মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেবার মানোন্নয়ন এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম। বুধবার দুপুরে পরিচালিত এই তদারকি অভিযানে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে।
অভিযানের সময় ‘নিউ মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার-২’ পরিদর্শন করে সিভিল সার্জন সেখানে একাধিক অনিয়মের সত্যতা পান। প্রতিষ্ঠানটিকে এর আগে সতর্ক করা এবং জরিমানা করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং জেনারেল হাসপাতালের কিছু অসাধু চক্র রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত এই সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকালে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে ধরা পড়ে যে, কোনো নিবন্ধিত বা অনুমোদিত টেকনোলজিস্ট ছাড়াই সেখানে এক্স-রে কার্যক্রম চলছিল। ইতোপূর্বে নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও তা মানা হয়নি। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় সিভিল সার্জন তাৎক্ষণিকভাবে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বৈধ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এক্স-রে চালু করা যাবে না।
একই অভিযানে অন্য একটি ডেন্টাল চেম্বারে গিয়েও ভয়াবহ অনিয়ম নজরে আসে। সেখানে বিডিএস ডিগ্রিধারী বা নিবন্ধিত কোনো চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়াই একজন টেকনোলজিস্ট রোগীদের রুট ক্যানেলের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবার নামে এমন কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হওয়ায় ওই চেম্বারের কার্যক্রমও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যথাযথ নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























