চালিয়ে কোনো রকমে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ের সংসার চালান। তাঁর বসতবাড়ির সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমি ছাড়া কোনো স্থায়ী সম্পদ নেই, উপার্জনের প্রধান সম্পদ একটি ঘোড়া। ঘোড়াটি ৩৮ হাজার টাকায় এক বছর আগে কেনেন। ঘোড়া সাধারণত রাতে ঘুরে ঘুরে ঘাস খায়।

তাই প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বসতবাড়ির কাছে আটদাপুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে তাঁরসহ স্থানীয় দুই ব্যক্তির তিনটি ঘোড়া বেঁধে রাখা হয়। তাঁরটি স্ত্রী ঘোড়া। ওমর আলীর ছেলে হায়দার আলী সেখ জানান, শনিবার ভোরে ওই মাঠে তাঁদের ঘোড়াটিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেয়। তখনই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ঘোড়াটির চার পা একসঙ্গে বাঁধা এবং মলদ্বার ও মূত্রনালিতে বাঁশের লাঠি ঢুকিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করা।

স্থানীয়দের সহায়তায় ঘোড়াটির পায়ের বাঁধন এবং মলদ্বার ও মূত্রনালি থেকে লাঠি বের করে তিনি ঘোড়াটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে এর অনেক আগেই ঘোড়াটির মৃত্যু হয়েছে।

ওমর আলী সেখের আহাজারিরত স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, এই ঘোড়াই ছিল তাঁদের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন। প্রতি ধানের মৌসুমে তাঁরা এই ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে ১০ সলি (পাঁচ মণে এক সলি) ধান উপার্জন করেন। এতে তাঁদের সারা বছরের চালের চাহিদা পূরণ হয়। বছরের অন্য সময় এ ঘোড়ার গাড়িতে বিভিন্ন মালপত্র টানার টাকায় নানা খরচ মেটান। আগামী মৌসুমে তাঁদের ১০ সলি ধান আসার কথা ছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মৌসুম শুরু হবে। অথচ তাঁদের ঘোড়াটিকে কে বা কারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

হাজেরা বেগম আরো বলেন, তাঁদের কোনো শত্রু নেই। ঘোড়ার মতো একটা নিরীহ প্রাণীরই বা শত্রু থাকে কিভাবে? তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। যারা এই অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

আরেক ঘোড়ার মালিক হায়দার আলী জানান, তাঁরা এখন রাতে মাঠে ঘোড়া বাঁধতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের ঘোড়াও দুর্বৃত্তরা হত্যা করে কি না আশঙ্কা করছেন। বাণীবহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য মনসুর আলী খান বলেন, ‘মানুষ এমন নিষ্ঠুর হয় কিভাবে। একাধিক ব্যক্তি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু পাটোয়ারীর ধারণা, দুর্বৃত্তরা ঘোড়াটির চার পা বেঁধে প্রথমে যৌন নির্যাতন চালায়। পরে প্রমাণ মুছে ফেলতে ওইভাবে হত্যা করে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু বলেন, ‘ওমর আলী সেখ অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়েই তাঁর সংসার চলে। অথচ নৃশংসভাবে তাঁর ঘোড়াটিকে হত্যা করা হয়েছে। এমন জঘন্য কাজ যারা করেছে তাদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। ’

রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল জানান, ঘটনার তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। তদন্তের পর দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।