চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে সাদিয়া আক্তার নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সাদিয়া ওই গ্রামের মতিয়ার রহমানের মেয়ে এবং স্থানীয় জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের আলতাব উদ্দিনের ছেলে সজীবের সঙ্গে সাদিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সজীব তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর ফলে সাদিয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে সাদিয়া আক্তার (১৬) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাদিয়ার বাবা মতিয়ার রহমানের দাবি, সাদিয়া বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে সজীব সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। একই সময়ে সাদিয়ার ওপর পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য জায়গায় বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। সব মিলিয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপে বিপর্যস্ত ছিল সে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরের দিকে পরিবারের অজান্তে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কারণেই সে এই পথ বেছে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রেমিক সজীব আত্মগোপন করেছে। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এদিকে প্রেমিক সজীব পলাতক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

















