ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

এ কেমন নৃশংসতা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চার পা বেঁধে মলদ্বার (পায়ুপথ) ও মূত্রনালিতে বাঁশের লাঠি ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে একটি ঘোড়াকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাণীবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে গত শুক্রবার রাতে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে রাজবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ঘোড়ার মালিক একই ইউনিয়নের বৃচাত্রা গ্রামের ওমর আলী সেখ (৫৫)।

ঘোড়ার মালিক ওমর আলী জানান, তিনি ঘোড়ার গাড়ি ও রিকশাভ্যান চালিয়ে কোনো রকমে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ের সংসার চালান। তাঁর বসতবাড়ির সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমি ছাড়া কোনো স্থায়ী সম্পদ নেই, উপার্জনের প্রধান সম্পদ একটি ঘোড়া। ঘোড়াটি ৩৮ হাজার টাকায় এক বছর আগে কেনেন। ঘোড়া সাধারণত রাতে ঘুরে ঘুরে ঘাস খায়।

তাই প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বসতবাড়ির কাছে আটদাপুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে তাঁরসহ স্থানীয় দুই ব্যক্তির তিনটি ঘোড়া বেঁধে রাখা হয়। তাঁরটি স্ত্রী ঘোড়া। ওমর আলীর ছেলে হায়দার আলী সেখ জানান, শনিবার ভোরে ওই মাঠে তাঁদের ঘোড়াটিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেয়। তখনই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ঘোড়াটির চার পা একসঙ্গে বাঁধা এবং মলদ্বার ও মূত্রনালিতে বাঁশের লাঠি ঢুকিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করা।

স্থানীয়দের সহায়তায় ঘোড়াটির পায়ের বাঁধন এবং মলদ্বার ও মূত্রনালি থেকে লাঠি বের করে তিনি ঘোড়াটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে এর অনেক আগেই ঘোড়াটির মৃত্যু হয়েছে।

ওমর আলী সেখের আহাজারিরত স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, এই ঘোড়াই ছিল তাঁদের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন। প্রতি ধানের মৌসুমে তাঁরা এই ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে ১০ সলি (পাঁচ মণে এক সলি) ধান উপার্জন করেন। এতে তাঁদের সারা বছরের চালের চাহিদা পূরণ হয়। বছরের অন্য সময় এ ঘোড়ার গাড়িতে বিভিন্ন মালপত্র টানার টাকায় নানা খরচ মেটান। আগামী মৌসুমে তাঁদের ১০ সলি ধান আসার কথা ছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মৌসুম শুরু হবে। অথচ তাঁদের ঘোড়াটিকে কে বা কারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

হাজেরা বেগম আরো বলেন, তাঁদের কোনো শত্রু নেই। ঘোড়ার মতো একটা নিরীহ প্রাণীরই বা শত্রু থাকে কিভাবে? তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। যারা এই অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

আরেক ঘোড়ার মালিক হায়দার আলী জানান, তাঁরা এখন রাতে মাঠে ঘোড়া বাঁধতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের ঘোড়াও দুর্বৃত্তরা হত্যা করে কি না আশঙ্কা করছেন। বাণীবহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য মনসুর আলী খান বলেন, ‘মানুষ এমন নিষ্ঠুর হয় কিভাবে। একাধিক ব্যক্তি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু পাটোয়ারীর ধারণা, দুর্বৃত্তরা ঘোড়াটির চার পা বেঁধে প্রথমে যৌন নির্যাতন চালায়। পরে প্রমাণ মুছে ফেলতে ওইভাবে হত্যা করে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু বলেন, ‘ওমর আলী সেখ অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়েই তাঁর সংসার চলে। অথচ নৃশংসভাবে তাঁর ঘোড়াটিকে হত্যা করা হয়েছে। এমন জঘন্য কাজ যারা করেছে তাদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। ’

রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল জানান, ঘটনার তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। তদন্তের পর দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

