ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজ মামলায় আদালতে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য নরেশ ভাটের

আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নরেশ ভাট আদালতে এক চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২৮ বছর বয়সি স্ত্রী মমতা কাফলে ভাটের নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় পর তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি লাশটি টুকরো টুকরো করে গুম করেছিলেন। তবে আদালতের সামনে নরেশ দাবি করেন, মমতা আত্মহত্যা করেছিলেন। বিছানার পাশে বমি ও ওষুধের বোতল পড়ে থাকা অবস্থায় তিনি তাকে অচেতন পান বলে জানান। তার দাবি অনুযায়ী, মমতা প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট ও বিষাক্ত কীটনাশক সেবন করেছিলেন। ২৮ বছর বয়সি স্ত্রীকে হত্যা, লাশ বিকৃত করা ও গুম করার অভিযোগে নরেশ ভাটকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্ত্রী কখন ওপরে এসেছিলেন, তা তিনি টের পাননি।

২০২৪ সালের ২৯ জুলাই মমতাকে শেষবার একটি ভিডিও কলে দেখা গিয়েছিল। এরপরই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। আদালতে নরেশ জানান, ঘটনার রাতে তিনি তাদের ছোট সন্তানকে নিয়ে ঘুমাতে যান এবং পরে মমতাকে মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। তার দাবি, স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ব্যর্থ হয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

স্ত্রীকে উদ্ধার করার পর কেন জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল করেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে নরেশ বলেন, চরম আতঙ্কে তিনি কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি পুরোপুরি শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। এরপরই তিনি লাশ গুমের সিদ্ধান্ত নেন এবং ইলেকট্রিক করাত ব্যবহার করে সেটি টুকরো টুকরো করেন। পরবর্তীতে লাশের অংশগুলো বিভিন্ন প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়। তবে শেষ রক্ষা না হওয়ায় করাত দিয়ে লাশ কাটতে বাধ্য হন। আমি পুরোপুরি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।’।

নরেশ আরও জানান, লাশ গুম করার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ক্যাবল তারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গুছিয়ে এনেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের প্রাণ নেওয়া হয়নি।’ দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই স্বীকারোক্তি সামনে এল। মূলত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কর্মস্থলে না যাওয়ায় মমতার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

তদন্তকারী পুলিশ জানায়, প্রথমে নরেশ নিখোঁজের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে নিজেই নিখোঁজ ডায়েরি করেন। দম্পতির শোবার ঘর ও বাথরুমে রক্তের দাগ পাওয়ার পর ২২ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় চুল লেগে থাকা একটি ইলেকট্রিক করাত। আইনজীবীদের মতে, নরেশ এই ধরনের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সম্ভবত কঠোর শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে চাইছেন। তবে মমতার লাশের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি। আইনজীবীদের ধারণা, এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তিনি মূলত ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়ানোর কৌশল নিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সাল থেকে ভারতের বিমানে ভাড়া নির্ধারণের নতুন নিয়ম

ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজ মামলায় আদালতে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য নরেশ ভাটের

আপডেট সময় ০১:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নরেশ ভাট আদালতে এক চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২৮ বছর বয়সি স্ত্রী মমতা কাফলে ভাটের নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় পর তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি লাশটি টুকরো টুকরো করে গুম করেছিলেন। তবে আদালতের সামনে নরেশ দাবি করেন, মমতা আত্মহত্যা করেছিলেন। বিছানার পাশে বমি ও ওষুধের বোতল পড়ে থাকা অবস্থায় তিনি তাকে অচেতন পান বলে জানান। তার দাবি অনুযায়ী, মমতা প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট ও বিষাক্ত কীটনাশক সেবন করেছিলেন। ২৮ বছর বয়সি স্ত্রীকে হত্যা, লাশ বিকৃত করা ও গুম করার অভিযোগে নরেশ ভাটকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্ত্রী কখন ওপরে এসেছিলেন, তা তিনি টের পাননি।

২০২৪ সালের ২৯ জুলাই মমতাকে শেষবার একটি ভিডিও কলে দেখা গিয়েছিল। এরপরই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। আদালতে নরেশ জানান, ঘটনার রাতে তিনি তাদের ছোট সন্তানকে নিয়ে ঘুমাতে যান এবং পরে মমতাকে মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। তার দাবি, স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ব্যর্থ হয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

স্ত্রীকে উদ্ধার করার পর কেন জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল করেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে নরেশ বলেন, চরম আতঙ্কে তিনি কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি পুরোপুরি শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। এরপরই তিনি লাশ গুমের সিদ্ধান্ত নেন এবং ইলেকট্রিক করাত ব্যবহার করে সেটি টুকরো টুকরো করেন। পরবর্তীতে লাশের অংশগুলো বিভিন্ন প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়। তবে শেষ রক্ষা না হওয়ায় করাত দিয়ে লাশ কাটতে বাধ্য হন। আমি পুরোপুরি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।’।

নরেশ আরও জানান, লাশ গুম করার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ক্যাবল তারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গুছিয়ে এনেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের প্রাণ নেওয়া হয়নি।’ দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই স্বীকারোক্তি সামনে এল। মূলত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কর্মস্থলে না যাওয়ায় মমতার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

তদন্তকারী পুলিশ জানায়, প্রথমে নরেশ নিখোঁজের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে নিজেই নিখোঁজ ডায়েরি করেন। দম্পতির শোবার ঘর ও বাথরুমে রক্তের দাগ পাওয়ার পর ২২ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় চুল লেগে থাকা একটি ইলেকট্রিক করাত। আইনজীবীদের মতে, নরেশ এই ধরনের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সম্ভবত কঠোর শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে চাইছেন। তবে মমতার লাশের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি। আইনজীবীদের ধারণা, এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তিনি মূলত ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়ানোর কৌশল নিয়েছেন।