এ কেমন নৃশংসতা

আপডেট সময় ১১:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চার পা বেঁধে মলদ্বার (পায়ুপথ) ও মূত্রনালিতে বাঁশের লাঠি ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে একটি ঘোড়াকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাণীবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে গত শুক্রবার রাতে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে রাজবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ঘোড়ার মালিক একই ইউনিয়নের বৃচাত্রা গ্রামের ওমর আলী সেখ (৫৫)।

ঘোড়ার মালিক ওমর আলী জানান, তিনি ঘোড়ার গাড়ি ও রিকশাভ্যান চালিয়ে কোনো রকমে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ের সংসার চালান। তাঁর বসতবাড়ির সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমি ছাড়া কোনো স্থায়ী সম্পদ নেই, উপার্জনের প্রধান সম্পদ একটি ঘোড়া। ঘোড়াটি ৩৮ হাজার টাকায় এক বছর আগে কেনেন। ঘোড়া সাধারণত রাতে ঘুরে ঘুরে ঘাস খায়।

তাই প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বসতবাড়ির কাছে আটদাপুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে তাঁরসহ স্থানীয় দুই ব্যক্তির তিনটি ঘোড়া বেঁধে রাখা হয়। তাঁরটি স্ত্রী ঘোড়া। ওমর আলীর ছেলে হায়দার আলী সেখ জানান, শনিবার ভোরে ওই মাঠে তাঁদের ঘোড়াটিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেয়। তখনই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ঘোড়াটির চার পা একসঙ্গে বাঁধা এবং মলদ্বার ও মূত্রনালিতে বাঁশের লাঠি ঢুকিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করা।

স্থানীয়দের সহায়তায় ঘোড়াটির পায়ের বাঁধন এবং মলদ্বার ও মূত্রনালি থেকে লাঠি বের করে তিনি ঘোড়াটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে এর অনেক আগেই ঘোড়াটির মৃত্যু হয়েছে।

ওমর আলী সেখের আহাজারিরত স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, এই ঘোড়াই ছিল তাঁদের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন। প্রতি ধানের মৌসুমে তাঁরা এই ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে ১০ সলি (পাঁচ মণে এক সলি) ধান উপার্জন করেন। এতে তাঁদের সারা বছরের চালের চাহিদা পূরণ হয়। বছরের অন্য সময় এ ঘোড়ার গাড়িতে বিভিন্ন মালপত্র টানার টাকায় নানা খরচ মেটান। আগামী মৌসুমে তাঁদের ১০ সলি ধান আসার কথা ছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মৌসুম শুরু হবে। অথচ তাঁদের ঘোড়াটিকে কে বা কারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

হাজেরা বেগম আরো বলেন, তাঁদের কোনো শত্রু নেই। ঘোড়ার মতো একটা নিরীহ প্রাণীরই বা শত্রু থাকে কিভাবে? তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। যারা এই অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

আরেক ঘোড়ার মালিক হায়দার আলী জানান, তাঁরা এখন রাতে মাঠে ঘোড়া বাঁধতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের ঘোড়াও দুর্বৃত্তরা হত্যা করে কি না আশঙ্কা করছেন। বাণীবহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য মনসুর আলী খান বলেন, ‘মানুষ এমন নিষ্ঠুর হয় কিভাবে। একাধিক ব্যক্তি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু পাটোয়ারীর ধারণা, দুর্বৃত্তরা ঘোড়াটির চার পা বেঁধে প্রথমে যৌন নির্যাতন চালায়। পরে প্রমাণ মুছে ফেলতে ওইভাবে হত্যা করে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু বলেন, ‘ওমর আলী সেখ অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়েই তাঁর সংসার চলে। অথচ নৃশংসভাবে তাঁর ঘোড়াটিকে হত্যা করা হয়েছে। এমন জঘন্য কাজ যারা করেছে তাদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। ’

রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল জানান, ঘটনার তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। তদন্তের পর দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।